আপডেট : ২ মার্চ, ২০১৬ ১৯:২১

ধর্মপাশায় পাওয়া গেলো গ্যাসের খনি

বিডিটাইমস ডেস্ক
ধর্মপাশায় পাওয়া গেলো গ্যাসের খনি

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে নির্মাণাধীন নলকূপের পাইপ দিয়ে দুই দিন ধরে বিকট শব্দে গ্যাস বের হচ্ছে। ফলে ওই গ্রামের লোকজন নাওয়া- খাওয়া ছেড়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

গ্রামের আতঙ্কিত অনেক পরিবারের লোকজনই ভয়ে গরু-বাছুর, ধান-চালসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে আশপাশ গ্রামের আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। এ খবর এলাকাবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকেই এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে এসে ভিড় জমাচ্ছেন।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, জয়পুর গ্রাম জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে নির্মাণাধীন একটি নলকূপের পাইপ দিয়ে বিকট শব্দে গ্যাস বের হচ্ছে। প্রায় ৫০ ফুট ওপর দিয়ে গ্যাসের সাথে কাদামাটি বের হয়ে আশপাশের গাছগাছালির ওপর তা পড়তে দেখা যায়। গ্রামবাসী জানান, সোমবার বিকেল থেকেই ওই পাইপ দিয়ে বিকট শব্দে গ্যাস বের হওয়ার সাথে সাথেই আগুন লেগে পুরো গ্রাম পুড়ে যাওয়ার ভয়ে মসজিদ থেকে মাইকিং করে চুলোয় আগুন ধরিয়ে রান্নাবান্না না করার জন্য গ্রামবাসীকে বারবার সতর্ক করা হয়। এর পর থেকেই গ্রামের অনেক পরিবার তাদের গরু-বাছুর, ধান, চালসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে আশপাশ গ্রামের আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন।
 

ওই নলকূপ নির্মাণকাজে নিয়োজিত হেড মিস্ত্রি নূরুল ইসলাম বলেন, ৪৫০ ফুট পাইপ বসিয়ে জয়পুর গ্রামের জামে মসজিদের নলকূপ বসানোর কাজটি আমরা সোমবার সকাল থেকেই শুরু করি। এর মধ্যে ওই দিন বিকেল সাড়ে ৫টায় সেখানে ১৭০ ফুট পাইপ পাইলিং করা মাত্রই নিচ থেকে গ্যাস চাপ দিতে থাকে। গ্যাসের চাপ বুঝতে পেরে প্রায় ২৫ ফুট পাইপ আমরা সেখান থেকে তুলতে সক্ষম হই। এর পর থেকেই ওই পাইপের মুখ দিয়ে বিকট শব্দে গ্যাসের সাথে কাদামাটি বের হতে শুরু করে।

জয়পুর জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি শাহজাহান মিয়া বলেন, নলকূপের পাইপ দিয়ে বিকট শব্দে কাদামাটিসহ গ্যাস বের হওয়ায় আমরা গ্রামবাসী খুব আতঙ্কে আছি এবং মসজিদের প্রায় ১০০ ফুট দূর থেকে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রেখেছি।

জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো: আকরাম হোসেন বলেন, এ ঘটনার পর থেকেই মাইকিং করে গ্রামবাসীকে সতর্ক করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক পরিবারের লোকজনেই জিনিসপত্র নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: নাজমুল হক বলেন, বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, এলাকাবাসীর কাছ থেকে মোবাইল ফোনে আমি বিষয়টি জেনে পেট্রোবাংলার সাথে কথা বলেছি। তারা শিগগিরই সেখানে এক্সপার্ট টিম পাঠাবে বলে আমাকে আশ্বস্ত করেছেন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

 

উপরে