আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১৬:৩২

আসাদের হঠাৎ প্রকাশ্য হওয়া সিরিয়াসংকট সমাধানের অন্তরায়

মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা, টেলিভিশন ও দৈনিক আল আরাবিয়ায় প্রকাশিত লেবাননের বিশিষ্ট সংবাদিক ও রাজনীতিবিদ নায়লা টুইনির কলাম। লেখাটির সম্পুর্ণ দায় লেখিকা নিজেই নিয়েছেন তার দৃঢ় স্কন্ধে।
আসাদের হঠাৎ প্রকাশ্য হওয়া সিরিয়াসংকট সমাধানের অন্তরায়

ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিটি বরাবরই রাষ্ট্রের কাঠামোর ক্ষমতার চেয়ে নিজেকে বেশি মূল্য দিয়ে ফেলে। আর এভাবেই তারা ওই রাষ্ট্র ও জনগণের ভাগ্য যুক্ত করে ফেলে নিজের অদৃষ্টের সঙ্গে। আরবে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া সব নেতা এই কাজটিই করেছে।

আর এই ‘ট্রাজেডির’ পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে সিরিয়ায়; বাসার আল আসাদের সরে না যাওয়ার মধ্য দিয়েই।

সিরিয়াকে সুসংসহত গণতন্ত্র এবং জনগণের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে একটি স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে, নিজের ও নিজের পরিবারের সদস্যদের জন্য একটি নিরাপদ সরে যাওয়ার সুযোগ তার রয়েছে। কিন্তু তিনি তার ক্ষমতাকে পাকড়াও করে বসে আছেন।

যদিও আসাদ বুঝতে পারছেন তার বাবা হাফেজের মত গত ৪০ বছর ধরে চলে আসা পদ্ধতিতে সিরিয়াকে চালানো অসম্ভব।

হাফেজ অবশ্য বুঝছেন তার ছেলে সিরিয়াকে এমন এক রক্তস্নাত পিচ্ছিল পথে হাটাচ্ছে যে গন্তব্যের শেষে তিনি কোনো সন্মানিত সিরিয়ান নাগরিকের চোখে চোখ রাখতে পারবেন না। আর সেই ইতিহাস লেখা হবে নিরপরাধ মানুষের রক্তস্নাত কলমে; যার চরিত্রায়ণ হবে কান্না ও আর্তচিৎকারে।

অন্যান্য শাসনকর্তাদের মত আসাদও ক্ষমতা থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন এবং তার নিরপরাধ জনগণের রক্তপাত ঘটেই চলেছে। সেতো তার বাবার ও তার নিজের অধীনে এমন এক শাসনব্যবস্থা বানিয়ে এসেছে যেখানে অবিচার এবং ‘ইনিল্যাটারালিজমের’ (একচোখা শাসন ব্যবস্থা) বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার অধিকার কারও নেই।

এই অঞ্চলের অস্থিরতা কিন্তু তার দেশের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রভাব ফেলেছে লেবাননেও। সিরিয়ান পেশা এবং অভিভাবকত্বের বিরুদ্ধে যাওয়া বহু লেবানিজকে অপহরণের পর অত্যাচার করে মেরে ফেলা হয়েছে।

শান্তি পরিল্পনা:

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গত সপ্তাহে সিরিয়ার জন্য একটি শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, জানুয়ারিতে তারা একটি শান্তি আলোচনা শুরু করবে। যদিও শুরুতেই বহু চড়াই-উৎরাই পেরুতে হচ্ছে এই উদ্যোগকে।

একটি হচ্ছে আসাদ বা আসাদ পরিবারের ভাগ্য, যা বিশ্ব মোড়লদের মধ্যে এখনও একটি আমীমাংসিত বিষয়।

আসাদ সিরিয়াকে এক করার যোগ্যতা বা ক্ষমতা দুটোই হারিয়েছে বলে মত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন করি। তার সমকক্ষ ফরাসি ব্যক্তিটি অবশ্য আসাদ এবং তার পরিবারের নিরাপদ সরে যাওয়ার নিশ্চয়তার দাবি রেখেছেন।

অবশ্য আসাদের ভাগ্য সিরিয়ার জনগণের সিদ্ধান্ত, মত দিয়ে ইরান ও রাশিয়া সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে আসাদকেই। ভাবটা এমন তারা সিরিয়ার মানুষের ইচ্ছা-অনিচ্ছা নিয়ে কতই না চিন্তিত। আর তাইতো তারা সেখানে স্বশরীরে যুদ্ধ করছে আসাদ বাহিনীর পক্ষে।

তাহলে ২০১৬’র শুরুতে কিভাবে এই আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হবে…! বোধহয় আসাদের ভাগ্য নির্ধারণই সে রাস্তার মূল অন্তরায়।

সিরিয়ান সন্ত্রাসীদের ক্ষমতার হাতুড়ি পেটা, আর ইরাক-সিরিয়ার জঙ্গিদের নিষ্পেষণের ফাঁদে আটকে ততক্ষণ ডুঁকরে মরবে সিরিয়ান জনগণের ভাগ্য লেখা।

 

বি.দ্র: এই লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২৫ ডিসেম্বর আন-নাহারে। এরপর ওই দিনই প্রকাশিত হয় আল-আরাবিয়ায়।

উপরে