আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১২:৫১

উন্নয়নের ছিটেফোটাও হয়নি, দেড়কোটি টাকা উধাও!

বিএম কলেজের উন্নয়ন তহবিল
বিডিটাইমস ডেস্ক
উন্নয়নের ছিটেফোটাও হয়নি, দেড়কোটি টাকা উধাও!

বরিশাল প্রতিনিধি

সরকারি বিএম কলেজের অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্স শেষ পর্বের ছাত্রী আঁখি রানী ভক্ত। মোটামুটি সচ্ছল পরিবারে বড় হয়েছেন আঁখি। মঙ্গলবার ইসলাম শিক্ষা বিভাগের বাথরুমে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে তার এই অসুস্থতা অন্য কোন কারণে নয়, অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা  বাথরুমের কারণে তার এমনটি হয়েছে বলে জানা গেছে।

অথচ অনার্স এর চার বছর ও মাস্টার্সের এক বছরে কলেজের উন্নয়ন তহবিলে আঁখি ১ হাজার টাকা দিয়েছে কলেজের উন্নয়ন ফান্ডে।

যা দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনের সাথে সমন্বয় করে উন্নয়ন করার কথা। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এ কারণে আঁখির নিজ বিভাগ অর্থনীতিতে বাথরুম তো নেই-ই বরং ইসলাম শিক্ষা বিভাগের যে বাথরুমটি ব্যবহার করে সেটিও দীর্ঘদিন ধরে স্যাঁতস্যাঁতে ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পরে রয়েছে।

উন্নয়ন তহবিলে মোটা অংকের অর্থ দিয়েও ব্যবহার অনুপযোগি ওই বাথরুমটি কলেজের ইসলাম শিক্ষা, ইসলামের ইতিহাস, সংস্কৃত, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও বাংলা বিভাগের প্রায় ৮ হাজারেরও বেশী শিক্ষার্থী ব্যবহার করে।

একই অবস্থা কলেজের ইংরেজী বিভাগের। এ বিভাগেরও ৫০ বছরের পুরানো একটি স্যাঁতস্যাঁতে ব্যবহার অনুপযোগি বাথরুম ওই ভবনে থাকা ৪টি বিভাগের ৫ হাজার শিক্ষার্থী ব্যবহার করছে। যার কারণে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছে প্রায়শই।

অথচ একজন শিক্ষার্থীকে অনার্স এর চার বছর পার করতে উন্নয়ন তহবিলে প্রতিবছর ২শ টাকা করে ৪ বছরে ৮শ টাকা দিতে হয়। আর মাস্টার্স এ ২শ টাকা। ওই টাকা কলেজের উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করার কথা।  

কলেজের হিসাব শাখার দেয়া তথ্যানুসারে, কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. ননী গোপাল দাস ২০১৩ সালে খুলনা বিএল কলেজে ট্রান্সফার হন। তখন কলেজের উন্নয়ন তহবিল একেবারে শুণ্য ছিলো। কিন্তু ওই বছর কলেজের অনার্স ভর্তি (৪ হাজার ২শ), অনার্সের তিনটি পরীক্ষা (অনার্স প্রথম বর্ষ ৪ হাজার ২শ, দ্বিতীয় বর্ষ ৪ হাজার ২শ ও তৃতীয় বর্ষ ৪ হাজার ২শ), মাস্টার্সের ভর্তি (নিয়মিত ৪ হাজার ৪শ ও প্রিলিমিনারি ৪ হাজার ২শ) থেকে মোট ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের কাছ থেকে ২শ টাকা করে মোট ৫০ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়।

এরপর ২০১৪ সালে একইভাবে উন্নয়ন তহবিলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা ও ২০১৫ সালে ৫০ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়। তিন বছরে সব মিলিয়ে উন্নয়ন তহবিলে দেড় কোটি টাকা আদায় করা হয় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। তবে ২০১৬ সালের আদায়কৃত অর্থেও হিসাব এখনও হয়নি।

কলেজ কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যানুসারে, এ তিন বছরে কলেজের উন্নয়ন ফান্ড থেকে কয়েকটি বিভাগের চুনকাম আর কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনের একটি ফুল বাগানের কাজ হয়েছে। আর এতেই উন্নয়ন তহবিল ফাঁকা। যদিও কলেজ এর হিসাব শাখা বলছে কিছু অর্থ উন্নয়ন তহবিলে রয়েছে। তবে তার পরিমাণ জানাতে অস্বীকৃতি জানান তারা।  

ইংরেজী বিভাগের মাস্টার্স শেষ পর্বের ছাত্র ওবায়দুর রহমান বলেন, ৭ বছর ধরে এ কলেজে পড়াশুনা করছি। কিন্তু কোন উন্নয়ন দেখিনি। কলেজের ১৯টি বিভাগে মাত্র ৪টি টয়লেট রয়েছে। যা ব্যবহার করছে কলেজের ২২ হাজার শিক্ষার্থী। অপরদিকে কলেজের সকল ভবনগুলোই বহু বছরের পুরানো ও স্যাঁতস্যাঁতে। এখানে কোন চুনকামই করা হয়নি।

অপরদিকে যেসকল বেঞ্চে বসিয়ে ক্লাস নেয়া হয় সেগুলো বহু বছরের পুরানো। নতুন বেঞ্চতো দুরের কথা পুরানো বেঞ্চ সংস্কারও করা হয়নি কখনও।   

সরকারি বিএম কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক স ম ইমানুল হাকিম বলেন, ‘২০১৫ সালে যখন দায়িত্ব নেই তখন উন্নয়ন তহবিলে কেবল ৪ লাখ টাকা ছিলো। এরপর তহবিলে যে অর্থ জমা হয়েছে তা দিয়ে কলেজের রঙের কাজ করেছি। পূর্বেও অর্থ কি কাজে ব্যবহৃত হয়েছে তা আমার জানা নেই। এখন তহবিলে অর্থ জমা হলে কলেজের অভ্যন্তরিন উন্নয়নের কাজে হাত লাগানো হবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে  

 

উপরে