আপডেট : ১ মার্চ, ২০১৬ ০০:২৪

কাফনের কাপড় পড়ানোর সময় প্রসূতি বললো ‘আমি মরি নাই’

বিডিটাইমস ডেস্ক
কাফনের কাপড় পড়ানোর সময় প্রসূতি বললো ‘আমি মরি নাই’

মাইকিং করে মৃত্যুর সংবাদ প্রচার করাসহ কবর খোড়াও শেষ। জানাযার জন্য দলে দলে মানুষ আসছে বাড়িতে। ১৩ দিনের শিশু সন্তানকে রেখে মায়ের এমন করুণ মৃত্যুতে শোকে স্তব্দ পরিবারের লোকজন। প্রতিবেশীরা এসেছেন সান্তনা জানাতে। এরই মধ্যে গোসল শেষ করে কাফনের কাপড় পড়ানো হবে। ঠিক সেই মুহূর্তেই নড়ে উঠলেন প্রসূতি জহুরা বেগম (৩৫)।
২৮ ফেব্রুয়ারি রবিবার নজির বিহীন এ ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ সংলগ্ন জনবিচ্ছিন্ন দুর্গম দইখাওয়া চরে প্রসুতির বাবার বাড়িতে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে জহুরা বেগম বর্তমানে কিছুটা সুস্থ। তাঁকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দইখাওয়া চরের ইউপি সদস্য জুরান আলী জানান, রবিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে প্রসূতি জহুরা বেগম হঠাৎ করেই অচেতন হয়ে পড়েন। দিশেহারা হয়ে স্বজনরা ওই অঞ্চলের পল্লী চিকিৎসক লিয়াকত আলীকে ডেকে আনেন। তিনি রোগীকে দেখে মৃত্যু ঘোষনা করেন। এরপর পরই শুরু হয় জানাযাসহ দাফন কার্যক্রম। ঘটনার দিন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে দাফনের সময় নির্ধারণ করে এলাকায় মাইকিংও করা হয়। কবর খোড়াসহ সকল কাজ শেষ হয়। মৃতকে গোছল করিয়ে গায়ে কাফনের কাপড় পরানোর সময় ঘটে ওই ঘটনা।
বাবা আমির হোসেন জানান, গত ১৬ ফেব্র“য়ারি দ্বিতীয় ছেলে সন্তানের জন্ম দেয় জহুরা বেগম। জন্মের পর পরই শিশু সুস্থ থাকলেও মা অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। ১৩দিন ধরে সে এক প্রকার অচেতন অবস্থায়ই ছিল। চরের পল্লী চিকিৎসক ও একাধিক কবিরাজকে দেখানো হয়েছে। কিন্তু সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় তাকে চিকিৎসার জন্য কোনো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্বামী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদেরকে মৃত্যুর সংবাদ দেয়া হয়। এ সংবাদ পেয়ে আমি ভেঙ্গে পড়ি। তাছাড়া মরা মানুষকে যেভাবে ফেলে রাখে সে অবস্থায় রাখার কারনে তার দিকে কারো নজর ছিল না। পরের ঘটনা তো আপনার শুনলেনই। ’
এ বিষয়ে পল্লী চিকিৎসক লিয়াকত আলী বলেন, ‘বাড়ির সবাই কয় যে মারা গেছে। বাড়ির চারদিকে মরা মানুষের মতো কান্নাকাটি। এ অবস্থায় রোগীর অবস্থা এত দুর্বল ছিল যে, মরছে না বেঁচে আছে তা তাৎক্ষনিক ভাবে বুঝতে পারিনি।’

উপরে