আপডেট : ৭ নভেম্বর, ২০১৮ ১৭:০১

তবে কী বিএনপির কর্তৃত্ব চলে যাচ্ছে অন্য কারও হাতে?

সাজ্জাদুল ইসলাম নয়ন
তবে কী বিএনপির কর্তৃত্ব চলে যাচ্ছে অন্য কারও হাতে?

বিএনপির শীর্ষ পদে থাকতে পারছেন না খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান। দলীয় গঠনতন্ত্র সংশোধনের বিষয়ে আদালতের দেওয়া নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় পদ হারাচ্ছেন তাঁরা। এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশনার বাইরে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) করণীয় কিছু নেই। আদালতের এই নির্দেশনার ফলে মূলত জিয়া পরিবারের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে বিএনপি।

বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা অনুযায়ী ‘সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যক্তি’ বিএনপির কোনো পদে থাকার অযোগ্য হিসেবে গণ্য হতেন। কিন্তু বিএনপির গঠনতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন করে গত ২৮ জানুয়ারি ইসিতে দাখিল করা হয়। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার প্রাক্কালে গঠনতন্ত্রে ওই সংশোধনী আনে বিএনপি।

বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধন বিষয়ে এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩১ অক্টোবর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রিট আবেদনটি ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেন। ওই আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করারও নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে রাজনীতি থেকে আপাত দৃষ্টিতে মাইনাসই হলেন খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলে তারেক রহমান।

এদিকে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে সংগত কারণেই বিএনপির কর্তৃত্ব চলে গেছে ড. কামালের হাতে। আর তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের দলছুট নেতারা। সরকারবিরোধী বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গত ১৩ অক্টোবর গঠিত হয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার মইনুল ইসলাম, মাহমুদুর রহমান মান্না, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, আ স ম আব্দুর রব, মোস্তফা মহসিন মন্টু এরাই মূলত নতুন এই জোটের নেতৃত্বে আছেন। এদের সবাই এক সময় আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ছিলেন। তাঁদের এই জোটে যোগ দিয়েছে দেশের অন্যতম বিরোধীদল বিএনপি।

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নতুন করে রাজনৈতিক মেরুকরণের এই খেলা চলছে বেশ কয়েক মাস ধরে। এ খেলা নির্বাচনের দিন পর্যন্ত চলবে। শেষ মুহূর্তেও দেখা যাবে রাজনৈতিক ট্রাম্প এবং পাল্টা ট্রাম্প কার্ডের খেলা। যে দলগুলো এই খেলা খেলছে তাদের কারোরই কোনো রাজনৈতিক আদর্শ নেই। এদের সবার মধ্যে একটা বৈশিষ্ট্য কমন- আওয়ামী লীগ বিরোধিতা। আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করাই এদের আদর্শ। জনবিচ্ছিন্নতার কারণে তাদের ভর করতে হয়েছে জামায়াত-বিএনপি জোটের ওপর। কারণ ভোট যা আছে তা জামায়াত-বিএনপির। এই ভোট ব্যাংকই জনসমর্থনহীন এই নেতাদের দরকার।

ড. কামাল হোসেন ও অন্যদের সঙ্গে জোট হওয়ায় বেশ চাঙ্গা হয়েছে জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা। জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মী-সমর্থকরা চাঙ্গা থাকতে পারলে তাদের বাক্সে ভোট বেশি পড়বে; বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিতে উৎসাহিত হবে। আওয়ামী লীগও চায় আগামী নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে, যা আদতে আওয়ামী লীগের সাফল্য হিসেবেই দেশের সাধারণ মানুষ ও আন্তর্জাতিক মহলের কাছে বিবেচিত হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শর্ত মেনেই নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। এবং এই জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিতে আসতে পারবে না। তাই যদি হয়, তবে সহসা জেল থেকে মুক্তি পাবেন না খালেদা জিয়া; দেশে ফিরতে পারবেন না তারেক রহমান।

ঐক্যফ্রন্টের ফলাফল হতে পারে- ড. কামাল, রব, মান্না গং এবং কয়েকজন ধানের শীষধারী জামায়াতসহ জাতীয় সংসদে বিএনপির ফিরে যাওয়া, সংসদ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠা। দীর্ঘকাল সংসদে বসার সুযোগ না পাওয়া ড. কামালের ব্যক্তিগত লাভ হবে যে, তিনি জাতীয় সংসদে একটা বড় অংশের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাবেন। দীর্ঘমেয়াদি ফল হতে পারে- ড. কামাল হোসেন ধীরে ধীরে বিএনপির নেতৃত্বে পুরোপুরি আসীন হবেন; বিএনপি থেকে বাদ পড়ে যেতে পারে জিয়া পরিবার।

লেখক- সাংবাদিক ও কলামিস্ট

উপরে