আপডেট : ১০ মে, ২০১৬ ০৭:৫৮

উদ্যোগ নেই আমিরাতের বন্ধ শ্রমবাজার চালুর

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম
উদ্যোগ নেই আমিরাতের বন্ধ শ্রমবাজার চালুর

বাংলাদেশি কর্মীদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার হার বেড়ে যাওয়ায় পাঁচ বছর আগে কর্মসংস্থান উপলক্ষে ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত। এক বছর পর বন্ধ হয়ে যায় ব্যবসায়ী ও পর্যটন ভিসাও। ঢাকার দূতাবাসের মাধ্যমে শর্তসাপেক্ষে বিশেষ ব্যবস্থায় ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি চালু রয়েছে শুধু।

বছর দুয়েক ধরে এই বিশেষ ব্যবস্থায় অল্পসংখ্যায় নারী কর্মী যাচ্ছে আমিরাতে, তবে পুরুষ কর্মীদের যাওয়া একেবারেই বন্ধ। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শ্রমবাজার আবার খোলার ব্যাপারে সরকারের উদ্যোগ আছে বলে মনে হয় না। এটি পুরোপুরি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা জনশক্তি খাতের বিশেষজ্ঞদের।

সূত্র জানায়, আরব আমিরাতে ১৫ লাখের বেশি বাংলাদেশি রয়েছে। তাদের বেশির ভাগের বিরুদ্ধে অপরাধ-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নেই; তবে কেউ কেউ অপরাধে জড়িয়েছে। কয়েকজন বাংলাদেশি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছে। আর শতাধিক বাংলাদেশির যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের আগস্টে বাংলাদেশিদের জন্য কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দেয় আমিরাত সরকার। ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে দেশে যান। তাঁর সফরের পর শ্রমবাজার আবার উন্মুক্ত হবে বলে আশার সঞ্চার হয়। তবে আড়াই বছর পার হলেও সেই আশা পূরণ হয়নি। সূত্র জানায়, বিমানবন্দর, ইমিগ্রেশন,  রিক্রুটিং এজেন্সি ও বিএমইটির কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহায়তায় ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে আমিরাতে পাঠানো হতো অনেক কর্মীকে। দালালচক্র আট থেকে ১০ লাখ টাকা আদায় করত তাদের কাছ থেকে।

ধারদেনার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তাদের কেউ কেউ অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, ধরা পড়ে সাজাও ভোগ করে। চাকরি হারিয়ে অনেক কর্মী দেশে ফিরে আসে। দালাল ও দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের কারণে একটি বিশাল শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে গেছে অথচ বাংলাদেশ সরকার এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। কূটনৈতিক ব্যর্থতা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অদক্ষতা ও জনশক্তি রপ্তানিকারক কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার কারণে জনশক্তি রপ্তানিতে দুর্যোগ নেমে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন।

ইরাক, কুয়েত ও লিবিয়াও বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি আমদানি বন্ধ রেখেছে। আমিরাত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করলে এ দুর্যোগ কাটবে না। জনশক্তি, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৭৬ সালে আরব আমিরাতে এক হাজার ৯৮৯ জন কর্মীকে পাঠানো হয়। ২০০৬ সালে এক লাখ ৩০ হাজার ২০৪ জন কর্মীকে পাঠানো হয়। ২০০৮ সালে সর্বোচ্চসংখ্যক (চার লাখ ১৯ হাজার ৪৫৫ জন) কর্মী পাঠানো হয়। ২০১২ সাল পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত ছিল।

গত রবিবার সকাল সাড়ে ১১টায় ইস্কাটনের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির সঙ্গে দেখা করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ড. সাঈদ বিন হাজার আল শিহি। তাঁদের মধ্যে বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর বিষয়ে কথা হয়। রাষ্ট্রদূত দক্ষ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে তাঁর সরকারের সহায়তার আশ্বাস দেন বলে সূত্র জানায়।

এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে অগ্রগতি এতটুকুই। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) প্রেসিডেন্ট মো. আবুল বাশার বলেন, ‘একের পর এক শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অথচ সরকার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। শ্রমবাজারগুলো ভারত, নেপাল, ফিলিপাইন ও পাকিস্তানের দখলে চলে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে জনশক্তি রপ্তানিতে বিপর্যয় নেমে আসবে। চালু বাজারগুলো ধরে রাখা এবং বন্ধ বাজারগুলো দ্রুত চালুর উদ্যোগ সরকারকে নিতে হবে।’

প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, ‘বাংলাদেশি কর্মীদের পছন্দের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সেখানে তাদের কঠোর পরিশ্রমের সুনাম রয়েছে। তাই আবার শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি।’ তিনি বলেন, ‘শিক্ষক, আইটি প্রফেশনাল, ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার ও নার্স নেওয়ার জন্যও রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে আমিরাত সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।’ 

সূত্র-কালের কণ্ঠ

জেডএম

উপরে