আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৮:৫৪

ড. কামাল এখন কার পক্ষে খেলছেন?

সাজ্জাদুল ইসলাম নয়ন
ড. কামাল এখন কার পক্ষে খেলছেন?

ঐক্যফ্রন্টের দায়িত্ব নিয়ে ড.কামাল মূলত স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতকে নতুন জীবন দেয়ার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যার হাত থেকে কথিত বন্দী গণতন্ত্র মুক্ত করে তিনি তা তুলে দিতে চাইছেন যারা একাত্তরে গণহত্যা চালিয়েছে, যারা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে; তাদের হাতে। এটা রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে দেশের আপামর জনসাধারণের কাছে দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই ড. কামাল বারবার বলে আসছিলেন, তিনি স্বাধীনতা বিরোধী কারো সাথে ঐক্য করবেন না। এটা শুধু মুখের কথা নয়। এটাই তার বিশ্বাস। তিনি বিএনপিকে বলেছিলেন জামায়াতকে ছেড়ে আসার জন্য। কিন্তু মির্জা ফখরুল তাকে বোঝাতে পেরেছিলেন, জামায়াতের নিবন্ধন নেই, তাই তাদের অস্তিত্বও নেই। আর ঐক্যফ্রন্টে আসছে শুধু বিএনপি, ২০ দল নয়। কিন্তু মনোনয়ন প্রক্রিয়ার সময় সব খোলাসা হয়ে গেল। ঐক্যফ্রন্টের নিয়ন্ত্রণ দৃশ্যত ড. কামালের হাত থেকে চলে গেল মির্জা ফখরুলদের হাতে। অদৃশ্যে নিয়ন্ত্রণ লন্ডনে নির্বাসনে থাকা তারেক রহমান ও জামায়াতের হাতে। আসন ভাগাভাগিতে নিবন্ধন হারানো যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াত ‘ধানের শীষ’ পেলো ২২ আসনে, আর বিএনপির লাইফলাইন হয়ে আসা ড. কামালের গণফোরাম পেলো ৭ আসন। সেদিনই আসলে আদর্শের লড়াইয়ে হেরে গেছেন ড. কামাল। তিনি এমন বিপাকে পড়েছেন। পরাজয় সইতেও পারেন না, কইতেও পারেন না।

তিনি যে হেরে গেছেন, সেটা আমরা দেখেছি শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌথে। জামায়াত নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি মেজাজ হারান। সাংবাদিককে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। খামোশ বলে মুখ বন্ধ করে দিতে চান। কিন্তু কয়জনের মুখ বন্ধ করবেন তিনি?

গত ২৬ ডিসেম্বর ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ড. কামালের যে সাক্ষাতকার নিয়েছে, তারাও কিন্তু একই প্রশ্ন করেছে। বাংলাদেশের সাংবাদিককে ‘খামোশ’ বললেও ভারতীয় সাংবাদিককে পারেননি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, ‘যদি জানতাম জামায়াত নেতারা বিএনপির প্রতীকে নির্বাচন করবেন, তাহলে আমি এতে যোগ দিতাম না। কিন্তু ভবিষ্যৎ সরকারে যদি জামায়াত নেতাদের কোনও ভূমিকা থাকে, তাহলে আমি তাদের সঙ্গে একদিনও থাকবো না।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘দুঃখের সঙ্গে আমাকে বলতে হচ্ছে জামায়াত নেতাদের মনোনয়ন দেওয়াটা বোকামি। আমি লিখিত দিয়েছি যে, জামায়াতকে কোনও সমর্থন দেওয়া এবং ধর্ম, মৌলবাদ, চরমপন্থাকে সামনে আনা যাবে না।’

দেরিতে হলেও ড. কামাল বাস্তবতা উপলব্ধি করেছেন, সত্যটা স্বীকার করেছেন বলে তাকে ধন্যবাদ। দেশের মিডিয়াকে খামোশ বললেও যৌক্তিক প্রশ্নের উত্তরটি ভারতীয় মিডিয়াকে দেরিতে হলেও তিনি দিয়েছেন।

ভারতের সঙ্গে বিএনপি’র সম্পর্কের বিষয়ে ড. কামাল বলেন, ‘ভারতকে বিএনপি বলেছে, তারা ভুল ছিল। খালেদা জিয়া যখন ভারত গেলেন, তখন তিনি তাদের এটা বলেছেন। এটা তাদের ভুল উপলব্ধির প্রক্রিয়ার অংশ, খালেদা জিয়া নিজেদের অবস্থান সংশোধন শুরু করেছেন।’

ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রী হবেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি, হ্যাঁ বা না বলবো না। কিন্তু  গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কোনও পদ ও বেতন ছাড়াই কাজ করতে আগ্রহী।’

নির্বাচনের বিষয়ে কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি ভোটের দিনের অপেক্ষায় আছি। ভোটের দিন একটি স্বাধীনতার দিন। যদি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় তাহলে তা হবে দ্বিতীয় স্বাধীনতার দিন। এখন, গণতন্ত্র বিপদগ্রস্ত। যদি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তাহলে স্বাধীনতা অর্থপূর্ণ হবে।’

দেশের জনগণকে ভোটের দিন সকাল সকাল কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট বিপ্লব করার আহবান জানিয়েছেন ড.কামাল। তাঁর এই ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাওয়া মানে কিন্তু জামায়াতের ২২ জনের পক্ষেও ভোট চাওয়া। ভোট বিপ্লব করে জনগণ যদি ঐক্যফ্রন্টকে বিজয়ী করে তবে ক্ষমতায় আসবে জামায়াত-বিএনপি। দেশের দায়িত্ব নেবেন মির্জা ফখরুল, সাঈদী, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানরা। এটাই কি ড. কামালের নতুন স্বাধীনতা?

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে