আপডেট : ২৪ জানুয়ারী, ২০১৬ ২১:০৩
বরিশাল জেলা যুবলীগ

যুবক থেকে বৃদ্ধ হলেও, যুবলীগেই আছেন নেতারা!

বরিশাল প্রতিনিধি
যুবক থেকে বৃদ্ধ হলেও, যুবলীগেই আছেন নেতারা!

যখন যুবলীগের দায়িত্ব পেয়েছিলেন তখন ছিলেন তাগড়া জোয়ান।এখন কেউ বৃদ্ধ হয়েছেন, কেউবা বৃদ্ধের খাতায় নাম লেখাবেন শিগগির, দাদা-নানাও বনে গেছেন এই সময়ে।

এতকিছুর পরিবর্তন হয়েছে।পরিবর্তন হয়নি শুধু বরিশাল জেলা যুবলীগের নেতৃত্বে।বয়সে বৃদ্ধ বনে গেলেও দলের খাতায় এখনো তাদের নাম লেখা আছে যুবলীগের নেতা হিসাবেই।

কমিটি গঠনের ২০ বছর পার হলেও এখনো হয়নি বরিশাল যুবলীগের কাউন্সিল।   যুবলীগ নেতাদের কারও বয়স ৫০ ছুঁই ছুঁই, আবার কারও বয়স তাও ছাড়িয়েছে। সময়ের পরিবর্তনে নেতাদের বেড়েছে ব্যক্তিগত ব্যস্ততা।

সাংগঠনিক কার্যক্রমে এখন আর তেমন কোন গুরুত্ব দিতে পারছেন না তারা। এতে সাংগঠনিক কর্মকান্ডে নেমে এসেছে স্থবিরতা।

জেলা যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে জেলা যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাকির হোসেন সভাপতি ও এ্যাডভোকেট ফজলুল করিম শাহিন সাধারণ সম্পাদক হন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, এ কমিটির মেয়াদ তিন বছর হলেও এখন পর্যন্ত সম্মেলন হয়নি।

 নেতা-কর্মীদের ভাষ্যমতে, দেড় যুগ আগের কমিটির বেশির ভাগ নেতা এখন ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ব্যস্ত নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে। দু-একজন ছাড়া কার্যকরী কমিটির বেশির ভাগ সদস্য এখন নিষ্ক্রিয়। বিভিন্ন কারণে কয়েকটি পদ ফাঁকা হয়েছে। সম্মেলনের বদলে নেতৃত্ব গতিশীল করতে কয়েক দফা সহযোগী সংগঠন থেকে সদস্য নিয়েও সংগঠন চাঙ্গা করা সম্ভব হয়নি। জেলা কমিটির নেতৃত্বের জটের প্রভাব পড়েছে পৌর-শহর ও উপজেলা কমিটিতেও। সেখানেও কোন কাউন্সিল করা সম্ভব হচ্ছে না।

জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট ফজলুল করিম শাহিন বলেন, “জেলা যুবলীগের নেতৃত্ব রাজনৈতিক সেশন জটে পড়েছে। দেখতে দেখতে আওয়ামী লীগের সদস্য হওয়ার বয়সও পেরিয়ে যাচ্ছে। অথচ এখনো যুবলীগেই আটকে আছি”।

জেলা যুবলীগের সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, “৯০ সাল থেকে যুবলীগ করছি। ৯৬ সালে নেতৃত্বে এসেছি। এখন বয়স ৫০ ছাড়িয়ে গেলেও যুবলীগ ছাড়তে পারিনি”।

তিনি আরও বলেন, “কেন্দ্র চাইলেই আমরা এ রাজনৈতিক সেশন জট থেকে মুক্ত হতে পারি। যুবলীগের নেতৃত্ব ছেড়ে দিতে চাই, কিন্তু মূল দলে আমাদের জায়গা দিতে হবে”।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে

উপরে