আপডেট : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৬:০৯

কী বললাম, আর কী ছাপা হলো!

আসিফ নজরুল
কী বললাম, আর কী ছাপা হলো!

আমি ১ সেপ্টেম্বর-এর আগে কয়েকটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলাম। আমাকে বিএনপির ৪০ বছরের মূল্যায়ন করতে বলা হলো। বললাম যে, নজিরবিহীন জুলুম, মামলা-হামলা এবং দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিতর্কিত বিচারের মাধ্যমে আটকে রাখার পরও বিএনপি যে এখনো এতো জনপ্রিয়, এখনো যে তাদের মধ্যে কোনো ভাঙন আসেনি, এগুলো বড় সাফল্য।

দেশে আওয়ামী লীগের দুঃশাসন বিরোধী যে সুবিশাল জনগোষ্ঠী আছে তাদের অধিকাংশের কাছে বিএনপি এখনো সবচেয়ে পছন্দের দল। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপির বিজয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে আমার এ ধারনার কথা বললাম।

সাংগঠনিক কাঠামো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিএনপির দুবর্লতা আর ২০১৪ পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগের কথাও বললাম। বললাম, বিএনপির উচিত জামায়াতকে বাদ দিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলা আর সুশাসনের নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি দেয়া।

পরে দেখি ছাপা হয়েছে শুধু বিএনপির সমালোচনার অংশগুলো। পুরো প্রতিবেদন সমালোচনায় ভরপুর, আমার কথাগুলো কেটে কেটে জুড়ে দিয়ে সেটাকে বিশ্বাসযোগ্য করার চেষ্টা হয়েছে শুধু। বিএনপির সাফল্য আর সবলতার কথা যা বললাম তার এককণাও ছাপা হলো না।

এই এজেন্ড সেটিং সাংবাদিকতা দেশে চলছে ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর থেকে। একটি উদাহরণ দিচ্ছি। বিবিসির ওয়েবপেজ-এ গেলে দেখবেন ‘বিএনপির ৪০ বছরের পথচলা’ শিরোনামে একটি ফটো-রিপোর্টিং আছে। সেখানে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনকে বলা হয়েছে বিতর্কিত, কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচন প্রসঙ্গে সেটিকে আর বিতর্কিত বলা হয়নি। অথচ এ’দুটো নির্বাচন একই কারণে বিতর্কিত। বিনা ভোটে নির্বাচন আর বর্জনকারী দলের বিচারে ২০১৪ সালের নির্বাচন আরো বেশি বিতর্কিত এবং অগ্রহণযোগ্য। সেটিকে তাহলে বিতর্কিত লিখলো না কেন বিবিসি? বিবিসি যদি এটি করে তাহলে এ-সরকারের আমলে লাইসেন্স পাওয়া মিডিয়াগুলো কি করছে ভেবে দেখুন।

[লেখাটি ড. আসিফ নজরুলের ফেসবুক পেইজ থেকে নেয়া]

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে