আপডেট : ১২ জানুয়ারী, ২০১৬ ১২:২৩

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, আগামীকাল হরতালের ঘোষণা

বিডিটাইমস ডেস্ক
মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, আগামীকাল হরতালের ঘোষণা

১১ ডিসেম্বর সোমবার বিকালে শহরের জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার এক ছাত্র মোবাইল ফোন সেট কেনার জন্য জেলা পরিষদ মার্কেটের বিজয় টেলিকমে যান। সেখানে দাম নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে একপর্যায়ে দোকানদার ওই ছাত্রকে চড় মারেন। এ খবর পেয়ে ওই মাদ্রাসার অর্ধশতাধিক ছাত্র দোকানটিতে ভাঙচুর করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে শুরু হয় সংঘর্ষ।সংঘর্ষ চলাকালে শহরের বিভিন্ন স্থানে ৩০-৩৫টি হাতবোমা ফাটানো হয়। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে  ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিক্ষার্থী-ব্যবসায়ী-ছাত্রলীগ ও পুলিশের চতুর্মুখী সংঘর্ষে আহত এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জের ধরে মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাংচুর ও সড়ক অবরোধ করেছে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা। পরে তারা বুধবার জেলাব্যাপি হরতালেরও ডাক দেয়।

সকাল সাতটার পর থেকে রাস্তায় নামে মাদ্রাসার ছাত্ররা। এ সময় তারা বেশ কিছু স্থানে ইট পাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর করেছে। সকাল সোয়া ১০টার দিকে তারা থানা এলাকায় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। পরে তারা টিএ রোড, ফকিরাপুল, পৌর আধুনিক সুপার মার্কেট ও পুরাতন কাচারি এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে শহরে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে হাফেজ মাসুদুর রহমান (২০) নামে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। তিনি পৌর শহরের ভাদুঘর এলাকার হাফেজ ইলিয়াস মিয়ার ছেলে।

সোমবার রাতে সংঘর্ষের সময় মাসুদকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ভোর রাতে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মাইনুল হক বলেন, “মাসুদের বুকের বাঁ পাশে ও পেটের নিচে বাঁ দিকে আঘাতের চিহ্ন ছিল।”

১২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নজরুল ইসলাম বলেন, শহরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার এএসপি তাপস রঞ্জন ঘোষ বলেন, “শহরে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি।”

সোমবারের সংঘর্ষে আহত ২০ জনের মধ্যে পুলিশ সদস্য রাজীব চন্দ্র দাসকে (২৫) ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকিদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

উপরে