আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১২:২৪

প্রার্থী নিয়ে বিপাকে বরিশাল আওয়ামী লীগ

বরিশাল প্রতিনিধি
প্রার্থী নিয়ে বিপাকে বরিশাল আওয়ামী লীগ

আগামী মার্চ মাসে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে এমনটি ভেবে সব ধরণের প্রস্ততি সম্পন্ন করে ফেলেছে বরিশালের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এখন অপেক্ষা কেবল তফসিল ঘোষণা। তাহলেই দলীয় মনোনয়ন নিয়ে কোমর বেঁধে মাঠে নামবেন চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। এখন চলছে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরী করার পালা। আওয়ামী লীগ নেতারা কেন্দ্রের নিদের্শনা অনুসারে তালিকা তৈরীর কাজ চালাচ্ছে। আর এ তালিকায় নেমেই বিপত্তিতে আওয়ামী লীগ। কারণ কার নাম রেখে কার নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠাবে তা নিয়েই বিভ্রান্তিতে বরিশাল আওয়ামী লীগ নেতারা। প্রার্থীর ছড়াছড়ি দেখে মাথায় বাজ পরার মতো হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাদের। ইতোমধ্যে বরিশাল জেলার ৮৭টি ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগেরই মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে ৫শতাধিক প্রার্থী। যারা মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছে। তাদের সকলের প্রত্যাশা মনোনয়ন পাবার সবধরণের যোগ্যতা তাদের রয়েছে এবং দল নিরাশ করবে না।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একজন জ্যেষ্ঠ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কয়েকশ বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়িয়ে যেতে পারেন। সবাইকে বহিষ্কার করতে গেলে তৃনমূলে সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়বে, একই সাথে দলে বিভক্তি বাড়বে। আর বিপুলসংখ্যক দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়াও কঠিন কাজ। এ ক্ষেত্রে ভুল প্রার্থী বাছাইয়ের সুযোগ থাকে। তখন যোগ্য ও দলের নিবেদিত অনেকে হয়তো বিদ্রোহী হবেন। আর এসব বিদ্রোহীকে দল থেকে বের করে দিলে ক্রমান্বয়ে সংগঠন দুর্বল হয়ে পরবে ।

ওই নেতা আরও বলেন, দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হওয়ায় সবচেয়ে বিপদে পড়বে আওয়ামী লীগ। কারণ, দল ক্ষমতায় থাকার কারণে তৃণমূল পর্যায়ে এখন অর্থ ও পেশি শক্তির জোরে আওয়ামী লীগের নেতারাই এগিয়ে। সাংসদ, উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রদের বেশির ভাগই সরকারি দলের। এছাড়া উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা রয়েছেন। তাদের প্রত্যেকের আলাদা বলয় তৈরি হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এলে যার যার বলয় থেকে একজন করে দাঁড়িয়ে গেলে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যাবে। তখন দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের নামে বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, সদ্য সমাপ্ত পৌরসভা নির্বাচনের মনোনয়ন-বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বরিশাল সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হালিম রেজা মোফাজ্জেল বলেন, তফসিল ঘোষণার পর দলীয় মনোনয়ন দেয়া শুরু হবে। ইতোমধ্যেই অনেকেই প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন দলীয় মনোনয়ন পাবার জন্য। তবে কেন্দ্রে সিদ্ধান্ত দিবে মনোনয়ন কিভাবে দেয়া হবে। মোফাজ্জেল আরো বলেন, যেহেতু স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগ তাদের অধিনস্থ ইউনিয়ন পরিষদগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন সেহেতু মনোনয়ন ক্ষমতা তাদের হাতে দেয়া উচিৎ। অন্যথায় মনোনীত প্রার্থী ভুল হতে পারে। এতে করে দলের সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হবে।

বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য এখন চ্যালেঞ্জ। কারণ তৃনমূল পর্যায়ে সঠিক ও যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে বিজয়ী করতে হবে। এক্ষেত্রে যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তাহলে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হবে আওয়ামী লীগ। তিনি আরো বলেন, প্রার্থী চুড়ান্ত করার দায়িত্ব যাকেই দেয়া হোক না কেন তা সমন্বয় করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায় আর দলটির দলীয় নেতাকর্মীসহ অনেক জনপ্রতিনিধি রয়েছে।

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস এমপি বলেন, প্রার্থীদের নাম কেন্দ্রে পাঠানোর কোনো পরামর্শ বা নির্দেশনা এখনো তাদের কাছে আসেনি। যদি এমন নির্দেশনা আসে তাহলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয়ভাবে প্রার্থী বাছাই করা হবে। এরপর কেন্দ্রে পাঠানো হবে দলীয় প্রার্থীদের নামের তালিকা।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বর্তমানে ক্ষমতায় রয়েছে। অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি আওয়ামী লীগের। তাই প্রার্থী মনোনয়নে একটু সমস্যা হবে। কারণ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইতোমধ্যেই অনেক প্রার্থীর নাম উঠে এসেছে। এরপর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে যাচাই বাচাই করে এবং সকলের সাথে সমন্বয় করে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে