আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৬:৩৮

পুলিশ এবার ভূমিদস্যু

বিডিটাইমস ডেস্ক
পুলিশ এবার ভূমিদস্যু

শত বছর ধরে ব্যবসা পরিচালনা ও ৪০ পরিবারের বসবাসের জায়গা জোর করে রাতের আঁধারে দখলে নিয়েছে যশোর জেলা পুলিশ। যশোর শহরের গাড়িখানা এলাকায় সরকারিভাবে বরাদ্দ নিয়েছিলেন তারা। বিচারিক আদালতে ‘মামলায় হেরে’ গত ১৩ জানুয়ারি শহরের গাড়িখানা রোডের ক্যালট্যাক্স পেট্রোল পাম্পের জায়গাসহ বেশ কয়েকটি দোকান দখল করে নেয় পুলিশ। অন্যদের বাড়ি এবং দোকান ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে পুলিশ অমানবিক আচরণ করছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টার দিকে ওইসব পরিবারের সদস্যরা ও মানবাধিকার সংগঠন রাইটস্ যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়- ১৯১০ সালে শহরের গাড়িখানা রোড এলাকার সরকারি জমি বরাদ্দ নিয়ে গোপীনাথ রায় চৌধুরী, মাসুদ আলম, আসাদুজ্জামান শিপলুসহ ৪০ পরিবার বংশাণুক্রমে ভোগ দখল করে আসছেন।

জেলা প্রশাসন থেকে বরাদ্দ দেয়া জমিটি নিজেদের দাবি করে পুলিশ। এক পর্যায়ে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। বিচারিক আদালতে পুলিশ হেরে যায়। বর্তমানে মামলাটি জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে রাতের আঁধারে এই এলাকার দোকান ও আবাসিক ভবন থেকে বাসিন্দাদের উচ্ছেদে নামে পুলিশ। রাতের আঁধারে তারা বেশ কয়েকটি দোকান দখল নিয়ে সেখানে অন্য দোকানের সাইনবোর্ড টানিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে পুলিশের ভয়ে পুরুষেরা রাতে বাড়িতে ঘুমাতে পারছেন না। প্রতিদিন রাতে বাড়িতে এসে নারীদেরও হুমকি দেয়া হচ্ছে। এসব কথা জানিয়ে ভুক্তভোগীরা যশোর আদালতে নালিশ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে রাইটস্ যশোর’র নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক,  গোপীনাথ রায় চৌধুরী, মাসুদ আলম ও আসাদুজ্জামান শিপলু উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে পুলিশের এমন আইন বিরোধী কাজে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য ও যশোর জেলা সভাপতি ইকবাল কবির জহিদ, সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ভিটু, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির যশোর জেলা সভাপতি ও বিশিষ্ট আইনজীবী আবুল হোসেন, বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের জেলা সম্পাদক তসলিম-উর-রহমান ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের জেলা সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার রায়।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে জেলা পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর) মীর মোহাম্মদ সাফিন মাহমুদ জমিটি নিজেদের দাবি করে বলেন, সরকারি জমি উদ্ধারে এ অভিযান চালানো হয়েছে। আদালতে মামলা চলাকালে উচ্ছেদ অভিযান চালানো বিধিবহির্ভূত কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দখলকারীরা জাল দলিল দেখিয়ে মামলা করেছেন। সরকারি স্বার্থে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছেন তারা।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে