আপডেট : ১ মার্চ, ২০১৬ ২১:০৭
সরকারি বিএম কলেজ

পাঠ্যবই শুন্য গ্রন্থাগার, অর্ধকোটি টাকার হদিস নেই

বিডিটাইমস ডেস্ক

পাঠ্যবই শুন্য গ্রন্থাগার, অর্ধকোটি টাকার হদিস নেই

বরিশাল প্রতিনিধি

এক হাজার স্কয়ার ফুট একটি কক্ষের মধ্যে চারটি বুকসেল্ফ। এরমধ্যে দুইটি অনেকটা শূন্য। বাকি দুইটিতে রয়েছে অন্তত দুইযুগের পুরোনো কিছু বই। তার ওপর এমনভাবে ময়লা জমেছে দেখে মনে হয় দীর্ঘদিন কেউ তা  ছুয়েও দেখেনি। কক্ষের মধ্যে থাকা ধূলোময়লা জমানো চেয়ারগুলো শুন্য পরে রয়েছে। আর প্রবেশদ্বারে একটি চেয়ারে বসে থাকা বুক রাইডারকে নিরবে ঝিমুতে দেখে মনে হচ্ছিলো ভুতুরে কক্ষের ঘুমন্ত পাহারাদার।

এই হলো বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের বর্তমান অবস্থা। মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে এমন অবস্থাই চোখে পরে। অথচ প্রতি বছর এ গ্রন্থাগারের জন্য সোয়া ৬ লক্ষ টাকা আদায় করা হয় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে।

কিন্তু গত এক যুগেও কোন নতুন বই ক্রয় করা হয়নি বিএম কলেজের এ গ্রন্থাগারের জন্য। তবে কিছু বই এ গ্রন্থাগারে আনা হয়েছে গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ ও ইতিহাস নিয়ে লেখা। ওই সব বইয়ের সবগুলোই দানকৃত। আর পাঠ্যবই না থাকায় কোন শিক্ষার্থী এ গ্রন্থাগারের কাছেও ঘেষেনা। তাই ঐতিহ্যবাহী এ কলেজটিতে নামমাত্র বিশালাকার এক গ্রন্থাগার থাকলেও নেই তার কোন প্রাণ।

সরকারি বিএম কলেজের হিসাব শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, কলেজের গ্রন্থাগারের জন্য অনার্সে ভর্তিও সময় একজন শিক্ষার্থীকে ২৫ টাকা দিতে হয়। এরপর তিনটি সেশন চার্জের সঙ্গে গ্রন্থাগারের জন্য আরো ৭৫ টাকা দিতে হয়। অর্থাৎ অনার্স এর চার বছওে একজন শিক্ষার্থীকে গ্রন্থাগাওে ১০০ টাকা দিতে হয়। আর মাস্টার্স নিয়মিত একজন শিক্ষার্থীকে বছরে এ খাতে ২৫ টাকা এবং মাস্টার্স প্লিমিনারির একজন শিক্ষার্থীকে বছরে ২৫ টাকা দিতে হয়।

কলেজ প্রশাসনের দেয়া তথ্যানুসারে অনার্স এ বিএম কলেজে প্রতিবছর সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। আর প্রতিবছর প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় বর্ষ, তৃতীয় বর্ষ এবং চতুর্থ বর্ষে সবমিলিয়ে ১৬ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়। যারা প্রত্যেক পরীক্ষার পূর্বে ফরম পুরনের সাথে সেশন ফি দেয়। যেখানে গ্রন্থাগারের ২৫ টাকা সংযুক্ত থাকে।  আর ওই ১৬ হাজার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে ৪ লক্ষ টাকা গ্রন্থাগার বাবদ আদায় করা হয়।

অপরদিকে মাস্টার্স নিয়মিত ও প্রিভিয়াস মাস্টার্সে মোট ৯ হাজার শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের কাছ থেকে ২৫ টাকা কওে বছওে ২ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা আদায় করা করা হয় গ্রন্থাগারের জন্য। সবমিলিয়ে বছরে গ্রন্থাগারের জন্য বিএম কলেজ প্রশাসন সোয়া ৬ লক্ষ টাকা আদায় করে।

কিন্তু গত ১০ বছওে কোন বই ক্রয় করা হয়নি। তবে আদায়কৃত অর্ধকোটি টাকারও কোন হদিস নেই। হিসাব শাখাও বলতে পারছে না ওই অর্থ কোথায় আছে।

সরকারি বিএম কলেজের ইংরেজী বিভাগের মাস্টার্স শেষ পর্বের ছাত্র ওবায়দুর রহমান বলেন, কলেজের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে কোন পাঠ্য বই নেই। যে কয়টি বই রয়েছে তা প্রবন্ধ বা গল্পের। সেগুলোও আবার বহু বছরের পুরানো। ওই বইগুলোর অবস্থাও এমন তা পড়াতো দুরের কথা ধরতে গেলেই শেষ হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে সরকারি বিএম কলেজ উপাধ্যাক্ষ অধ্যাপক কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, বই ক্রয় করা হয়। তবে গ্রন্থাগারে ওই বই থাকে না। কারণ শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারে বেশী আসেনা। তাই বই ক্রয় করে বিভাগে পাঠানো হয়। আর গ্রন্থাগারে পুরানো বই থাকে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে 

উপরে