আপডেট : ২৯ মার্চ, ২০১৬ ১৬:০১

রিজার্ভ চুরি; ৪৬ লাখ ডলার বাংলাদেশকে ফেরতের নির্দেশ

বিডিটাইমস ডেস্ক
রিজার্ভ চুরি; ৪৬ লাখ ডলার বাংলাদেশকে ফেরতের নির্দেশ
বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার বাংলাদেশকে ফেরত দিতে ব্যবসায়ী কাম সিন অং ওরফে কিম অংকে নির্দেশ দিয়েছে ফিলিপাইন সিনেটের 'ব্লু-রিবন' কমিটি।

মঙ্গলবার ব্লু-রিবন কমিটির শুনানিতে অর্থচুরির ঘটনার মূল হোতা কিম অং হাজির হলে তাকে এ নির্দেশ দেয়া হয়।

অর্থ চুরি নিয়ে পরবর্তী শুনানি আগামী ৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ১৫ ও ১৭ই মার্চ শুনানি হয়।

মঙ্গলবারের শুনানিতে কিম অং জানান, বাংলাদেশের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনে (আরসিবিসি) নিয়ে আসে সুহুয়া গাও ও ডিং ঝিজে নামের দুজন চীনা নাগরিক।

তবে শুনানিতে এ দুজনের নাম সরাসরি বলেননি ব্যবসায়ী কিম অং। গোপন খামে করে জড়িত দুজনের নাম ও পাসপোর্টের অনুলিপি সিনেট কমিটির কাছে জমা দেয়ার কথা বলেন তিনি।

তবে সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা জুয়ান পন্স এনরিল জানান, কিম অং অর্থ পাচারকারী হিসেবে সুহুয়া গাও ও ডিং ঝিজের নামই বলেছেন।

শুনানিতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কিম অং বলেন, প্রথমত যেসকল নথিপত্র জালিয়াতি করে ফিলিপাইনে অর্থ আনা হয়েছে তার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই।আমি জানি না, আট কোটি ১০ লাখ ডলার কোথা থেকে এসেছে।

তিনি বলেন, দ্বিতীয়ত, দুই বিদেশি নাগরিক ৮১ মিলিয়ন ডলার এ দেশে নিয়ে এসেছেন। তাদের মধ্যে একজন ফিলিপাইনে যাওয়া-আসা করেন এবং তিনি প্রমোদ ভ্রমণের এজেন্ট (জাংকেট এজেন্ট) ও জুয়াড়ি (হাই রোলার) হিসেবে পরিচিত। তদন্তকারীদের সহায়তার জন্য আমি তাদের নাম গোপন খামে করে পাসপোর্টের অনুলিপিসহ কমিটির কাছে জমা দেব।

শুনানিতে কিম অং বলেন, যে ব্যাংক হিসাব জালিয়াতি করে অর্থ স্থানান্তর ও উত্তোলন করা হয়েছে তার সঙ্গে আরসিবিসির জুপিটার স্ট্রিট শাখা ব্যবস্থাপক মাইয়া সান্তোস দেগুইতো জড়িত।
এদিকে আজকের শুনানিতে দেগুইতোর হাজির থাকার কথা থাকলেও তিনি অসুস্থতার কথা বলে আসেননি।

৩৯ বছর বয়সী ব্যবসায়ী কিম অং এক দশক আগে চীন থেকে ফিলিপাইনে আসেন। এরপর কলেজের পড়াশোনা বাদ দিয়ে একটি সিগারেট কোম্পানিতে বিক্রয় প্রতিনিধির চাকরি নেন।

কিন্তু হঠাৎ করেই ব্যবসায়ী বনে যান কিম অং। এরপর প্রভাবশালী রাজনীতিক ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে তার।

অবৈধ মাদক ব্যবসা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে আগেও সিনেটে তলব করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত ৪ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের চলতি হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়।

এর মধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার স্থানান্তর করা হয় ফিলিপাইনের আরসিবিসিতে। অন্যদিকে ২ কোটি ডলার শ্রীলংকার একটি ভূয়া এনজিওর নামে পাঠানোর চেষ্টা করলেও তা আটকে দেয় দেশটির প্যান এশিয়া ব্যাংক।

মোট ৫টি সুইফট বার্তার মাধ্যমে এসব অর্থ চুরি হয়েছে উল্লেখ করে ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় মামলা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের ব্যাক অফিস অব দ্য ডিলিং রুমের যুগ্ম পরিচালক যোবায়ের বিন হুদা।

মানি লন্ডারিং আইনে করা মামলাটির তদন্ত করছে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ বিভাগহ (সিআইডি)।
 
বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম
উপরে