আপডেট : ২ মার্চ, ২০১৬ ১৩:০৫

নবীনগরে ইউপি নির্বাচন, বড়াইলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ

আমিনুল ইসলাম, ব্রাক্ষণবাড়িয়া প্রতিনিধি
নবীনগরে ইউপি নির্বাচন, বড়াইলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ

সারাদেশের ন্যায় ২৩ শে এপ্রিল তৃতীয় ধাপে নবীনগরে ২১টি ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র কে ইউনিয়নগুলোতে চলছে উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রত্যেকটি চায়ের দোকানে শুধু একটিই আলাপ এবার প্রথম হচ্ছে দলীয়ভাবে নির্বাচন।এখন শান্তিমত ভোট দিতে পারলেই হয়। ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী এখন মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যান প্রার্থীদের পাশপাশি তালিকায় রয়েছেন একাধিক নতুন মুখ। বসে নেই বর্তমান চেয়ারম্যানরা নিজেদের স্ব-পদে বহাল রাখার জন্য প্রচার- প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় মনোনয়ন পেতে  আ’লীগ ও বিএনপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা এখন দৌড়ঝাপ শুরু করেছে।

তফসিল ঘোষণার পরপরই নির্বাচনী আমেজ ইউনিয়নগুলোতে রীতিমতো চায়ের টেবিলে ঝড় উঠেছে।দলীয় মনোনয়ন পেতে রাজনৈতিক নেতাদের দাড়ে দাড়ে দৌড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। দলীয় প্রতীক বানিয়ে নিতে পারলেই জয় নিশ্চিত এমনটি মনে করছেন অনেক প্রার্থী। এমনটি ভেবেই নৌকা অথবা ধানের শীষ প্রতীক পেতে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এতে খরচপত্র যা হয় তা দিতেও তারা প্রস্তুত।

গত পৌর নির্বাচনে জয় জয়কার দেখে এবার উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীও সংখ্যা বেড়ে গেছে। বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে জানা যায় যেহেতু দলীয়ভাবে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে,সেহেতু চেয়ারম্যান পদপার্থী কদর একটু বেশি।কেউ কাউকে ছাড় না নিয়ে নিজেদের অবস্থান বড় করতে চাইছে। আর সাধারণ জনগণের একটাই প্রত্যাশা যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট জয়যুক্ত করবো।

বড়াইল ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা আওয়ামী যুবলীগে সদস্য মোঃ জাকির হোসেন বলেন,আমি দীর্ঘ দিন যাবত দলের সাথে কাজ করে যাচ্ছি। আমার দীর্ঘ দিনের আশা যদি চেয়ারম্যান হতে পারি তাহলে বড়াইল ইউনিয়নকে একটি আধুনিক মডেল হিসেবে গড়ে তুলবো।তাছাড়াও দলের জন্য দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি এবং বিভিন্ন কর্মকান্ডে যে অবধান রেখেছি তা অতুলনীয়।তাছাড়াও যারা প্রার্থী হয়েছেন সবার চেয়ে ভালো অবস্থা আমার।

বর্তমান ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক বাবুল বলেন,পরপর দুইবার ইউপি নির্বাচনে আমি জয়লাব করি। জনগনের সমর্থন ও দোয়া থাকলে দল থেকে মনোনয়ন পাবার ব্যাপারে আমি আশাবাদি।ইতি পূর্বে আমি এলাকার বিভিন্ন উন্নয়মুলক কাজ করে গেছি।তাছাড়া আমার কিছু কাজ রয়ে গেছে যদি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে চেয়ারম্যান হতে তাহলে এ কাজগুলোকে প্রাধান্য নিয়ে সর্বপ্রথম কাজ করে যাব।

বর্তমান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাজমুল হক মোল্লা বলেন, গত নির্বাচনে আমি অংশগ্রহন করি কিন্তু স্থানীয় নেতাকর্মী ও দলের প্রতি সম্মান রেখে তা আবার প্রত্যাহার করি। এবার যেহেতু দলীয়ভাবে নির্বাচন হচ্ছে তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি নির্বাচন করার।তাই মনোনয়নের ব্যাপারে আমি আশাবাদি। তাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সোনার বাংলা গড়ে তুলতে আমি দৃঢ়প্রত্যয়।

বড়াইল ইউনিয়নের সাবেক বিএনপির সভাপতি ও চেয়ারম্যান আবুল বাশার নির্বাচনের মাঠে এখন হাঁটাহাটি লড়ায়ে নেমেছে। তরুণদের চেয়ে কোন অংশে কম নন তিনি।

বাশার বলেন, এবার যেহেতু দলীয়ভাবে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে সেহেতু আমি আশাবাদি দল থেকে আমাকে মনোনয়ন দেবে।এর আগে ও চেয়ারম্যান হিসেবে আমি কাজ করে গেছি।তাছাড়া এলাকার মানুষ বিশ্বাস করেন,আমাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করলে অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা পাবেন তারা।আর সে কারণেই এলাকার মানুষ আমার জন্য গনসংযোগ করে যাচ্ছে।

তরুণ নেতা বর্তমান ইউপির বিএনপির সভাপতি ও সাবেক যু্বদলের সভাপতি শাহ পরান বলেন, অর্থের প্রতি আমার কোন লোভ নেই উন্নয়নের জন্য আমি কাজ করে যাব। কারণ আমাদের এলাকাটি উন্নয়নের ছোয়া থেকে অনেকটা বঞ্চিত যে পরিমান উন্নয়ন হওয়া দরকার সেই পরিমান উন্নয়ন হয়নি। সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করা আমার একমাত্র লক্ষ।সমাজের উন্নয়নের জন্য সর্বপরি কাজ করে যাব। যদি চেয়ারম্যান হতে পারি তাহলে চেয়ারম্যান বাবত সম্মানটুকু গরিব দুস্টদের মাঝে বিলিয়ে দিব ইনশাআল্লাহ।

অন্যদিকে উপজেলা কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বড়াইল ইউপি সাবেক বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃআনোয়ার হোসেন (বাবুল) বলেন, বিএনপি প্রার্থী হয়ে দলের কাছ থেকে মনোনয়ন ফরম নিয়েছি।

বড়াইল ইউপি নির্বাচনে পিছিয়ে নেই মনোনয়ন নেওয়া তরুন নেতারা।সবার একটাই আশা মনোনয়ন পেলে পাশ নিশ্চিত।তাই গ্রামের মেঠোপথে ঘুরে বেড়িয়েছেন মানুষের মাঝে।ইউপি ছাএদলে সহ-সভাপতি মোঃজহিরুল ইসলাম খাঁন বলেন,যদি মনোনয়ন পেয়ে যদি চেয়ারম্যান হতে পারি তাহলে দলের আদর্শকে বজায় রেখে কাজ করে যাব এবং সাধারন জনগনের দাবিদাওয়া পুরন করার চেষ্টা করবো।

দল থেকে মনোনয়ন পেতে সবার স্বার্ধমত চেষ্টা ও প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে।সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে তরুনরা পর্যন্ত মনোনয়ন পেতে এখন মাড়িয়া হয়ে উঠেছে।তেমনি চেষ্টার কোন অংশে কম নেই বড়াইল ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম এস,এম,ইব্রাহিম খলিলের সুযোগ্য ভাতিজা মোঃজসিম উদ্দীন।উপজেলা বি,এন,পির মৎস্য ও পশুবিষয়ক সম্পাদক তিনি।বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত তাছাড়াও আব্দুল রাজ্জার একাডেমির পরপর দুই বার পরিচালনা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য তিনি।জসীম উদ্দীন জানান,চাচার আদর্শকে অনুসরন করে আমার প্রথম পদচারনা শুরু হবে।যদি দল থেকে মনোনয়ন পেয়ে যদি জনগনের ভোটে নির্বাচিত হতে পারি।তাহলে এলাকার সর্বপরি উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাব।তার জন্য সকলের দোয়া ও সমর্থন চাই।

 

উল্লেখ্য নবীনগরে দ্বিতীয় ধাপে ১১ টি ইউনিয়নে ৩১ শে মার্চ ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে