আপডেট : ২৫ জুলাই, ২০১৬ ২১:৩৫

অবশেষে প্লেনেই দেখা হলো দুলাল ভাইয়ের সঙ্গে.....

অনলাইন ডেস্ক
অবশেষে প্লেনেই দেখা হলো দুলাল ভাইয়ের সঙ্গে.....

'একদিন দুবাই থেকে প্লেনে ঢাকা ফিরছিলাম। পেছন থেকে কে যেন আজাদ ভাই, আজাদ ভাই বলে ডাক দিল। ফিরে দেখি আশ্চর্য ব্যাপার! যিনি পেছন থেকে আমাকে ডাকছেন তিনি আর কেউ নন স্বয়ং দুলাল ভাই। এই সেই দুলাল ভাই, যার সহায়তায় আমার আজকের আজাদ প্রোডাক্টস এর চেয়ারম্যান এবং এমডি আবুল কালাম আজাদ হয়ে ওঠা। দুলাল ভাই বায়তুল মোকাররম জুয়েলারি মার্কেটের একটি স্বর্ণের দোকানের মালিক। তার দোকানের সামনে বসেই আমার পোস্টার ব্যবসা শুরু। তিনি আমাকে তার দোকানের সামনে বসে ব্যবসা করার অনুমতি দিয়েছিলেন বলেই হয়ত আমি আজকের আবুল কালাম আজাদ হতে পেরেছি। তিনি সব সময় আমাকে সাপোর্ট দিয়েছেন এমনকি এখনও আমাকে সবসময় বড় ভাইয়ের মত আগলে রাখেন।'

দুলাল ভাইয়ের সহায়তায় আজ আমি শিল্প-বাণিজ্য জগতের স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব। এভাবেই জীবনে বড় হওয়ার ক্ষেত্রে যার অবদান সবচেয়ে বেশি সেই দুলাল ভাইয়ের সঙ্গে হটাৎ প্লেনে দেখা হয়ে যাওয়ার কথা বর্ণনা করছিলেন আবুল কালাম আজাদ। নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্টাটাসে তিনি এই আবেগঘণ সাক্ষাতের বর্ণনা দেন।

যেভাবে দুলাল ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয়:

জীবনে বড় হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় পা রাখেন আজাদ। এরপর তিনি ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা শুরু করলেন। মানুষ কীভাবে থাকছে, কীভাবে জীবন নির্বাহ করছে; তা জানার কৌতূহল ও আগ্রহ জাগল প্রবলভাবে। ভাবলেন পুঁজিতো নেই, তাই ছোট-খাটো কিছু দিয়েই তাঁকে ব্যবসা শুরু করতে হবে।

গতানুগতিক ব্যবসা না করে অধিকতর নতুন কী ব্যবসা করা যায় বুঝতে কখনো সদরঘাট, কখনো কমলাপুর, কখনো বায়তুল মোকাররমে ঘোরাফেরা করতে লাগলেন। এরই মধ্যে একদিন বাইতুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় স্টেডিয়ামের কাছে একটা লোককে পেয়ে গেলেন। সে স্টেডিয়ামের লোহার গেটের সাথে লম্বা করে দড়ি টানিয়ে পোস্টার বিক্রি করছে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পোস্টার দেখছিলেন, আর কান পেতে রেখেছিলেন, পোস্টার ক্রেতা চলে যাবার পর দুই পোস্টার বিক্রেতার কথোপকথনে।

তাদের কথাবার্তায় বুঝলেন, পোস্টার বিক্রির ব্যবসায়ে ভালো লাভ থাকে। তিনি চিন্তা করলেন, এ ব্যবসাই করতে হবে। কোথা থেকে পোস্টার এনে বিক্রি করে তা পোস্টার বিক্রেতাদের কাছ থেকে জানতে না পেরে কৌশলে তাদের পিছু নিলেন। অনেক চেষ্টার পর সফলও হলেন। জানতে পারলেন, পুরাতন ঢাকার জজকোর্ট সংলগ্ন এলাকার পোস্টার সরবরাহকারীদের কাছ থেকে পোস্টার কিনে এনে স্টেডিয়ামের সন্নিকটে বিক্রি করেন। তখন থেকে আবুল কালাম আজাদেরও পোস্টার ব্যবসা শুরু হলো। প্রথমে স্টেডিয়ামের ঐ সময়ের মোহামেডান গেইটে, আবার কখনো মকবুল নামে এক জনের সহায়তায় পোস্টার বিক্রির কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন।

হেঁটে হেঁটে পোস্টার বিক্রি করতেন। কখনো নিউ মার্কেট, বায়তুল মোকাররম, স্টেডিয়াম, গুলিস্তান, সদরঘাট। পোস্টার বিক্রি করতে করতে একদিন বায়তুল মোকাররমের সামনে এসে ঘুরে যায় তার ভাগ্যের চাকা। সেখানে এসে দেখেন, জুয়েলারির দোকানগুলো সব বন্ধ কোন এক অজানা কারণে। তখন জুয়েলারি মার্কেটের সামনেই দড়ি টাঙিয়ে, দড়িতে পোস্টার ক্লিপ দিয়ে ঝুলিয়ে বিক্রি করা আরম্ভ করেন তিনি।

মার্কেটের এক ছেলে এসে পিছে লাগে। বিক্রি করতে দেবে না, বলে আপনার তো এখানে জায়গা নেই, কোত্থেকে আসছেন? বাক বিতন্ডার এক পর্যায়ে সেখানে আসেন, এল রহমান জুয়েলার্সের মালিক আনিসুর রহমান দুলাল, বায়তুল মোকাররম ব্যবসায়ী সমিতির ১৩ বার প্রেসিডেন্ট। বলা যায়, ওনার দোকানের সামনে থেকেই আজকের আজাদ প্রোডাক্টস এর সৃষ্টি। দুই দিন আগেই তিনি আজাদের কাছ থেকে মদিনা শরিফ, কাবা শরিফের দু’টি পোস্টার কিনে নিয়েছেন ৩৫ টাকা দিয়ে।

দুলাল কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে বাধাদানকারী ছেলেটাকে বললেন, তোমার কী সমস্যা? ও এখানে পোস্টার বিক্রি করছে, করতে দাও। সে বলল, স্যার ওনাকে তো আগে এখানে কখনো দেখি নাই, নতুন আসছে। ঠিক আছে, নতুন আসছে অসুবিধা কী, তারপরেও টাঙাতে দাও। সেই শুরু আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি আজাদকে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে