আপডেট : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১১:০২

ছাত্রদলে ছাত্র নেই বরিশালে

বিডিটাইমস ডেস্ক
ছাত্রদলে ছাত্র নেই বরিশালে

২০০৩ সালে বরিশাল ল’কলেজের এজিএস ছিলেন জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মাসুদ হাসান মামুন। ২০১৩ সালে তাকে জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক করা হয়।  ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনি শনিবার জায়গা করে নিয়েছেন বিভাগীয় সহ-সভাপতি পদ। যদিও তৃণমূল নেতারা অভিযোগ করেছেন, গত ৩ বছরেও জেলা ছাত্রদলকে পূর্ণাঙ্গ করতে ব্যর্থ হয়েছেন মামুন। এমনকি ১৪ বছর ধরে হচ্ছে না থানা ছাত্রদলের কমিটি। দলের একাধিক নেতা জানান, প্রায় ১ যুগ আগেই মাসুদ হাসান মামুন ছাত্র জীবনের অবসান ঘটিয়েছেন। বর্তমানে এক কন্যা সন্তানের জনক মামুনকে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে পরিবার ও ব্যবসা নিয়ে। যে কারণে প্রস্ফুটিত হচ্ছে না বরিশাল ছাত্রদল।

ছাত্রদলের বরিশাল বিভাগীয় সহ-সভাপতি ও জেলা আহবায়ক মাসুদ হাসান মামুন অবশ্য বলেন, সদ্য কমিটি গঠিত হয়েছে আন্দোলমুখি নেতাদের নিয়ে। তিনি প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজপথে ছিলেন। জেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে যাচাই বাছাই চলছে। বরিশাল ছাত্রদলকে মূল্যায়ন করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব সময় প্রত্যাশার সাথে প্রাপ্তির সমন্বয় ঘটে না। দলের বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে ভোলার ছাত্রদল সভাপতি খন্দকার আল আমিনকে। তিনিও বিবাহিত এবং অছাত্র।

কেন্দ্রীয় সহ সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েছেন বরিশাল জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক এইচ এম তছলিম উদ্দিন। একজন ব্যবসায়ী হিসেবে নগরীতে পরিচিত তছলিম ছাত্রত্বের পাঠ অনেক আগেই গুছিয়ে সন্তান আর পরিবার নিয়েই ব্যস্ত। কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন বরিশাল জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক হাফিজ আহমেদ বাবলু। এক কন্যার জনক বাবলু একজন আইনজীবী হিসেবেই আজকাল ব্যস্ত সময় পার করছেন। দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ আহমেদ বাবলু বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটি বড় হলেও সবাইকে মূল্যায়ন করেছে। ৩ বছর ধরে আন্দোলনে থাকায় জেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা যায়নি। তিনি দাবি করেন যে ২০০৩ সালে তিনি(বাবলু) যখন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সর্বশেষ তখন জেলার সকল থানা কমিটি হয়েছিল।

দলের কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিপনও  অছাত্র এবং  এক সন্তানের জনক। ব্যবসা নিয়েই তার সময় কাটে। একইভাবে কেন্দ্রীয় সদস্য পদ পাওয়া ইয়াছিন আরাফাত মিন্টু  ও মুসফিকুল হাসান মাসুমও অছাত্র ও বিবাহিত। কেন্দ্রীয় সদস্য পদ পাওয়া বরগুনার মুরাদুজ্জামান টিপন, পিরোজপুরের সাইদুর রহমান সাঈদ, ভোলার মিজানুর রহমান মাসুদ ও সাইদুর রহমান শামিম অছাত্র এবং বিবাহিত।

বরিশালের এক ডজন অছাত্র, বিবাহিত আর ব্যাবসায়ীদের দিয়ে পূর্ণাঙ্গ হল ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি। সদ্য পদ পাওয়া এসব নেতারা নিজ এলাকার শীর্ষ পদে থেকেও বছরের পর বছর দল গোছাতে পারেননি। এমনকি আন্দোলনেও তাদের অনেকেই গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন। বিভাগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, সদ্য পদ পাওয়া নেতারা আন্দোলনের মাঠ ছেড়ে পরিবার ও ব্যবসা নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। আন্দোলন আর ঘর গোছাতে ব্যর্থ এমন নেতাদের দলে ফের পুরস্কৃত করায় হতাশ তৃণমূল নেতারা।

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে