আপডেট : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৫:১৬

ট্যাংক থেকে নবজাতক উদ্ধার, নেপথ্যে অবৈধ সম্পর্ক

বিডিটাইমস ডেস্ক
ট্যাংক থেকে নবজাতক উদ্ধার, নেপথ্যে অবৈধ সম্পর্ক

সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় মায়ের কোল। পরম মমতায় মা তুলেনেন আপন কোলে। আবার কখনো সেই মা’ই হন নির্দয়। নারীছেড়া ধন শিশুকে ফেলে দেন কখনো নর্দমায়, কখনো ছুড়ে মারেন খোলা আকাশের নিচে, আবার কখনো সেই শিশুকে খাদ্য বানান শেয়াল-নেকড়ের। এমন একটি নির্দয় ঘটনার স্বাক্ষী হল মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের বড়কাপন গ্রামের সাধারণ মানুষ।

সোমবার ভোরে ওই গ্রামের দিনমজুর সুনু মিয়ার বাড়ির টয়লেটের পরিত্যক্ত সেফটিক ট্যাঙ্কিতে (৩টি রিং দিয়ে বানানো) পাওয়া গেল একটি নবজাতক কন্যা।

ধারণা করা হচ্ছে অবৈধ সম্পর্কের কারণে জন্ম নেয়া শিশুটিকে কোনো মা প্রসবের পর এখানে ফেলে দিয়েছেন। তবে সোমবার বিকেল ৫টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নবজাতকটি কার সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নির্দয় মা জন্ম দেয়ার পরপরই পলিথিনে মুড়ে গতকাল সোমবার ভোর রাতের কোন একসময় সুনু মিয়ার বাড়ির টয়লেটের পানিতে ভরা ওই ট্যাঙ্কিতে ফেলে দেন জন্মদাত্রী মা। পানিতে ভরা ওই ট্যাঙ্কিতে শিশুটি ডুবে না গিয়ে ভেসে থাকে। করতে থাকে কান্না। বাড়ি থেকে একটু দুরে হওয়ায় কেউই শুনতে পাচ্ছিল না শিশুটির কান্না। ভোরে সুনু মিয়া কাজের জন্য বের হওয়ার সময় টয়লেটের প্রয়োজন পড়ে। টয়লেটের কাছে যেতেই কোন শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান। তার চিৎকারে জড়োহন আশে পাশের লোকজন। উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে। বের করা হয় পলিথিন থেকে। খবর পেয়ে ছুটে যান ইউপি সদস্য এম মামুনুন রশিদ।

ট্যাকির পুঁকায় ধরা শিশুটিকে পরিস্কার করা হয়। তিনি যোগাযোগ করেন ইউপি চেয়ারম্যান মিলন বখতের সঙ্গে। তার পরামর্শে পাঠানো হয় মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার হাসপাতালে। কিন্তু নবজাতকটির কোন অভিভাবক না থাকায় ভর্তি করতে বাঁধ সাজে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ইউপি সদস্য এম মামুনুর রশিদ যোগাযোগ করেন চেয়ারম্যানের সঙ্গে। পরে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কথায় ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। এরই মাঝে শিশুটিকে নিতে আসা কমলগঞ্জ উপজেলার রামপাশা গ্রামের নিহারুন বেগম শিশুটিকে দেখভাল করছেন। হাসপাতালের সমাজসেবা বিভাগও এগিয়ে এসেছে শিশুটির জন্য।

ইউপি চেয়ারম্যান মিলন বখত বলেন, শিশুটির খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি মেম্বারকে দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে আলাপ করলে হাসপাতালের সমাজ সেবা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়েছেন। একজন মহিলা তাকে দত্তক নিতে চাচ্ছেন। শিশুটিকে বঁচানো গেলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে নিতে চায় সে নেবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে