আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ২২:২৩

বরিশাল কলেজে শিক্ষককে পেটালো ছাত্রলীগ

বরিশাল কলেজে শিক্ষককে পেটালো ছাত্রলীগ

 

বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশাল সরকারি কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় আব্দুর রহিম নামের ছাত্রলীগ কর্মীকে নকল করতে বাধা দেয়ায় এক শিক্ষককে পিটিয়েছে কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি আল মামুন ও তার সহযোগীরা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলেজের ৩১০ নম্বর কক্ষের সামনে এ ঘটনা ঘটে। কাজী নজরুল ইসলাম নামের ওই শিক্ষককে রক্ষা করতে এসে লাঞ্চিত হন কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক খন্দকার অলিউল ইসলাম।

এ ঘটনায় কলেজের সকল শিক্ষকরা বিক্ষোভ করলে শিক্ষক পরিষদের জরুরি সভা ডেকে আল মামুন এর ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে মহানগর ছাত্রলীগ জরুরি সভা করে বরিশাল কলেজ ছাত্রলীগের সকল কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন।

উজিরপুর শহীদ স্মরণিকা কলেজের শিক্ষক জাহাঙ্গির হোসেন জানান, সম্মান প্রথম বর্ষের পরীক্ষার কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য বরিশাল সরকারি কলেজে আসি আমি ও আমার কলেজের শিক্ষক কাজী নজরুল ইসলাম। আমাদের দুইজনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো তিনতলার ৩১০ নম্বর কক্ষে। ওই কক্ষে ছাত্রলীগের এক কর্মী পরীক্ষা দিচ্ছে এমন বিষয় পরীক্ষার শুরুতেই আমাদের অবহিত করে যান কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আল মামুন।

সে ওই পরীক্ষার্থীকে বিশেষ ছাড় দেবার জন্য আমাদের বলে যায়। কিন্তু পরীক্ষা শুরু হয়ে যাওয়ার পরই ওই ছাত্রলীগ কর্মী প্রকাশ্যে বই খুলে লেখা শুরু করে। প্রথমে কাজী নজরুল ইসলাম তাকে নিষেধ করে এমনটি না করার জন্য। কিন্তু ওই পরীক্ষার্থী কর্ণপাত না করায় তার খাতা ও সঙ্গে থাকা বইটি নিয়ে যান। কিছু সময় পরে তাকে পুনরায় খাতা দিয়ে দেয়া হয়।

বিকাল ৫ টায় পরীক্ষা শেষ হলে এর পরপরই ছাত্রলীগ সভাপতি আল মামুন তার কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে পরীক্ষা কক্ষের সামনে এসে কাজী নজরুল ইসলাম এর পথরোধ করে। এরপর সে নজরুল ইসলামকে প্রথমে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

তিনি এর প্রতিবাদ করলে মামুন তাকে এলোপাথারি ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে তার সহযোগিদের হাতে থাকা লাঠি দিয়ে পেটানো শুরু করে শিক্ষক নজরুল ইসলামকে। আমি এর প্রতিবাদ করলে আমাকেও মারধোর করে।

পরে কলেজ অধ্যক্ষ খন্দকার অলিউল ইসলাম মামুনকে থামাতে গেলে তার শরীরেও কয়েকটি ঘুষি লাগে।

খবর পেয়ে শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে চলে আসলে তারা পালিয়ে যায়।

শিক্ষক নজরুল ইসলামকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে বরিশাল কলেজের শিক্ষক ও বাহির থেকে দায়িত্ব পালন করতে আসা সকল শিক্ষকরা এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করে।

সরকারি বরিশাল কলেজে শিক্ষক পরিষদের সাধারন সম্পাদক তপন কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের হামলার ঘটনা দুঃখজনক। এ ঘটনায় সকল শিক্ষকরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভ করায় শিক্ষক পরিষদের জরুরি সভা করা হয়েছে।

ওই সভায় শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় কলেজের ডিগ্রি(পাস) শেষ বর্ষের ছাত্র আল মামুন এর ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে।

হামলার শিকার উজিরপুর শহীদ স্মরণিকা কলেজের শিক্ষক কাজী নজরুল ইসলাম জানান, পরীক্ষা শেষে তার কক্ষের সামনে এসে মামুন তাকে বাইরে বের হতে বলে। বাইরে বের হলে কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই মামুন আমাকে এলোপাথারি ঘুষি মারতে থাকে। এরপর লাঠি দিয়ে বেশ কিছু আঘাত করে।

তবে অভিযুক্ত সরকারি বরিশাল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আল মামুন বলেন, ওই শিক্ষকের কাছে আমার কর্মীর খাতা নিয়ে যাওয়া হয়েছে কেন এ কথা জিজ্ঞেস করতেই তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হন। এসময় আমার সঙ্গে থাকা কর্মীরা তাকে মারধোর করে।

 

মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি জমীস উদ্দিন বলেন, শিক্ষকের ওপর হামলা এবং সংগঠনে বিশৃঙ্খলা তৈরী করার কারনে বরিশাল কলেজ ছাত্রলীগের সকল ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। একই সাথে মামুনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যাবস্থা নেবার জন্য আজ বৃহষ্পতিবার জরুরি সভা আহবান করা হয়েছে মহানগর ছাত্রলীগের।

সরকারি বরিশাল কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক খন্দকার অলিউল ইসলাম বলেন, নকলে বাধা দেয়ায় কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি আল মামুন কক্ষ পরিদর্শক এর দায়িত্বে থাকা উজিরপুর শহীদ স্মরনিকা কলেজের শিক্ষক কাজী নজরুল ইসলামকে মারধোর করে। এ ঘটনায় মামুনের ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে শিক্ষক পরিষদের জরুরি সভা করে। একইসাথে কলেজ প্রশাসনের জরুরি সভা করে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।  

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে  

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

উপরে