আপডেট : ৭ জানুয়ারী, ২০১৬ ২১:১৪
একজন স্বপ্নচারী তারিকুল

বিদেশে পড়াশোনা শেষে কাকড়াজানের জনসেবক

বিডিটাইমস ডেস্ক
বিদেশে পড়াশোনা শেষে কাকড়াজানের জনসেবক

মানুষ স্বপ্নে বাঁচে। ছোটবেলা থেকেই শুরু হয় সে স্বপ্নের দৌড়। তারপর এক সময় উড়ে বেড়ানো। বাড়ির আঙিনা, পরিচিত মাঠ, দূরের শহর ছাড়িয়ে সে স্বপ্ন পৌঁছে যেতে চায় বিদেশ বিঁভুইয়ে। স্বপ্নের চূড়ায় উঠে মানুষ নিজের জন্মভিটা ছেড়ে আবাস গড়ে বিদেশে। জড়িয়ে থাকতে চায় কাঙ্খিত সুখ আর জৌলুসে। তবে এর ব্যতিক্রমও আছে। যারা বিদেশের লোভনীয় হাতছানি ফেলে ছুটে আসে মাটির টানে। শান্তি খুঁজে পায় দেশের কাদামাটির গন্ধে। টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার ১নং কাকড়াজান ইউনিয়নের তারিকুল ইসলাম বিদ্যুৎ তাদেরই একজন।

ভালোবাসেন বিপদে-আপদে এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে। আবার এলাকার মানুষও তাঁকে খুব পছন্দ করেন। কোন ঝামেলা, বিপদ বা বুদ্ধি-পরামর্শ দরকার হলেই চলে আসেন বিদ্যুতের কাছে। এলাকার মানুষের কাছে তিনি অতি আপনজন।

হিতোপকারী এই যুবকের জন্ম ১৯৮১ সালে কাকড়াজান ইউনিয়নের তৈলধারা গ্রামে। পড়াশোনা করেছেন মালয়েশিয়ার লিংকন ইউনিভার্সিটিতে।  সেখানে হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে বিএসসি ডিগ্রী অর্জন করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি লিংকন ইউনিভার্সিটি ছাত্র ইউনিয়ন পরিষদের সভাপতিও ছিলেন তিনি। এসময় তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশী শিক্ষার্থী ও প্রবাসী শ্রমিকদের নানান সমস্যা সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

মালয়শিয়ার সব সুযোগ এবং সম্ভাবনা থাকা সত্বেও নাড়ির টানেই পড়াশুনা শেষে চলে আসেন নিজ গ্রামে। জীবিকা প্রয়োজনে শুরু করেন ব্যবসা। মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে অল্প সময়েই ব্যবসায় সাফল্য আসে তাঁর। তবে এ অর্থনৈতিক সাফল্য কেবল নিজের বা পরিবারের প্রয়োজনে সীমাবদ্ধ রাখেননি। অর্থনৈতিক সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে তিনি নিজ এলাকার দরিদ্র মানুষকে নিয়ে কাজ করার স্বপ্নকে বাস্তবে পরিনত করেন। তিনি হয়ে উঠেছেন একজন সাধারণ মানুষের সেবক। তাঁদের জন্য গড়ে তুলেছেন নিজস্ব তহবিল। সেখান থেকে দরিদ্র মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতা করছেন তিনি। বিভিন্নভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছেন মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দিরসহ সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনকে।

নিজ এলাকাকে নিরক্ষরমুক্ত করতে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছেন তিনি। এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নেও রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। বিডিটাইমসের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এলাকাবাসী তাঁকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায়। তবে জনপ্রতিনিধি হলে তিনি তাঁর ইউনিয়নকে দেশের অন্যতম আধুনিক মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি ইউনিয়নটিকে শতভাগ নিরক্ষরমুক্ত করতে কাজ করবেন।

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/পিএম/

উপরে