আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৮:০৪
ইউপি নির্বাচন

কক্সবাজারে আ.লীগের মনোনয়ন বঞ্চিতদের ক্ষোভ

বিডিটাইমস ডেস্ক
কক্সবাজারে আ.লীগের মনোনয়ন বঞ্চিতদের ক্ষোভ

কক্সবাজার জেলার দুই পৌরসভা ও ১৯ ইউনিয়নের নির্বাচনে সরকারি দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে অধিকাংশ এলাকা। এই ক্ষোভের মুখে আওয়ামী লীগ কয়েকজন প্রার্থীর নাম পরিবর্তন করলেও সেই ক্ষোভ এখনও থামেনি। বরং বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

ফলে এই ক্ষোভের আগুনে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ঘর পুড়বে বলে আশংকা দলীয় নেতাকর্মীদের।

জানা যায়, জেলার তিন উপজেলা টেকনাফ, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার ১৯ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আগামী ২২ মার্চ। এর দুই দিন আগে ২০ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে চকরিয়া ও মহেশখালী পৌরসভার নির্বাচন। দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মত দলীয় মনোনয়নে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন।

এ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের এক দলে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদলে দেখা দিয়েছে হতাশা ও ক্ষোভ। পছন্দের প্রার্থীর মনোনয়ন না পাওয়া নিয়ে জেলাব্যাপি শুরু হয়েছে ব্যাপক বিক্ষোভ। আওয়ামী লীগের ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় বিএনপি নেতা, ইয়াবা ব্যবসায়ী, যুদ্ধাপরাধী পরিবারের সন্তানসহ বিতর্কিত অনেকের নাম অন্তর্ভূক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষা করেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ নেতাকর্মীদের। এর ফলে অর্ধেকেরও বেশি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা এসেছে তৃণমূল থেকে। এনিয়ে চিন্তিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, মহেশখালী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া বর্তমান মেয়র ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি মকছুদ মিয়া মহেশখালীর যুদ্ধাপরাধ মামলার ২২নং আসামী বড় মোহাম্মদের ছেলে। তার পরিবারের ভূমিকার জন্য একাত্তরে নির্যাতিত সংখ্যালঘু পরিবারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডকে আইনী নোটিশ দেয়া হয়েছে। তা উপেক্ষা করে মকসুদ মিয়ার মনোনয়ন অপরিবর্তিত রাখায় মহেশখালী পৌরসভার প্রথম মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা সরওয়ার আজম নাগরিক কমিটির ব্যানারে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। চকরিয়া পৌরসভায়ও ঘটেছে একই ঘটনা। পৌর আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের রেজুলেশনের ভিত্তিতে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু ও সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরীর নাম জেলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছিল।

কিন্তু জেলা থেকে কেন্দ্রে পাঠানো তালিকায় এই দুই জনের নামই ছিল না। অথচ ওই তালিকায় ৫জনের নাম ছিল। এনিয়েও চকরিয়া জুড়ে চলছে ক্ষোভের আগুন। কেন্দ্র থেকে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর চৌধুরীকে মনোনয়ন দেয়া হলেও আওয়ামী লীগের গতবারের বিদ্রোহী প্রার্থী চকরিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কক্সবাজার ট্রাক মিনিট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফজলুল করিম সাঈদী নাগরিক কমিটির ব্যানারে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে মেয়র পদে নির্বাচন করবেন।

মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নে তৃণমূলের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে কক্সবাজারের প্রথম শহীদ পরিবারের সন্তান তারেক বিন ওসমান শরীফ। কিন্তু তাকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তারেকের পিতা ওসমান চেয়ারম্যান হত্যা মামলার আসামী সেলিম চৌধুরীকে। ফলে মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারেক বিন ওসমান শরীফ।

মাতারবাড়ী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা রেজুলেশনের মাধ্যমে জানিয়েছেন, বর্তমান চেয়ারম্যান এনামুল হক রুহুল ছাড়া অন্য যে কাউকে প্রার্থী করা হলে তারা তাকে মেনে নেবেন। কিন্তু সেই এনামুল হক রুহুলকে প্রার্থী ঘোষণা করায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মাহমুদুল্লাহকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে তৃণমূল।

ধলঘাটা ইউনিয়নে মনোনয়ন দেয়া হয় দুর্নীতিসহ বহু মামলার আসামী, বিতর্কিত ব্যক্তি বর্তমান চেয়ারম্যান আহসান উল্লাহ বাচ্চুকে। পরে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে প্রার্থী ঘোষণা করা হয় ওই ইউনিয়নের একাধিকবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলামের ছেলে, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসানকে। এনিয়ে কামরুলের অনুসারীদের ক্ষোভ প্রশমিত হলেও নতুন করে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে আহসানউল্লাহ বাচ্চুর অনুসারীদের মাঝে।

একইভাবে কুতুবদিয়া উপজেলার দক্ষিণ ধুরং ইউনিয়নে বিএনপি থেকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন আল আজাদকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। পরে তীব্র সমালোচনার মুখে আরিফ মোশারফকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নে প্রথমে মনোনয়ন দেয়া হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী নুর হোসেনকে। পরে এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা সোনা আলীকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হলে বিগড়ে যায় নুর হোসেনের সমর্থকরা। ঘটনার প্রতিবাদে তারা এলাকার রাস্তার পাশে কলাগাছ রোপণ করে এবং সড়ক অবরোধ করে।

হ্নীলা ইউপিতে সাবেক চেয়ারম্যান এইচকে আনোয়ারকে প্রার্থী ঘোষণা করা হলে অপর প্রার্থী মাহবুব মোর্শেদের সমর্থকরা সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানিয়েছে। এভাবে প্রথম পর্যায়ের দলীয় প্রতীক নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে সরকারি দলে। মহেশখালীর কালারমারছড়ায় ওসমান চেয়ারম্যানের ছেলে মনোনয়ন না দিয়ে হত্যা মামলার আসামী সেলিম চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়ায় ঘটনার প্রতিবাদে কলাগাছ রোপণ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

তারা ইতোমধ্যে তারেক বিন ওসমান শরীফকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এনিয়ে চিন্তিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তাদের আশংকা, মনোনয়ন নিয়ে এই ক্ষোভের আগুনে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ঘর পুড়বে।

এদিকে মহেশখালীতে প্রার্থী মনোনয়ন প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক বলেন- অধিকাংশ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছে। সে কারণে একক প্রার্থী মনোনয়ন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না হওয়ায় একাধিক প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। আর কেন্দ্রই সবদিক বিবেচনা করে যাকে যোগ্য মনে করেছে, তাকেই মনোনয়ন দিয়েছে। সে ক্ষেত্রে আমাদের করার কিছু নেই।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে 

উপরে