আপডেট : ৪ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৯:৩৭

ভূমিকম্পে ঝুঁকির মুখে জাবি’র আল-বেরুনী হল

নবিউল ইসলাম বাপ্পি, জাবি প্রতিনিধি:
ভূমিকম্পে ঝুঁকির মুখে জাবি’র আল-বেরুনী হল

ভূমিকম্পের ফলে ঝুঁকির মুখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সম্প্রসারিত ভবন আল-বেরুনী হল। সোমবার ভোরে ৬.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের ফলে হলটির বিভিন্ন অংশে অন্তত ৩৫-৪০ টির মতো মারাত্মক ফাটল দেখা দিয়েছে। অল্পের জন্য বড় ধরণের প্রাণহানি থেকে রেহাই পেয়েছেন হলটিতে বসবাসরত প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী।

খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে হল পরিদর্শনে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম, ট্রেজারার অধ্যাপক আবুল খায়ের, প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা, প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক হাফিজুর রহমান, আল-বেরুনী হলের প্রভোস্ট ড. এ কে এম জসীম উদ্দীন, হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক শেখ আদনান ফাহাদ ও প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আবদুস সালাম মো. শরীফসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

হল পরিদর্শনের পর উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘আমরা আলোচনা করে কমিটি গঠনের মাধ্যমে শীঘ্রই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিব। শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’

হলটি পরিদর্শন করে দেখা যায়, ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (৮০০) ব্লকের উত্তর দিকের দেয়াল, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতি মিলনায়তনের টিভির রুমের পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকের দেয়ালের ভেতরে ও বাহির, ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ (১১০০) ও ইঞ্জিনিয়ার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন (১০০০) ব্লকের বেশ কয়েকটি কক্ষের দেয়াল ও মেঝে সহ বিভিন্ন জায়গা ঝুকিপূর্ণ ফাটল ধরেছে। হলের ৬ টি ব্লকের অধিকাংশ কক্ষে চিড় ধরেছে।

এছাড়াও হলের মসজিদ, কমনরুম, গেস্টরুম, ডাইনিং রুম ও স্টাফরুমেও দেখা দিয়েছে বেশ বড় আকারের ফাটল।

হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সোয়াইব রহমান সজিব বলেন, ‘আমি প্রাণ ভয়ে আছি। কখন যে দূর্ঘটনা ঘটে যায়।’

এ প্রসঙ্গে হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক শেখ আদনান ফাহাদ বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব হলটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করে এখানে নতুন ভবন নির্মাণ করা উচিৎ।’

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-বেরুনী হল মুল ভবন, ফজিলাতুন্নেসা হল, জাহানারা ইমাম হল, ব্যাচেলর টিচার্স কোয়ার্টার, শিক্ষক ক্লাব, অফিসার্স ক্লাব, প্রকৌশল অফিস, পুরাতন কলা ভবন, জিমনেসিয়াম, শহীদ সালাম-বরকত ও কামালউদ্দীন হলের সম্মিলিত মসজিদসহ একাধিক ভবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।   

নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আকতার মাহমুদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ পুরাতন ভবন গুলো কাঠামোগত প্রকৌশলী দিয়ে পরিক্ষা করে দেখা উচিৎ। যে সমস্ত ভবন সংস্কার করা যায় সেগুলোর সংস্কার করা এবং যেগুলো সংস্কার করা যাবে না সেগুলো ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ করা দরকার।’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এনবি/জেডএম

উপরে