আপডেট : ১৯ মার্চ, ২০১৬ ১৪:০১
এনবিআরের নতুন পরিকল্পনা

ভ্যাট দিন, পুরস্কার জিতুন

বিডিটাইমস ডেস্ক
ভ্যাট দিন, পুরস্কার জিতুন

আপনি মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট দিয়ে লটারি জিততে পারেন। আপনি বিপণিবিতান থেকে পণ্য কিনলেন। এ জন্য বিক্রেতা আপনাকে মূসক রসিদ বুঝিয়ে দিলেন। সেই রসিদের ইনভয়েস নম্বরটি একটি বিশেষ নম্বরে এসএমএস (সংক্ষিপ্ত বার্তা) করতে হবে। যতবারই এভাবে পণ্য কিনবেন, ততবারই এসএমএস করতে পারবেন। মাস শেষে এমন এসএমএস দাতাদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচন করা হবে। প্রতি মাসেই লটারি জেতার সুযোগ থাকবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের আওতায় ‘করদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির পরিকল্পনা’ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে ভোক্তা পর্যায়ে মূসকদাতাদের জন্য লটারি আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আগামী ১ জুলাই নতুন মূসক আইন বাস্তবায়িত হবে। সেই আইনে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় মূসক তথ্য সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আর খুচরা পর্যায়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে নেওয়া মূসকের অর্থ যথাযথভাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা পড়ছে—তা নিশ্চিত করতে চায় এনবিআর। এ জন্য ভোক্তারা যাতে নিজ উদ্যোগেই মূসক চালান বা রসিদ বুঝে নিতে সচেতন হন; সে জন্য এ লটারির আয়োজন করতে যাচ্ছে এনবিআর। লটারির বিজয়ীদের কী পুরস্কার দেওয়া হবে তা এখনো ঠিক হয়নি। বিজয়ীদের পুরস্কার হিসেবে নগদ অর্থ কিংবা দামি পণ্য দেওয়া হতে পারে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, লটারির আয়োজন করতে একটি মুঠোফোন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করবে এনবিআর। তবে এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রমালিকানাধীন টেলিটককে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। টেলিটক একটি লটারি পদ্ধতি তৈরি করবে।
প্রাথমিকভাবে এনবিআরের পরিকল্পনা হলো, ভোক্তা পর্যায়ে ক্রেতারা কোনো একটি পণ্য কিনলে দোকানি ভ্যাট রসিদ দেন। সেই ভ্যাট রসিদের একটি চালান (ইনভয়েস) নম্বর থাকে। মুঠোফোনের মাধ্যমে ক্রেতাকে সেই নম্বরটি এনবিআরের দেওয়া একটি নির্দিষ্ট নম্বরে এসএমএস করতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে লটারি পরিচালনা করার জন্য মনোনীত ওই মোবাইল ফোন অপারেটরের স্বয়ংক্রিয় তথ্য সংরক্ষণাগারে এসএমএসের তথ্য জমা হয়ে যাবে। পরে মাস শেষে লটারির মাধ্যমে ১০০ জন মূসকদাতা বেছে নেওয়া হবে। এভাবে পণ্য কিনে মূসকদাতা যত বেশি এসএমএস করবেন, লটারি জেতার সম্ভাবনাও বাড়বে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের পরিচালক রেজাউল হাসান বলেন, মূলত এটি একটি জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি। লটারি জেতার সুযোগ থাকলে কোনো পণ্য কিনেই মূসকদাতা রসিদ চাইবেন। এতে ওই ক্রেতা যে মূসক পরিশোধ করেছেন, এটা নিশ্চিত হবে। তেমনি ভবিষ্যতে ক্রেতারা মূসক পরিশোধেও সচেতন হবেন। এ ছাড়া ক্রেতার কাছ থেকে মূসক নিয়ে তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দিয়ে ফাঁকির প্রবণতাও কমে যাবে।

অভিযোগ রয়েছে, মূসকের অর্থ নিয়েও ক্রেতাদের রসিদ দেন না অনেক বিক্রেতা। যেহেতু রসিদ দেওয়ার কোনো প্রমাণ নেই, তাই মূসকের অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেন না অনেক বিক্রেতা। এর ফলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এনবিআর।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, এ লটারির আয়োজন করতে এনবিআরকে কোনো টাকা খরচ করতে হবে না। লটারির এসএমএসের মাধ্যমে যে অর্থ আয় হবে, সেই অর্থ দিয়েই লটারির পুরস্কারের অর্থের চাহিদা মেটানো হবে। ১ জুলাই থেকে নতুন মূসক আইন চালু হলেও লটারি আয়োজন করতে আরও ছয় মাস সময় লাগবে। এ সময়ের মধ্যে খুচরা পর্যায়ে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে রসিদ দেওয়ার ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করবে এনবিআর।

এদিকে নতুন মূসক আইন সম্পর্কে যেকোনো তথ্যের চাহিদা মেটাতে শিগগির একটি কল সেন্টার চালু করতে যাচ্ছে এনবিআর। সেই কল সেন্টারে ফোন করে ভোক্তা যেকোনো তথ্য জানতে পারবেন। আবার বিক্রেতা বিক্রির রসিদ না দিলে অভিযোগ করতে পারবেন। মূসক প্রদানে সচেতনতা বাড়াতে ইতিমধ্যে ভোক্তাদের জন্য সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করছে এনবিআর। চলতি অর্থবছরে এমন ১৫৫টি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাতীয়, বিভাগীয় ও কমিশনারেট পর্যায়ে ৭০ হাজারের বেশি করদাতাকে সচেতন করা হবে।

সূত্র-প্রথম আলো

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

 

উপরে