আপডেট : ১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ১৯:১৭

‘পায়ে ধরি স্যার, দয়া করে আমাদের পরীক্ষা নিন'

অনলাইন ডেস্ক
‘পায়ে ধরি স্যার, দয়া করে আমাদের পরীক্ষা নিন'

'পায়ে ধরি স্যার, দয়া করে পরীক্ষা নিন' এমনি আকুতিপূর্ণ বক্তব্য নিয়ে পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট পালন এবং স্মারকলিপি প্রদান করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা। রোববার (১৯ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রশাসন ভবনের সামনে এ অবস্থান ধর্মঘট পালন করে তারা।

পরে বেলা দেড়টার দিকে ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল হক স্বপনের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারীর সাথে দেখা করেন। এসময় তারা উপাচার্যের নিকট পরীক্ষা গ্রহণ, দ্রুত ফল প্রকাশসহ ৮ দফা দাবিতে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, 'পায়ে ধরি স্যার, দয়া করে পরীক্ষা নিন, আমাদের ৭ বছর শেষ, এখনো অনার্স-মাস্টার্স শেষ হয়নি, পরিবার আর পারছে না, স্যার আপনারা আমাদের বাঁচান, দ্রুত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা না করলে আমাদের বেঁচে থাকায় দায়সহ বিভিন্ন আকুতিমূলক ব্যক্তব্য। প্রশাসন বিষয়টির দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান করার কথা জানালে তারা ধর্মঘট তুলে নেয়।

স্মারকলিপিতে তারা আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে সেশনজট চরম পর্যায়ে। বিভাগটিতে বর্তমানে ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষ থেকে শুরু করে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত অনার্স ও মাস্টার্সে মোট আটটি ব্যাচ রয়েছে। আগের বর্ষের পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ না হওয়ায় এখন পর্যন্ত ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ মাস্টার্স তারা পরীক্ষা শুরু করতে পারেনি। একইভাবে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষ অনার্স তারা তাদের চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা দিতে পারেনি। ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ দীর্ঘ পাঁচ বছর পার করলেও তারা সবেমাত্র চতুর্থ বর্ষের ক্লাস শুরু করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বিভাগের শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিংয়ের কারণে বিভিন্ন সময়ে তারা আমাদের জিম্মি করে পরীক্ষা কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। আট মাস আগে আমাদের পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হলেও এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, 'আমি বিভাগের শিক্ষকদের সাথে কথা বলে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সময় নিয়েছিলাম। কিন্তু সে সময়ের মধ্যে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বলে ধারণা করছি।'

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে