আপডেট : ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১২:১২

শাশুড়ির ছোড়া কুপির আগুনে জ্বলসে গেলো গৃহবধূ

বিডিটাইমস ডেস্ক
শাশুড়ির ছোড়া কুপির আগুনে জ্বলসে গেলো গৃহবধূ

রংপুরের পীরগাছায় তিন দিন আগে শাশুড়ি গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর দগ্ধ এক গৃহবধূর মৃত্যর হয়েছে।

রোববার রাত ১২টার দিকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তহমিনার (৩২) মৃত্যু হয় বলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের রেজিস্ট্রার আজমল হোসেন জানিয়েছেন।

বার্ন ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক মারুফুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার রাতে তহমিনাকে বান ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তার বুক থেকে কোমর পর্যন্ত ও দুই হাতসহ শরীরের ৫০ শতাংশ দগ্ধ ছিল; অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক।

তার চিকিৎসার জন্য রোববার সকালে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাত সাড়ে ১১ তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।

তহমিনার মা মরিয়ম বেগম হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, ১৩ বছর আগের বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য তার মারধর করা হতো। তার হাত-পাও ভেঙ্গে দেওয়া হয়, কানে আঘাত দেওয়া শ্রবণশক্তিও হারিয়েছেন তিনি। শেষমেশ গায়োত আগুন লাগে দেলে। মেয়েটা মোর জ্বলি-পুড়ি মরি গেল।

পীরগাছা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার পূর্ব চণ্ডিপুর গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হয় তহমিনা।

তহমিনা বলেছে, স্বামীর প্ররোচনায় শাশুড়ি তার গায়ে জলন্ত কুপি ছুড়ে দেয়। ঘটনার পর শুক্রবার রাতে তার স্বামী আব্দুল মান্নানকে (৩৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান ওসি আমিনুল।

শনিবার মান্নান ও তার বাবা-মাকে আসামি করে মামলা করেছেন তাহমিনার বড় ভাই মোস্তফা। তার স্বামী গ্রেপ্তার হলেও বাকিরা পলাতক রয়েছে; তাদের বাড়িতে ঝুলছে তালা।

একই গ্রামের ইটভাটার শ্রমিক তৌফিকুর রহমানের মেয়ে তহমিনার সঙ্গে ১৩ বছর আগে বিয়ে ফল ব্যবসায়ী মান্নানের বিয়ে হয়। তাদের দুই মেয়ে রয়েছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

 

উপরে