আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৫ ২০:১৪

দশ হাজার পরিবারে দুই হাজার কম্বল

সোহেল রানা স্বপ্ন, কুড়িগ্রাম থেকে
দশ হাজার পরিবারে দুই হাজার কম্বল

হঠাৎ করেই যেন নেমে এল হাড় কাপানো শীত।শীতের প্রকোপে ঘর থেকে বের হওয়াই দায় হয়ে উঠেছে শ্রমজীবী মানুষের। ছিন্নমুল মানুষগুলোর জন্য এটা যেন এক অভিষাপ। এই কনকনে শীত থেকে বাঁচতে বসে যাচ্ছে আগুনের সামনে। নিজেকে উষ্ণ রাখতে এটাই সবচে কার্যকর উপায় তাদের জন্য। 

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ।   তীব্র শীতে কষ্ট পাচ্ছে দিনমজুর ও ছিন্নমূল মানুষজন। দিনের বেশির ভাগ সময় শীতের চাদরে ঢেকে থাকে সূর্যের আলো। বিভিন্ন ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে মানুষগুলো । কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে অন্তত ১০ হাজার দুঃস্থ শীতার্ত পরিবার রয়েছে। সম্প্রতি সেখানে সরকারিভাবে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে মাত্র দুই হাজার ১০৪টি।

বরাদ্দকৃত সব কম্বল এরই মধ্যে বিতরণ শেষ করা হয়েছে।প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম হওয়ায় বিপাকে পড়েন ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বররা। রাজিবপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুর ই শাহী ফুল জানান, "আমার এলাকায় গরীব দুঃস্থ পরিবারের সংখ্যা ছয় হাজারের ওপরে। আর সেখানে আমাকে দেওয়া হয়েছে মাত্র ২৩৩ টা কম্বল, । এসব বিতরণ করতে গিয়ে আমরা খুবই সমস্যায় পড়ি।"

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রৌমারীর ছয় ইউনিয়নে ১৪০৪টি এবং রাজীবপুরের তিন ইউনিয়নে ৭০০টি কম্বল সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব কম্বল সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান-মেম্বারদের মাধ্যমে বিতরণ কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে।

 প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সাখাওয়াত হোসেন জানান, দুই উপজেলায় নিঃস্ব দুঃস্থ পরিবারের সংখ্যা অন্তত ১০ হাজার এর উপরে যাদের ঘরে গরম কাপড় নেই। আরো কম্বল ও শীতবস্ত্র বরাদ্দের আবেদন জানানো হয়েছে। রাজীবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ খান ও রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, জরুরিভাবে আরো কম্বল ও শীতবস্ত্র চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর ই-মেইল পাঠানো হয়েছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেএইচ/

উপরে