আপডেট : ৬ এপ্রিল, ২০১৬ ২২:৩০

‘পয়লা বৈশাখে ইলিশ মাছকে রেহাই দেন’

২০১৩ সালের পহেলা বৈশাখ নিয়ে লেখাটি লেখকের ফেসবুক পেজে দেওয়া হয়েছিলো...আবারো আসছে পহেলা বৈশাখ, পাঠকদের জন্য লেখাটি আবার দেয়া হলো-
মাহবুব মোর্শেদ
‘পয়লা বৈশাখে ইলিশ মাছকে রেহাই দেন’

অর্থনীতি বিষয়ক বাংলা দৈনিক বণিক বার্তার নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি শরিফ সুমন ১৫ এপ্রিল মোতাবেক ২ বৈশাখ ১৪২০ তারিখে খবর দিয়েছেন, ‘গত এক মাসে কোস্টগার্ড এ তিনটি জেলার বিভিন্ন নদীতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৮ হাজার টন জাটকার চালান আটক করে। উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ মিটার কারেন্ট জাল। তার পরও থেমে নেই জাটকা বিক্রি। জানা গেছে, দক্ষিণের জেলা বরিশাল, ভোলা, চাঁদপুর, শরীয়তপুর, পটুয়াখালীর বিভিন্ন নদী হচ্ছে জাটকার অভয়ারণ্য। এসব স্থান থেকে প্রতিদিন স্থানীয় জেলেরা শত শত টন জাটকা ধরে মহাজনদের কাছে বিক্রি করছে। অন্যদিকে ধরাপড়া জাটকার মূল্য স্থানীয়ভাবে কম হওয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীরা তা কিনে নিয়ে উচ্চমূল্যে ঢাকা বা নারায়ণগঞ্জসহ দেশের অন্যান্য জেলায় বাজারজাত করছে।‌’

এই আঠারো হাজার টনই শেষ কথা নয়। পয়লা বৈশাখ কেন্দ্র করে কত হাজার টন ছাপা ইলিশ যে ধরা হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। এই ইলিশ নিধনের পেছনে পয়লা বৈশাখের ইলিশ-সংস্কৃতিই যে মূলত দায়ী তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পয়লা বৈশাখের এই ইলিশ বিকৃতি পরিত্যাগ করার সময় হয়েছে এখন। পয়লা বৈশাখে ছানা ইলিশ নিধন প্রক্রিয়া চলতে থাকলে শীঘ্রই ইলিশ বিলীন হয়ে যাবে।

বাংলাপিডিয়া জানাচ্ছে, ইলিশ মাছ বছরজুড়ে কমবেশি ডিম ছাড়লেও ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ অব্দি একটি ছোট ডিম ছাড়ার পর্ব থাকে আর সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর অব্দি সময়টাকে ইলিশের প্রধান ডিমদানের মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। ইলিশ নদীতে ডিম ছাড়ে, নদীতেই ডিমগুলো থেকে বাচ্চা ইলিশের জন্ম হয়। ছোট ইলিশ খাদ্য ও অন্য জৈবিক প্রয়োজনে সমুদ্রের দিকে যাত্রা করে। সমুদ্রে পরিণত হওয়ার পর আবার তাদের নদীযাত্রা শুরু হয়। একটি ইলিশ পরিণত হতে এক থেকে দুই বছর সময় লাগে। মুখ্যত, প্রজনন প্রক্রিয়ার কারণেই ইলিশ নদীতে প্রত্যাবর্তন করে। বাংলাদেশের জেলেরা সমুদ্রযাত্রার সময় বাচ্চা ইলিশ ধরেন। বলাবাহুল্য, এটি আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। বড় ইলিশের নদীযাত্রার সময় ইলিশ-শিকার বৈধ হলেও ডিম ছাড়ার সময়ে নির্দিষ্ট কিছুদিন সরকারি আদেশে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকে। পরিণত ইলিশ ধরার উপযুক্ত সময় মে থেকে অক্টোবর। ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত যে মাছ ধরা হয় তা অপরিণত, একে জাটকা বলে আখ্যায়িত করা হয়। এ মাছ ধরা বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়। বাঙালির নতুন বছর শুরু হয় মধ্যএপ্রিলে। হিসাব অনুযায়ী, এ সময় ইলিশ জাটকা অবস্থায় থাকার কথা। এ সময় জেলেদের যেমন ইলিশ ধরার কথা নয়, তেমনি ভোক্তাদেরও ইলিশ খাওয়ার কথা নয়।

বিশেষজ্ঞরা এখন পরামর্শ দিচ্ছেন, নদীতে ইলিশের সংখ্যা যেভাবে কমছে তাতে ৫০০ গ্রামের নিচের ইলিশ ধরাই ঠিক নয়। ইলিশের প্রজনন স্থানের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ে জাল ফেলাও অনুচিত। কিন্তু, বাংলাদেশের বাঙালিরা মধ্যএপ্রিলের বাংলা নতুন বছরে রীতিমতো ইলিশ মাছ খাওয়ার উৎসব করেন। যা পয়লা বৈশাখের পান্তা-ইলিশ উৎসব নামে বিখ্যাত হয়েছে। ঘরে যখন নতুন ধান ওঠে তখন নবান্ন উৎসব হওয়ার কথা, যখন চেরি ফুল ফোটে তখন চেরিব্লুজম হয়। সবদেশে সবকালেই এই নিয়ম। শীতকালে কেউ রৌদ্রস্নানের প্রস্তাব করেন না। কিন্তু, শহুরে বাঙালি কেন অকালে ইলিশ মাছ খাওয়ার উৎসব চালু করলো তা বোধগম্য নয়। আর অবাস্তব এ উৎসবটি কেন অব্যাহত আছে তাও বোধগম্য নয়। তবে এটুকু বোধগম্য যে, অকালে ইলিশ খাওয়ার উৎসব ইলিশের বাজারে একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি করেছে। ভরা মৌসুমেই যেখানে ইলিশ নিয়ে কাড়াকাড়ি যেখানে অমৌসুমে কী অবস্থা হবে তা সহজবোধ্য।ইলিশ মাছ খাওয়ার যে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সংস্কৃতি তাতে বছরের এ সময় ইলিশ খাওয়ার চল নেই। পশ্চিমবঙ্গে বর্ষায় ইলিশ-পার্বণ চলে। বর্ষার মাছের উৎসব তো বর্ষাতেই শ্রেয়। বাঙালি হিন্দুর যে ধর্মীয় উৎসবগুলোতে ইলিশ লাগে সেগুলো সব ইলিশের মৌসুমেই।

মৌসুমের বাইরে পয়লা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ সংস্কৃতি ঐতিহ্যবাহী কোনো আচার নয়। বরং বহু বাঙালি পরিবার আগে এ সময়টিতে ইলিশ মাছ এড়িয়ে চলতো। ঢাকার শহুরে বাঙালিদের কেউ কেউ আগপিছ না ভেবে আচমকা পান্তা-ইলিশের চল শুরু করেছিলেন আশির দশকে। ১৪ এপ্রিল ২০১১ তারিখে বিডিনিউজ২৪-এ প্রকাশিত রমনা বটমূলে পান্তা-ইলিশের সূচনা লেখায় সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল লিখেছেন, “১৯৮৩ সাল। চৈত্রের শেষ। চারিদিকে বৈশাখের আয়োজন চলছে। আমরা আড্ডা দিতে পান্ত-ইলিশের কথা তুলি। বোরহান ভাই রমনা বটমূলে পান্তা-ইলিশ চালুর প্রস্তাব দিলেন, আমি সমর্থন দিলাম। ফারুক মাহমুদ পুরো আয়োজনের ব্যবস্থা করলেন। সম্ভবত ৫ টাকা করে চাঁদা ধরলেন। বাজার করা আর রান্না বান্নার দায়িত্ব দিলেন বিপ্লব পত্রিকার পিয়নকে। রাতে ভাত রেঁধে পান্তা তৈরি করে, কাঁচামরিচ-শুকনো মরিচ, পেঁয়াজ, ইলিশ ভাঁজা নিয়ে পর দিন ‘এসো হে বৈশাখে’র আগেই ভোরে আমরা হাজির হলাম বটমূলের রমনা রেষ্টুরেন্টের সামনে। মুহূর্তের মধ্যে শেষ হলো পান্তা-ইলিশ। এভাবে যাত্রা শুরু হলো পান্তা ইলিশের।‌’’

এ লেখাটি প্রকাশিত হওয়ার পর কেউ-ই প্রতিবাদ করেননি, পয়লা বৈশাখে ইলিশ-সংস্কৃতি চালুর ব্যাপারে আর কোনো দাবিদারও নেই। ধরে নেওয়া যায়, মোটামুটি এভাবেই পান্তা ইলিশের প্রচলন হয়। যারা এ সংস্কৃতি চালু করেছিলেন তাদের মধ্যে এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন জাগেনি। এপ্রিলে ইলিশ মাছ ধরা অনুচিত এ সচেতনতাও তৈরি হয়নি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রমনা বটমূলে বৈশাখ উৎসবের আয়োজন প্রতিষ্ঠান ছায়ানট উৎসবের স্থানে পান্তা-ইলিশ নিরুৎসাহিত করছে। শোনা যায়, ইলিশ রক্ষা করতেই তারা এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন।ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ইলিশ অপরিণত অবস্থায় থাকে এবং জাটকা মাছ ধরা নিষিদ্ধ, ধরে নেওয়া যায় জাটকা খাওয়াও অপরাধ হিসেবে গণ্য। কিন্তু অন্য উপায়ে সংরক্ষিত মাছ খাওয়ায় তো কোনো বাধা নেই।

আশির দশকে ইলিশ সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা চালু না হলেও এখন সংরক্ষণাগার তৈরি হয়েছে। বিক্রেতারা সংরক্ষিত মাছ বছরজুড়ে বিক্রি করেন। নিজেদের উদ্যোগে বরফ দিয়ে মাছ সংরক্ষণের উদ্যোগও বিক্রেতাদের আছে। এ সংরক্ষণের পদ্ধতি কতটা স্বাস্থ্যসম্মত ও এতে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহৃত হয় কি না সে প্রশ্ন আপাতত তোলা থাক। সংরক্ষিত মাছ কতটা সুস্বাদু সে নিয়েও আলোচনা কেউ শুনবে বলে মনে হয় না।

ইলিশ-রসিকরা বলেন, টাটকা ইলিশ রেফ্রিজারেটরে রাখলেই এর স্বাদ অর্ধেক কমে যায়। মৌসুমের পর বছরখানেক সংরক্ষণ করার পর ইলিশ বলতে যা অবশিষ্ট থাকে তা ইলিশ নাকি ইলিশের স্মৃতি সে প্রশ্ন তাই সঙ্গত। আপাতত সংরক্ষিত ইলিশ কতটা সুলভ বা দুর্লভ তা নিয়েই বরং আমাদের আগ্রহ। সাম্প্রতিক সময়ে ইলিশের দাম নিয়ে যেসব খবর ছাপা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, ইলিশের দাম মোটামুটি আকাশ ছুঁয়েছে। একটা ইলিশের দাম দেড় হাজার থেকে পাঁচ হাজার পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে। নববর্ষ সবার উৎসব, ইলিশ খাওয়া যদি উৎসবের রীতি হয় তবে কেউ খাবে কেউ খাবে না তা তো হয় না। ফলে, যার আগের মৌসুমের সংরক্ষিত ইলিশ কেনার সাধ্য নেই তার জন্য আসছে এ বছরের ছোট ইলিশ বা জাটকা। বৈশাখে ইলিশ খাওয়ার আয়োজন অসংখ্য ইলিশকে শিশু অবস্থাতেই ধ্বংস করে দিচ্ছে। অবশ্য, মিয়ানমার থেকে ইরাবতির ইলিশের চালানও আসছে। সে ইলিশের দাম তুলনামূলকভাবে কম হলেও খুব কম নয়। অবশ্য বাঙালি পদ্মা বা গঙ্গার বাইরের ইলিশ সদৃশ মাছকে ইলিশ বলে স্বীকার করতেই নারাজ।

পঞ্চতন্ত্রে সৈয়দ মুজতবা আলী লিখেছেন, ‘গঙ্গা উজিয়ে যেটা আসে বা একদা আসতো, সেটা ইলিশ— হিলসা। নর্মদা উজিয়ে ঐ মাছই যখন আসে তখন ব্রৌচের লোক এটাকে বলে মদার, পার্সিরা বলে বিম্। সিন্ধু উজলে এই মাছকেই বলে পাল্লা।‌’মুজতবা আলীর যুক্তিতে মিয়ানমারের ইলিশও ইলিশ নয়। কিন্তু নিরুপায় হয়ে বহু বাঙালি মিয়ানমারের ইলিশকেই ইলিশ গণ্য করছেন। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে বাঙালিরা গতবছর ইলিশ সঙ্কটে মিয়ানমারের দারস্থ হয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে ইলিশের বিশেষ চাহিদা ও কদর, আর তারা চান বাংলাদেশের ইলিশই। বাংলাদেশে অনেক মাছ রফতানিও হয়েছে। কিন্তু গতবছর রমজানে দেশের বাজারের মাছের দামের উর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে এবং ইলিশ নিয়ে বাংলাদেশের বাঙালিদের হা-হুতাশ দেখে সরকার ইলিশ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছিল। ২০১২’র ৩১ জুলাই নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়। নিষেধাজ্ঞার পরও চোরাপথে ইলিশ রফতানির খবর মিলেছে। কিন্তু চোরাপথে যাওয়া ইলিশে তো সম্পূর্ণ চাহিদা মিটবে না। ফলে, দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে মিয়ানমারের ইলিশের দিকে ঝোঁকে পশ্চিমবঙ্গ। গত বছর দূর্গা পূজায় মিয়ানমারের ইলিশের ওপর নির্ভর করতে হয় তাদের। ভারত-আসিয়ান বাণিজ্য চুক্তির আওতায় পূজার ঠিক আগে তড়িঘড়ি বিমানে করে মাছ আমদানী করে ভারত। সে ইলিশ কেজিপ্রতি ভারতীয় মুদ্রায় ৭শ-৮শ টাকায় বিক্রি হয়।

গতবছর ইলিশ নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে বেশ একটা টানাপোড়েন গেছে। পশ্চিমবঙ্গে বাঙালিরা যেমন বাংলাদেশের বাঙালিরাও তেমন- রসনা তৃপ্ত করার মতো পর্যাপ্ত ইলিশ গত মৌসুমে জোটেনি। মাছের দাম ভরা মৌসুমেও খুব একটা কমেনি। অল্প যে কয়দিন ইলিশ সুলভ ছিল সে সময়টাতেও দাম ছিল আকাশ-ছোঁয়া। ইলিশের উৎপাদনের কমতির মধ্যে একটা বড় উপদ্রব যে বৈশাখের চাহিদা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বেশি লাভের আশায় ঘাটতি ইলিশ থেকেই একটা বড় অংশ বৈশাখের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা গত কয়েক দশকে নিশ্চিত বুঝে গিয়েছেন, বাঙালির এ অকাল ইলিশ ভোজন সহজে দমবার বস্তু নয়। তাই মৌসুমের ইলিশ রেখে দিয়ে বৈশাখে বহুগুণ মূল্য জুড়ে বাজারে ছাড়া হয়। ফল কী? বাঙালি মৌসুমেও ইলিশ খেতে পারছে না, বৈশাখেও ইলিশ খেতে পারছে না। অথচ উৎপাদিত ইলিশের সবটা মৌসুমে ছাড়া হলে দাম কমতো, রসনাবিলাসীরা প্রকৃত ইলিশের স্বাদও পেতে পারতো।ইলিশ নিয়ে তুমুল টানাপোড়েনের মধ্যেও সবাই স্বীকার করে নিয়েছেন, ইলিশের ফলন কম, তাই কমতিটা বাস্তব। আর ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে কাজ করে যেতে হবে। এ নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাবও এসেছে। ইলিশের প্রজনন বাড়ানোর উপায় কী? বলা হচ্ছে, নদীতে পানিপ্রবাহ ঠিক রাখতে হবে। ডিমছাড়ার মৌসুমে ইলিশ ইলিশ ধরা যাবে না। আর ইলিশ যাতে ডিম ছাড়ার মতো লায়েক হয় সেজন্য ইলিশকে পরিণত হতে দিতে হবে। শুধু নির্দিষ্ট কয়েকদিন মাছ ধরা বন্ধ করলে লাভ নেই। কারণ, ওই সময়ে ডিম ছাড়ার মতো পর্যাপ্ত মাছ তো থাকতে হবে। এজন্য মৌসুমের আগে অপরিণত মাছ ধরা একেবারে বন্ধ করতে হবে। পয়লা বৈশাখে ইলিশ খাওয়ার তোপে বহু অপরিণত মাছ ধ্বংস হয়। তাই পয়লা বৈশাখে ইলিশকে রেহাই দেয়াটাই শ্রেয়।

ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে নববর্ষে ইলিশ খাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। পান্তা খাওয়া যেতেই পারে, ধানের ফলনও ভাল হয়েছে। পান্তার সঙ্গে অন্য কোনো মাছ বা ভর্তাভাজির চল হতে পারে। কিন্তু, ইলিশকে কে রেহাই দেবে? বুঝে হোক, না বুঝে হোক- গণমাধ্যমে যেভাবে পান্তা-ইলিশের মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হচ্ছে তাতে ইলিশের দিন শেষ হতে সময় লাগবে না। আর দিন যত যেতেই থাকবে ততোই পয়লা বৈশাখে মহার্ঘ্য হয়ে উঠবে ইলিশ। দাম বাড়তে বাড়তে কোথায় যাবে তা কে বলতে পারে!

আমাদের নদীর মাছ আমাদের হাত ছাড়া হওয়ার জন্য শুধু যদি কিছু অপরিণামদর্শী কাজ দায়ী হয়ে থাকে তবে তা বাদ দিতে অসুবিধা কী? আগামীতে আমরা বর্ষাতেই ইলিশ-উৎসব পালন করতে চাই। পয়লা বৈশাখের জন্য অন্য অনেক মাছই তো রইলো।

*লেখকের ফেসবুক পেজ থেকে নেয়া

উপরে