আপডেট : ২০ নভেম্বর, ২০১৭ ১৬:০৭

মাফ করা না করার রাজনীতি

অজয় দাশগুপ্ত
মাফ করা না করার রাজনীতি

আজ আমরা যখন প্রায় রাজনীতি বর্জিত একটি সমাজ দেখছি তখন অনেকেই বিরোধী দলহীনতার জন্য আওয়ামী লীগ বা সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে দিতে ভালোবাসেন। এটা মানি সরকারের কিছু কাজ আছে যাতে বিএনপিকে দমানোর চেষ্টা দেখি। সেটা কি বিএনপি আমলে দেখিনি আমরা?

অতীতে যেতে চাইনা। সবাই জানেন কে কিভাবে কাকে সাইজ করতে চেয়েছিল। কারা রাজপথে গ্রেনেড হামলার মত অসভ্য বর্বর কাজ করেছিল। ফলে আমাদের চোখ বন্ধ রেখে মধ্যবিত্তের মুসলিম লীগ কায়দায়  আওয়ামী লীগকে দোষ দিলেই সমাধান মিলবে না। ভেবে দেখুন বিএনপি যদি আওয়ামী লীগকে এভাবে চেপে ধরতো বা চেপে ধরেছিল যখন তখন কি তারা ঘরে ঢুকে গিয়েছিল? রাজপথে তাদের জোর বা তাদের পজিশন প্রমাণ করে তারা আসলেই মাঠের দল। গ্রামে মহল্লায় মাঠে ময়দানে তাদের নেতা কর্মী আছে। তাদের এই শেকড় তাদের পরাজিত হতে দেয় না।

অন্যদিকে বিএনপির জনপ্রিয়তা মূলত স্বার্থনির্ভর। স্বার্থ বলতে যারা বাংলাদেশের জন্মপ্রক্রিয়া ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল তারা সবাই জায়গা খুঁজছিলো কোথাও দাঁড়াবার। আজ এরা নানাভাবে বিভক্ত এবং পরাজিত। ফলে তাদের সেই আগ্রহ বা মোহ কোনটাই নাই। না থাকার কারনে ভেতরে যত প্রিয় ই হোক বিএনপির মাঠে নামার মানুষ নাই বললেই চলে। সেটা আমরা গত কয়েকবছরে বারবার দেখেছি।

বলছিলাম রাজনীতির পথহারানোর এই কালে আমরা কি বিএনপি নামের বড় দলটিকে একবার ও অভিযুক্ত করবোনা কেন তারা তাদের ভূমিকা পালনে ব্যর্থ। বেগম জিয়ার বয়স হয়েছে। তিনি এদেশের  একাধিকবারের প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে অযথা অপমান বা কটু কথা বলার দরকার নাই। যা বলবো যুক্তি তর্কে বলবো।

বেগম জিয়া এখনো আগের ভাষায় কথা বলছেন। তিনি বলছেন শেখ হাসিনাও আওয়ামী লীগকে নাকি মানুষ করবেন। মাফ করে দিয়েছেন। এই মাফ করে দেয়ার বিষয়টা আসলেই হাস্যকর। কে তাঁর কাছে মাফ চেয়েছে? আগ বাড়িয়ে মাফ করে দিলাম বলাটা কি নিজের দুর্বলতার পরিচায়ক না? এখানে মাফ বা প্রতিশোধ নেয়ার কথা আসছেই বা কেন? তিনি যখন বলেন আমরা দেশশাসনে গেলে প্রতিশোধ নেবো না তখন মনে হয় তিনি কাউকে আশ্বস্ত করতে চাইছেন।

নি:সন্দেহে সেট আওয়ামী লীগ নয়। কারন আওয়ামী লীগ তাঁকে বা বিএনপির কথাকে কতটা বিশ্বাস করে সেটা তাঁরা খুব ভালো জানেন। আসলে এটি তিনি বলেন দেশের বাইরের শক্তির জন্য। যাদের কাছে বিএনপির ইমেজ একটি প্রতিশোধ গ্রহনকারী দল হিসেবে পরিচিত। কিন্তু শুধু কথায় কি চিড়ে ভেজে?  তাঁর দল ও দলের কর্মকানড এখন কারো অজানা না। তাছাড়া বিশ্বায়নের এই যুগে তাঁকে এটাও মনে রাখতে হবে দোষারোপের রাজনীতি মানুষ আর খায় না।

আমাদের ধারণা ছিলো চলমান সমস্যা সাম্প্রদায়িকতা গুম  হত্যা কিংবা দ্রব্যমূল্য বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেবে বিএনপি। মানুষ যে নতুন কিছু শুনতে চায় সেটাই আমলে নিলেন না তারা। তাদের সেই ভাঙ্গা রেকর্ড। আওয়ামী লীগের বেলায় ও আমরা একি দৃশ্য আর আওয়াজ পাই। কিন্তু যখন পরস্পর বিরোধী দুটো দল মাঠে নামে মানুষ আশা করে জবাবদিহিতার প্রশ্নে একে অপরের বিপরীতে দাঁড়িবে জনগণকে সত্য জানাতে বাধ্য করবে। আমার ধারণা এই বিষয়টি বিএনপি এখন আর বোঝেই না।

ভাষণ কিংবা জনসমাবেশের দিকে তাকালেই বোঝা যাবে এখানে দুটো বিষয় কাজ করেছিল, এক- শো ডাউন। দুই- আওয়ামী লিগের বিরুদ্ধে কথা বলে নিজেদের গদী হারানোর দু:খ ভুলে থাকা। ম্যাডাম জিয়া ভুলে গেছেন সে এখন দূর অতীত।  আসলে যারা আগামী দিনের ভোটার তাদের মনে বিএনপি এখন কোন ছায়াও ফেলে না। তারা ভুলে গেছে এ দল একদা দেশশাসনে ছিলো। বলবো নিজেদের অতীতের কথা ভাবুন। একদম কিছু না থাকলে ইতিহাসের জোরেও অনেকদূর যাওয়া যায়। সে সম্ভাবনাও আপনারা পায়ে দলে দিয়েছেন পাওয়ারের জোরে। আজ সেই পাওয়ার নাই আর ঘোষক ও নাই। মুক্তিযুদ্ধের ফাউ খেতে গিবে আসল হারানো বিএনপির তাই এখন শিরে সংক্রান্তি।

আপনি কাকে মাফ করছেন? কেন মাফ করছেন? আপনি এমন একটা কারন দেখান যেখানে আপনাকে আক্রমন করা হয়েছে শারিরীক ভাবে? আর শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড মেরে মেরে ফেলার মত জঘন্য কাজ করেছে আপনার দলের লোকেরা। তাঁকে নানাভাবে দুনিয়া থেকে সরানোর চক্রান্তে কারা দায়ী সেটা কি মানুষ বোঝেনা? ওয়ান ইলেভেনের নায়কদের কাছ থেকে আপনারা কেন শাসনভার পাননি? সেটা তাদের কাছে  প্রশ্ন রাখুন।

আমরা আওয়ামী লীগ করিনা কিন্তু এটা জানি শেখ হাসিনাকে মাফ করে দেবার মত কথা বলার ভেতর প্রচ্ছন্ন একটা সত্য আছে। যার মানে এমন কিছু আপনারা করছেন বা করতে চেয়েছেন যাতে কামিয়াব না হ ওয়ায় এখন সাধু সাজার চেষ্টা চলছে। সত্যি যদি মার্জনার রাজনীতি চালু হয়তো হতে হবে আপনাদের নিজের বিবেক থেকে। সেটা সরকারী বেসরকারী সব দলের জন্য প্রযোজ্য বাংলাদেশ ও দেশের বাইরের বাঙ্গালি প্রতিহিংসার রাজনীতি দেখতে দেখতে ক্লান্ত। তারা চায় রাজনীতিতে সুন্দর ও স্বাভাবিকতা ফিরে আসুক। যার অনেকটাই আপনাদের ওপর নির্ভরশীল। আপনার সেদিন সমাবেশে কোন দিকনির্দেশনা দেয়ার পরিবর্তে মাফ করে দেয়ার কথা বলছেন আবার এও বলছেন শেখ হাসিনার অধীনে কোন  নির্বাচনে যাবেন না। যার মানে আগের কথাটা বানোয়াট। বা তাতে আপনাদের বিশ্বাস নাই। এই দ্বৈততা মানুষ বোঝে।

লেখক: সিডনি প্রবাসী, কলামিস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষক

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে