আপডেট : ২৩ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৯:১১

দাওয়াত ছিলো বিয়ের, অতিথি খেলেন খাতনার!

মির্জা শ্রাবন
দাওয়াত ছিলো বিয়ের, অতিথি খেলেন খাতনার!

কনে সায়মা আখতারের বয়স ১৪। পড়াশুনা করে দশম শ্রেণিতে। কিন্তু বাবা-মা মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি পাঠাতে আর দেরি করতে চান না। তাই পছন্দ করেছেন বর, পাকাপাকি করেছেন বিয়ে।

২২ জানুয়ারি ছিলো বিয়ের অনুষ্ঠান। আর এ অনুষ্ঠান ঘিরে আয়োজন ছিলো চোখে পড়ার মতো। কিন্তু আইনি জটিলতায় আটকে যায় বিয়ে। মেয়েদের বয়স ১৮ না হলে বিয়ে আইন অনুযায়ী দন্ডনীয় অপরাধ। আর এ বিয়ে বন্ধের কাজটি করেছে উপজেলা প্রশাসন ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেল।

ঘটনাটি ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে। এরকম বিয়ে বন্ধের ঘটনা কোন ব্যতিক্রম বিষয় নয়। কিন্তু এখানেই ঘটনার শেষ হয়নি, শুরু মাত্র।

বিয়ে মানেই খাওয়া দাওয়া। আর কনের বাবা ফিরোজ আহম্মেদ মেয়ের বিয়েতে ধুমধামের কমতি রাখেননি। কিন্তু বিয়ে যখন বন্ধ হয়ে গেলো সবার মাথায় হাত। এতো আয়োজন! শাহী ভোজ! এসবের কী হবে। না খেয়ে ফিরে যাবেন সব অতিথি?

কিন্তু মেয়ের বাবা এতো সহযে হালছাড়ার পাত্র নন। তাই করিয়ে দিলেন ছেলের খাতনা। আর এ উপলক্ষ্যে আমন্ত্রিত অতিথি, আত্মীয় বা প্রতিবেশী- কাউকে না খেয়ে যেতে হয়নি। আয়োজনও ভেস্তে যায়নি। আর অতিথিরাও খেয়েছেন কবজি ডুবিয়ে।

কনের বাবার এমন তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে উপস্থিত সবাই তার বুদ্ধিমত্তার তারিফই করেছেন। এ বিষয়ে এক অতিথি বলেন, ‘আয়োজন ঠিক থাকলো, কেবল বদলে গেলো উপলক্ষ্য’। তবে কেউ কেউ মেয়েকে এ বয়সে বিয়ের দেয়ায় সমালোচনাও করেছেন।

সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছেন ৩১ বছর বয়সী বর সুজন আহমেদ । তিনি  একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। বাড়ি একই উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের রসুনচক গ্রামে। নাম না প্রকাশের শর্তে আমন্ত্রিত এক অতিথি বলেন, ‘একজন শিক্ষক হয়েও তিনি বাল্যবিয়ে করতে যাচ্ছিলেন, এটা দু:খজনক।’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/পিএম

উপরে