আপডেট : ১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ১৫:৫৪

কোটা সংস্কার আন্দোলনের তিন নেতাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক
কোটা সংস্কার আন্দোলনের তিন নেতাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে

কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলা সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের তিন নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গিয়েছিল গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এই তিন নেতা হলেন রাশেদ খাঁন, ফারুক হাসান এবং নুরুল ইসলাম নূর। বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে তাদেরকে একটি মাইক্রোবাসে করে উঠিয়ে নেয়ার ঘণ্টাখানেক পর বেলা দুইটা ৪০ মিনিটের দিকে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এই তিন নেতা ও আন্দোলনকারী সংগঠনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুকে নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে আজ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় যাতে এদের বিরুদ্ধে শিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদের মধ্যে হাসান আল মামুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসীন হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি। আর ফারুক এস এম হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ভোল পাল্টালেও তাদের শিবির সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা।

একই দিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে রাশেদ খাঁন ও ফারুক হাসান তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বলেছেন, এটা একটা অপপ্রচার। আন্দোলন চলাকালে তাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থা খোঁজ খবর নিয়ে কিছুই পায়নি।

আর এই সংবাদ সম্মেলন করার কিছুক্ষণ পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহতদের দেখতে গিয়ে ফেরার পথে রাশেদ, ফারুকের পাশাপাশি কোটা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া সংগঠনের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম নুরুকে তুলে নেয়ার অভিযোগ করছেন সংগঠনের অন্য নেতারা।

গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ করে কিছু না বললেও একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘কিছু বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য তকাদেরকে নিয়ে আসা হয়েছিল। কথা বলে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।’

কোন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে-জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, তাদেরকে কিছু ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়েছে। সেগুলোর বিষয়ে তাদের কাছ থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে। তাদেরকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।

গত ৮ এপ্রিল শাহবাগ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে একজনের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনে হামলা হয়। বেপরোয়া ওই হামলায় বাসভবনে তাণ্ডব চালানোর পাশাপাশি লুট করা হয় মূল্যবান সামগ্রী প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং নথিপত্র।

এই ঘটনায় চারটি এবং শাহবাগে সংঘর্ষের ঘটনায় আরও চারটি মামলা হয়েছে।

উপাচার্য ভবনে হামলার দায় অস্বীকার করে এ বিষয়ে ভিডিও ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কোটা আন্দোলনের নেতারা। তবে হামলাকারীরা সেখানকার সিসি ক্যামেরা ভেঙে রেকর্ডার খুলে নিয়ে গেছে। তারপরও নানা সূত্র থেকে ফুটেজ সংগ্রহ করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

এই ফুটেজের বিষয়ে কোটা আন্দোলনকারীদের তিন নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে গোয়েন্দা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে। সঙ্গে অন্য আরও কিছু বিষয় ছিল।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে