আপডেট : ১৮ জানুয়ারী, ২০১৬ ২০:৪৯

কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামুলক, নেই কম্পিউটার আর শিক্ষক

বরিশাল অফিস
কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামুলক, নেই কম্পিউটার আর শিক্ষক
ফাইল ছবি

নবম ও দশম শ্রেনীতে কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হলেও কম্পিউটার ও শিক্ষকের অভাবে কম্পিউটার বিষয়ে পূর্ণ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বরিশালের শিক্ষার্থীরা।কয়েকটি নামীদামি স্কুল ছাড়া বরিশালের সব স্কুলের চিত্র প্রায় একই রকম।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের ৬ জেলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৩০০টি। এর মধ্যে বিভাগীয় জেলা ও উপজেলা শহরের মাত্র ২৭৫টি বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ল্যাব আছে।

তবে যে বিদ্যালয় গুলোতে ল্যাব রয়েছে সেগুলোর মধ্যে একটি ল্যাপটপ, প্রজেক্টর এবং সর্বোচ্চ ১৩টি করে কম্পিউটার আছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো যেসব বিদ্যালয়ে ল্যাব রয়েছে সেসব বিদ্যালয়গুলোর কম্পিউটার শিক্ষক নেই। আর যে বিদ্যালয়ে ল্যাব নেই সেখানেতো শিক্ষকের প্রশ্নই আসেনা।

বরিশাল সদর উপজেলার লামছড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আছমা আক্তার বলেন, “কম্পিউটার শিক্ষা বিষয় বাধ্যতামূলক হলেও এ বিষয়ে আমাদের কোন ক্লাস নেয়া হয় না। স্কুলে কোন কম্পিউটারও নেই। কেবল বই মুখস্ত করে পরীক্ষায় অংশ নেই”।

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ভাষানচর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম বলেন, “আমরা বিদ্যালয়ে কখনই কম্পিউটার দেখিনি। কম্পিউটার বিষয়ে আমাদের কোন শিক্ষকও নেই। তাই কম্পিউটারের বাস্তবমুখী কোন শিক্ষা আমাদের নেই।

অপরদিকে যেসব বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে কিন্তু শিক্ষক নেই সেগুলোর অবস্থা আরো করুণ। কারণ কম্পিউটার ল্যাব থাকলেও তা ব্যবহারের অভাবে ধুলো-ময়লা জর্জরিত হয়ে পড়ে আছে।

সরেজমিনে সমায়েস্তাবাদ মোয়াজ্জেম হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাব ঘুরে দেখা যায়, ছোট একটি কক্ষে পাঁচটি টেবিলে রয়েছে কম্পিউটার।টেবিলে ধুলোবালিতে ভরে গেছে। খালি জায়গা নানা আসবাবপত্রে ভরা।

কথা হয় নবম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তারা এখনো অনেকে কম্পিউটারে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলির নামই বলতে পারছিল না। নুরনবী ও রাবেয়া আক্তার নামে দুই শিক্ষার্থী জানায়, সপ্তাহে দুদিন কম্পিউটার ক্লাস হয় তাদের স্কুলে। তা নেয় বাংলার এক শিক্ষক।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান আহমেদ বলেন, কম্পিউটার শিক্ষার্থী রয়েছে ৮০ জন। এর বাইরেও কিছু শিক্ষার্থী কম্পিউটার শিখছে। তবে বিদ্যুতের লোডশেডিং এবং লো-ভোল্টেজের কারণে নিয়মিত পাঠদান সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, ‘সপ্তাহে দুদিন ক্লাস হয়। মাত্র পাঁচটি কম্পিউটার সচল থাকায় একসঙ্গে পাঁচজনের বেশি শিক্ষার্থী শিখতে পারে না।আর এ কারণে কম্পিউটার শিক্ষায় শতভাগ সফলতা আসছে না।

 বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বিভাগের ২৭৫ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে। তবে শিক্ষক নেই অধিকাংশ স্কুলে। শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম চলছে”।

তবে যেসব বিদ্যালয়ে ল্যাব নেই তারা প্রতিবেদন পাঠালে শিগগির ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।  

বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, “বরিশালের অধিকাংশ বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ল্যাব আছে। সরকারি উদ্যোগে না হলেও ব্যাক্তিগত উদ্যোগে অনেক প্রতিষ্ঠান ল্যাব প্রতিষ্ঠা করেছে”।

“আর অধিকাংশ বিদ্যালয়গুলোতে কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে । তাই এখন বাস্তবমুখী শিক্ষা পাবে প্রত্যেক শিক্ষার্থী”।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে

উপরে