আপডেট : ১৮ জানুয়ারী, ২০১৬ ২০:০৯

৩৫ বছর পর আবারো ‘গুটিবসন্ত’: নেত্রকোনায় মৃত ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩৫ বছর পর আবারো ‘গুটিবসন্ত’: নেত্রকোনায় মৃত ৫
ফাইল ছবি

৩৫ বছর পর আবারো ফিরে এসেছে ভয়ঙ্কর ছোঁয়াচে রোগ গুটি বসন্ত। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে নেত্রকোনার কলমাকান্দায় গত ২৫ দিনে একই পরিবারের দুই শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

আক্রান্ত হয়েছে ওই এলাকার আরো অন্তত ১৬ জন। এ ঘটনায় ভয়ে অনেকেই এলাকা ছাড়ছেন। খবর পেয়ে এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা সিভিল সার্জনসহ দুটি মেডিকেল টিম। আশির দশকে বিশ্বকে গুটিবসন্তমুক্ত ঘোষণা করে জাতিসংঘ। এরপর এই রোগে মৃত্যুর প্রথম কোনো খবর পাওয়া গেল।

কৈলাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, গত নভেম্বর মাসের শেষের দিকে জামশেন গ্রামের ফজলু মিয়া গুটিবসন্তের মতো এ ভাইরাস রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর একে একে ওই গ্রামের অনেকেই এ রোগে আক্রান্ত হয়। তিনি আরো জানান, সর্বশেষ গতকাল মারা যায় হাশেম আলীর মেয়ে মারুফা।

নেত্রকোনার সিভিল সার্জন ডা. বিজন কান্তি সরকার গত শুক্রবার আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ‘ছয়জন চিকিৎসকের সমন্বয়ে একটি দল গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভাইরাল ইনফেকশনের কারণে এ অসুখ হয়েছে। আক্রান্ত এলাকায় চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

কলমাকান্দা উপজেলার জামশেন গ্রামে ‘গুটিবসন্ত’ রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনদিন আগে মারা গেছে ফৌজদার মিয়ার দুই শিশু মাসুদা আক্তার (১৩) ও রফিকুল ইসলাম (৫)। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে মারা যায় প্রতিবেশি হাশেম উদ্দিনের চতুর্থ শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে মারুফা আক্তার। কয়েকদিন আগে ওই গ্রামের ফজলুল হক (৪৫) ও রবন খাঁরও (৭২) মৃত্যু হয়েছে।

আক্রান্ত হয়েছে এই গ্রামের হাসিম উদ্দিনের ছেলে অলি-উল্লাহ (৭), আলাল উদ্দিনের ছেলে আরিফ বিল্লাহ (৮ মাস), মুক্তার উদ্দিনের ছেলে সুরাফ মিয়া, রবণ খার ছেলে নূর ইসলাম (৮), নয়ন মিয়ার ছেলে সাগর (৮), জাকিয়া (২) ও স্ত্রী হলুদা আক্তার, আবু তাহেরের মেয়ে হীরা মনি (৬), তার বোন নীলা মনি (৪), কালাম মিয়ার ছেলে শরীফ মিয়া (৬), মুক্তা আক্তার (৮), রেখা আক্তার (২১), রুখসানাসহ (১০) ১৬ জন।

রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে পাশের গ্রামেও। নাওরীপাড়া-বরুণ খিলা গ্রামে খলিল মিয়ার ছেলে সুলতান মিয়া (৩১) আক্রান্ত হবার খবর পাওয়া গেছে। গত ২৫ দিনে গ্রামের পাঁচজন মারা গেলেও সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী কিংবা চিকিৎসকরা কেউই ঘটনাস্থলে আসেনি বলে জানান ওই গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/পিএম

উপরে