আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৯:৪৩

কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করছে বিএম কলেজের নতুন বাস!

কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করছে বিএম কলেজের নতুন বাস!

বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নতুন ক্রয়কৃত বাসটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষাসফরের জন্য দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ দেখিয়ে গাড়িটি কলেজের শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করতে না দিলেও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের দেয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, গত ডিসেম্বর মাসে কলেজের শিক্ষার্থীদের দেয়া অর্থে বাসটি ক্রয় করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু চলাচলের রুট ঠিক করতে না পারায় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখিয়ে এতদিন গ্যারেজেই বাসটি রাখা হয়েছিল।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাসের জন্য আন্দোলন করলেও বাসটি চলাচলের অনুমতি দেয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শুক্রবার হঠাৎ করেই বাসটিকে দেখা যায় যাত্রী পরিবহন করতে। সেটিও আবার ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু যারা অশ্মিনী কুমার শিশুনিকেতনের শিক্ষার্থী।

সূত্রে জানা যায়, ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান জাহনারা লাইজু বিএম কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক স ম ইমানুল হাকিম এর সহধর্মিনী। তাই নিয়ম না থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাসফরে কলেজ বাস দিয়ে দেয়া হয়েছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

গৌরনদী থেকে আসা বিএম কলেজের অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্স শেষ পর্বের ছাত্র দেওয়ান মো. সোহেল বলেন, আমরা এক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করেছিলাম কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ বাসটি চালু করেননি। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ দেখানো হয়েছিলো। বাসটি চালু না করায় আমাদের ওই অঞ্চল থেকে আসা শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

কিন্তু ওই বাস কলেজ ছুটির দিন একটি কিন্ডারগার্টেনের শিশুদের নিয়ে শিক্ষাসফরে যায় এটা সত্যিই দুঃখজনক।

তবে কলেজের পরিবহন কমিটির দায়িত্বে থাকা ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক গোলাম মোর্শেদ বলেন, পড়ে থাকার কারণে বাসটির যান্ত্রিক কোন সমস্যা যাতে না হয় তাই বাসটি সচল রাখতে কলেজের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানকে কাছাকাছি যেতে দেয়া হয়। সেরকম অশ্মিনী কুমার শিশু নিকেতনকেও দেয়া হয়েছে।

এরপূর্বেও বাসটি ব্যবহারের জন্য দেয়া হয়েছিলো বলে তিনি জানান।

তবে বিএম কলেজের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফজলুল হক বললেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান,  অশ্মিনী কুমার শিশু নিকেতনকে কখনই কলেজের বাস দেয়া হয়নি। কারণ ওই প্রতিষ্ঠান এর সাথে বিএম কলেজের কোন সম্পর্ক নেই। প্রতিষ্ঠানটি কলেজের কয়েকটি কক্ষ ব্যবহার করার অনুমতি নিয়ে সেখানে পাঠদান চালাচ্ছে। ওই সম্পত্তি কলেজেরই।

কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক স ম ইমানুল হাকিম বলেন, নতুন বাসটি সচল রাখতেই কাছকাছি কোন প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষাবিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা করতে যাবার জন্য ব্যবহার করার অনুমতি দেয়া হয়। অশ্মিনী কুমার শিশু নিকেতনকেও এমনটি বিবেচনা করেই অনুমতি দেয়া হয়েছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে    

 

উপরে