আপডেট : ২০ অক্টোবর, ২০১৮ ১৬:১৫

বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন হাতুড়িপেটায় আহত সেই তরিকুল

অনলাইন ডেস্ক
বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন হাতুড়িপেটায় আহত সেই তরিকুল

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতুড়িপেটায় আহত তরিকুল ইসলামের শিক্ষা জীবন শেষের পথে। স্নাতকোত্তর বা মাস্টার্সের পরীক্ষা এখন শেষ পর্যায়ে। এখন তিনি বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

গত ২ জুলাই হামলায় তরিকুলের পায়ে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। সেটি করতে হয়েছে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে। কারণ, সরকারি হাসপাতাল রাজশাহী মেডিকেলের ডাক্তাররা তার চিকিৎসা শেষ না করেই ছুটি দিয়েছেন। এরপর উত্তরের জেলায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলেও সেখানেও চিকিৎসা শেষ না করে ঢাকায় আসেন।

ঢাকায় অস্ত্রোপচারের কিছুদিন পর আবার রাজশাহী ফিরে যান তরিকুল। এখন চলছে মাস্টার্সের পরীক্ষা। এর ফাঁকে আবার ডাক্তার দেখাতে এসেছেন ঢাকায়।

তরিকুল জানান, তার শরীরের অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। তবে এখনও একা স্বাভাবিকভাবে চলতে ফিরতে পারে না।

-‘কারণ কী?’

-‘ব্যাক পেইন এখনও রয়েছে। শুয়ে থাকলে প্রচণ্ড ব্যাথা হয়। ডান পায়ের যেখানে আঘাত লেগেছিল সেখানেও ব্যথা রয়েছে, সাথে পায়ের পাতাতেও ব্যথা; পা মাটিতে রাখতি পারি না। সবশেষ যখন এক্সরে করানো হয়েছিল তখনও হাড় জোড়া লাগেনি। কোমরের যেখানে ব্যাথা ছিল, সেটা অমনই আছে; মাঝে মাঝে কমে।’

‘যেসব জায়গায় সংক্রমণ হয়েছিল সেসব জায়গায় চামড়া শরীরের অন্য জায়গা থেকে নিয়ে লাগানো হয়েছিল। যেসব জায়গা থেকে চামড়া কাটা হয়েছিল সেসব জায়গা মোটামুটি শুকিয়ে গেছে।’

-‘ডাক্তার কী বলেছেন?’

-‘ওষুধ খেতে বলেছেন। বলেছেন, আস্তে আস্তে কমবে।’

গণমাধ্যমে এসেছে, মাস্টার্সের পরীক্ষা মেডিকেল বেডে শুয়ে দেয়ার দাবি অগ্রাহ্য করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে তরিকুল জানান, প্রথমে আবেদন অগ্রাহ্য করলেও পরে তারা তা মঞ্জুর করেন।

‘আমি তো অসুস্থ। তাই মেডিকেলে পরীক্ষা দিতে চেয়েছিলাম। তখন মেডিকেলের প্রধান বলেছিলেন, কাগজপত্র দেখতে হবে। পরে কাগজপত্র নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে মেডিকেলে গিয়ে অর্থোপেডিক ডাক্তারকে দেখানোর পর তিনি অনুমতি দিলেন। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে যাওয়ার পর তিনিও অনুমতি দিলেন। কিন্তু একমাত্র ভিসি স্যার আমাকে মেডিকেলে পরীক্ষার অনুমতি দেননি। পরে বিভাগীয় চেয়ারম্যান স্যারের অফিসেই বেড নিয়ে পরীক্ষা দিয়েছি।’

‘মাস্টার্সের পরীক্ষা এখনও তিনটা আছে, সেগুলো এভাবেই দিতে হবে’-নিজের শিক্ষা জীবন নিয়ে জানান তরিকুল।

ভবিষ্যত পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে এই তরুণ বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার কথা জানান। বলেন, ‘যেভাবে আছি, সেভাবে তো আর ভালোভাবে পড়াশোনা করা যায় না। তবে তারপরও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

তরিকুল পিটুনি খেয়েছিলেন ঢাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ খাঁন ফেসবুক লাইভে এসে ‘আপত্তিকর’ বক্তব্য দেয়ার পর। ছাত্রলীগের অভিযোগ, ‘মনে হয় তার বাপের দেশ’ বলে রাশেদ যা বলেছিলেন, সেটা প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে।

এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা হয় আর এই হামলার বিচার দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা আন্দোলনকারীরা যে মিছিল বের করেন, সেখানে হয় হামলা। আর হামলাকারীরা তরিকুলকে ধরে পেটায়। এর মধ্যে একজন আবার পেটান হাতুড়ি দিয়ে।

যে জন্য আন্দোলনের শুরু, সেই কোটা বাতিল হয়ে গেছে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে। এই বিষয়টা নিয়ে কী ভাবছেন- এমন প্রশ্নে অবশ্য তরিকুল চুপ। বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি নই। আমাদের কেন্দ্রীয় নেতারা এই বিষয়ে কথা বলেন বা বলবেন। তবে আমাদের আন্দোলন ছিল কোটা সংস্কারের। আমরা সেটার গুরুত্ব দিয়েছি। এখন আমাদের মিথ্যা ও হয়রানিমূলক সকল মামলা প্রত্যাহার করা; আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা এবং পাঁচ দফার আলোকে কোটার সংস্কার-এগুলোই বলছি আমরা।’

তরিকুলের আক্ষেপ, যারা তাকে পেটাল, তাদের কোনো শাস্তিই হলো না। তবে তিনি নিজেও মামলা করেননি।

-‘কেন আপনি মামলা করলেন না?’

-‘আমি আহত হওয়ার পর মামলার করার মতো শারীরিক অবস্থা ছিল না। আর পরিবারও তেমন চায়নি, তাই করা হয়নি।’

-‘কোন চাপের কারণে কি এই সিদ্ধান্ত?’

-‘না, কোন চাপ এখন পর্যন্ত আসেনি। মামলার বিষয়টি বড় বিষয় না। মামলা যখন তখনই করা যাবে। প্রয়োজন মনে হলে যে কোন সময় করতে পারি। তবে সেটা এখন বলতে চাচ্ছি না; পরিবেশ পরিস্থিতি হলে তখন করব।’ 

তরিকুলের পরিবারের আর্থিক অসঙ্গতির কথা পত্রিকায় এসেছে তাকে পিটুনির পরপর। আর ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচটা তাই করতে হয়েছে অন্যের অনুদানে। যদিও এই সাহায্যদাতাদের নাম জানাতে চান না তিনি।

-‘কারা খরচ দিয়েছে?’

-‘কয়েকজন শিক্ষক ও অনেকে অনুদান দিয়েছে। এখনও তারা দিচ্ছেন। তবে চিকিৎসার খরচ আগে অনেকে লেগেছে। এখন কম লাগছে।’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে