আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৫:১৭

কী আছে ডলারের বিকল্পে?

অনলাইন ডেস্ক
কী আছে ডলারের বিকল্পে?

প্রায় এক শতক ধরে আন্তর্জাতিক রিজার্ভ মুদ্রায় শীর্ষস্থানে রয়েছে মার্কিন ডলার। ব্রিটিশ পাউন্ডকে পেছনে ফেলে এই অবস্থানে পৌঁছায় তাঁরা। আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের মোট রিজার্ভের প্রায় ৬২ শতাংশই সংরক্ষিত আছে মার্কিন ডলারে। আন্তর্জাতিক লেনদেনের ৮৫ শতাংশই হয়ে থাকে ডলারে। কিন্তু এই অবস্থার পরিবর্তনের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠছে।

আন্তর্জাতিক লেনদেনে ডলারের বিকল্প চায় এমন দেশের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ইরান বেশ কয়েকমাস আগেই মার্কিন ডলারে লেনদেন আংশিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে নিজস্ব মুদ্রা ইউয়ান ব্যবহারে পদক্ষেপ নিয়েছে চীনও। রাশিয়ার সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য দুদেশের নিজস্ব মুদ্রায় করার ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকায় এই পদক্ষেপ নেয় আঙ্কারা। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইউরোপের দেশগুলোও আন্তর্জাতিক লেনদেনে ইউরো ব্যবহারের চিন্তা ভাবনা করছে। ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করছে এমন ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ আরোপের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ডলার পরিহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে দেশগুলো। সম্প্রতি রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর জানান, তার ব্যাংক মার্কিন ডলারের ব্যবহার পরিত্যাগ করার নীতি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিশ্বে ডলারের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া দেশের সংখ্যা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে মুদ্রাটির আধিপত্য অবশ্যই হুমকির মুখে পড়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কী হতে যাচ্ছে ডলারের বিকল্প?

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো ইউরোতে আন্তর্জাতিক লেনদেন করবে বলে জানিয়েছে। রাশিয়া, তুরস্ক,ইরান ও চীনও নিজেদের মুদ্রা ব্যবহারের কাজ শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, অন্য দেশগুলোর মূদ্রার তুলনায় ইউয়ানই ডলারের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠবে।

চীন বর্তমান বিশ্বে তেলের বৃহত্তম ভোক্তা। দেশটি তেল আমদানির ক্ষেত্রে পেট্রো-ইউয়ানের প্রচলন শুরু করতে চায়। সর্বশেষ ব্রিকস সম্মেলনে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পেট্রো-ইউয়ানের পক্ষে অবস্থান নেন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ পাকিস্তানসহ বিশ্বের আরও বেশ কয়েকটি দেশ ইউয়ানেই লেনদেন সম্পন্ন করার চিন্তা ভাবনা করছে।

গোটা বিশ্বেই পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে চীনের শক্ত অবস্থান রয়েছে। তাঁর ওপর বাংলাদেশ পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতে চীনা বিনিয়োগের পরিমানও বাড়ছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক লেনদেনে ডলারের পরিবর্তে ইউয়ানই ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।

উপরে