আপডেট : ১৩ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৩:৪৭

বিদেশ ফেরত একজন সফল সবজি চাষী

সোহেল রানা স্বপ্ন, কুড়িগ্রাম থেকে:
বিদেশ ফেরত একজন সফল সবজি চাষী

সুষ্ঠু পরিকল্পনা, ইচ্ছাশক্তি আর শ্রমের সঠিক সমন্বয়ে যে কোন পেশাতেই মানুষ উন্নতির চরম শিখড়ে আহরণ করতে পারেন। তা যত ছোট বা বড় পেশাই হোক না কেন।

মানুষ যখন তার ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য হতাশ হয়ে ঘুরে ফিরছেন দেশে, কেউবা পাড়ি জমাচ্ছেন বিদেশে, এমন বাস্তবতায় খোদ বিদেশ থেকে ফিরে এসে দেশে নিজের ভাগ্যের চাকা ঘুরাচ্ছেন নিজের মতন করে এমন মানুষের সংখ্যাও নেহাতই কম নয়।

এমনই এক মানুষের প্রতিচ্ছবি জহুরুল ইসলাম। যিনি সীমিত জমির প্রতিইঞ্চি মাটির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে নিজে লাভবান হয়েছেন। স্বল্প সময়ে তিনি একজন সফল সবজি চাষি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। একই সঙ্গে অনুপ্রেরণার পথিক হয়ে পথ দেখাচ্ছেন অন্য কৃষকদের।

তার শুরুর গল্পটাও একটি ভিন্ন রকম।কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার টালুয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম।ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় অন্যান্যদের মত তিনিও পাড়ি জমিয়েছিলেন বিদেশে।

জীবনের ১০টি বছর বিদেশ বিভূইয়ে কাটানোর পরেও ভাগ্য পরিবর্তনের যুদ্ধে ফিরে আসেন দেশে।থেমে থাকার পাত্র নন তিনি।দেশের সোনার মাটিকেই তাই নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে নিয়ে কোমড়ে গামছা বেঁধে নেমে পড়েন কৃষি কাজে।শুরু করেন সবজি চাষ।

প্রথমবার অল্প লাভ পান, তাই বলে তিনি দমে যাননি।দ্বিতীয়বার একটু বেশি পরিসরে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ শুরু করেন। তাতেই বাজিমাত। আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

অভাব যেমন ছুটেছে, ফিরেছে সংসারে স্বচ্ছলতা, সেই সাথে হয়েছেন সফল সবজি চাষী। প্রতিবছর বাড়াচ্ছেন তার চাষের জমির পরিসর।এবার এক একরেরও বেশি জমিতে বিভিন্ন ধরণের সবজি চাষ করেছেন। ফলনও হয়েছে ভাল। অন্যান্য সবজির মধ্যে শুধুমাত্র লাউ বিক্রি করেই লাখ টাকা আয় করেছেন জহুরুল ইসলাম।

এছাড়াও বেগুন, কাঁচা মরিচ, টমেটো, গাজর, রসুন, বাটিশাক ও স্কয়াস পৃথকভাবে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা করে বিক্রি করেন।

এক্ষেত্রে সমন্বিত চাষকে প্রাধান্য দিচ্ছেন জহুরুল।তিনি জানান, বেগুন ক্ষেতে ধনিয়া ও স্কয়াস সবজি লাগানো হয়েছে। বেগুন তোলার সঙ্গে সঙ্গে ধনিয়া আর স্কয়াস তুলে ফেলা হয়। অপরদিকে, একই সঙ্গে কচু, গাজর, বেগুন এবং মরিচ লাগানো হয়েছে।

লাউয়ের মাচার নিচে বেগুনের চারা দেওয়া হয়েছে। লাউগাছ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেগুনের চারা তোলা হয়।

তিনি জানান, একইস্থানে আবার দুই ধরনের কচু ও লতিরাজ লাগানো হয়েছে। এভাবে জমির প্রতিইঞ্চি মাটির ব্যবহার করেন তিনি।

শুধু তাই নয়, বাড়িতে দুধেল গাভি ও ছাগল পালন করেন। জহুরুল ইসলাম বলেন, “আগে বুঝি নাই। মানুষ এমনি বিদেশে যাবার পারাপারি করে। বিদেশে না গিয়ে বাড়িতে বসেই টাকা রোজগার করা যায়।বিদেশ থেকে বাড়ি ফিরে ইতোমধ্যেই প্রায় ছয় লাখ টাকার জমি বন্ধক নিয়েছি।বন্ধকি জমিসহ এক একর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছি।এখন আর আমার ঘরে কোনো অভাব নেই।”

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাবিল উদ্দিনসহ টালুয়ারচর গ্রামের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জহুরুল ইসলামের এই সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে এখন অনেকেই বিভিন্ন সবজি চাষে নেমেছেন। পরিকল্পনা মাফিক পরিশ্রম করলে যেকোনো স্থান থেকেই লাভবান হওয়া যায় এলাকার মানুষ তা বুঝতে পেরেছে বলে জানান তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আজিজুল হক বলেন, “উপজেলার একজন সফল সবজি চাষি জহুরুল ইসলাম। আমাদের কৃষি বিভাগ জহুরুল ইসলামকে সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করেছে। তা ছাড়া সীমিত সম্পদ ও কৃষিপ্রধান এই দেশে কৃষির উন্নয়নে প্রতিইঞ্চি মাটির সর্বোচ্চ ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই, যা করে লাভবান হয়েছেন জহুরুল ইসলাম।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে

উপরে