আপডেট : ১৫ মার্চ, ২০১৬ ১৫:১২

আমাদের চুরি যাওয়া টাকা গেলো কোথায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
আমাদের চুরি যাওয়া টাকা গেলো কোথায়

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের চুরি হওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনে চলে যায়। পরে সেদেশের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) মাকাতি শাখা থেকে যেদিন ওই অর্থ উত্তোলন করা হয় সেদিন ওই শাখার সব সিসি ক্যামেরা বন্ধ ছিল। আর যেসব অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয় সেসব অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ভুল তথ্য দেয়া হয়েছিল। এজন্য চুরি যাওয়া অর্থ ঠিক কোথায় গেল সে বিষয়ে সঠিক তথ্য পাচ্ছে না সেদেশের প্রশাসনও। তবে সেদেশের সিনেট বলছে অর্থ যেখানেই থাকুক তা খুঁজে বের করা হবে। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। 

অন্যদিকে আজ মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে জরুরি বোর্ড সভা ডাকা হয়েছিল তাও স্থগিত করা হয়েছে। আর রিজার্ভ হ্যাকের ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী। তবে কী সিদ্ধান্ত আসতে পারে সেই বিষয়ে তিনি কিছুই বলেননি। এখন কি ঘটতে যাচ্ছে তা দেখা বিষয়।

গতকাল সোমবার বেলা ১২টার দিকে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। পরে বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানকে জরুরি তলব করেছিলেন অর্থমন্ত্রী। তবে গভর্নর সেখানে না গিয়ে ভারত থেকে ফিরে সোজা নিজ বাসায় যান। কেন তিনি সচিবালয়ে যাননি সে বিষয়ে কিছুই জানা যায়নি। আর গভর্নর না আসায় সন্ধ্যায় সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানিয়ে দেয়া হয় আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় সাংবাদিক সম্মেলন করবেন অর্থমন্ত্রী। এ সময় অর্থমন্ত্রীর কক্ষে অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এম আসলাম আলম, অতিরিক্ত সচিব গোকুল চাঁদ দাস উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকে ব্রিফিংকালে ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, আমরা সবদিক থেকে সক্রিয় ও সজাগ আছি। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, ফিলিপাইনের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে যে, যে ব্যাংকের মাধ্যমে রিজার্ভের টাকা স্থানান্তরিত হয়েছে, সে ব্যাংক যথাযথ নিয়ম না মেনেই এ কাজ করেছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যে তদন্ত দল নিয়োগ দিয়েছে তারা কাজ করছে। এতে অগ্রগতিও আছে, তবে তদন্তের স্বার্থে কিছু প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে চুরি যাওয়া অর্থ ফিলিপাইনের ব্যাংক ব্যবস্থায় আসার পরও ওই অর্থ কিভাবে ব্যয় হয়েছে তা বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে দেশটির সিনেট কমিটি। গতকাল সোমবার সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাত্কারে ফিলিপাইন পার্লামেন্টের ব্যাংক ও আর্থিক বিষয়ক কমিটির প্রধান সিনেটর টিয়োফিস্টো গুইনগোন এসব কথা বলেন। এন্টি-মানি লন্ডারিং কাউন্সিলসহ (এএমএলসি) ফিলিপাইনের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ব্যাংক জালিয়াতির এ ঘটনা তদন্ত করছে। ফিলিপাইনের দৈনিক ইনকোয়ারার সূত্রে এসব খবর জানা গেছে।

আরসিবিসি’র জুপিটার স্ট্রিটের মাকাতি শাখার ম্যানেজার জানিয়েছেন, হ্যাকারদের সঙ্গে ব্যাংকের চেয়ারম্যানও রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িত।

চুরির এ অর্থ ইতোমধ্যে অন্য কোথাও পাঠানো হয়েছে কি না জানতে চাইলে আরেক সিনেটর সার্জ ওসমেনিয়া বলেন, কমিটি সেটা নিয়ে কাজ করছে না। অর্থ কোথায় গেছে সে সম্পর্কে কমিটির কোনো ধারণা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সিনেটর টিয়োফিস্টো গুইনগোন জানান, ক্রস বর্ডার ইলেকট্রনিক ফ্রড এবং মানি লন্ডারিং স্ক্যামের ৮১ মিলিয়ন ডলার অর্থ গত ৯ ফেব্রুয়ারি জুপিটার স্ট্রিটের মাকাতি শাখা থেকে চার ব্যক্তি উত্তোলন করেন। তবে যেদিন তারা অর্থ উত্তোলন করেন ওইদিন ওই ব্যাংকের সব সিসি ক্যামেরা অকার্যকর ছিল। আর তারা যেসব তথ্য দিয়ে ওই ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলেছিল তার সবই ছিল ভুয়া। অ্যাকাউন্টধারীরা হলেন মাইকেল ফ্রান্সিসকো ক্রুজ, জেসি ক্রিস্টোফার লার্গোস, আলফ্রেড সানতোস ভারগারা এবং এনরিকো তিয়োদরো ভাসকুইজ। তিনি বলেন, তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেয়া তথ্যগুলো ভুল ছিল। উদাহরণ হিসাবে তিনি বলেন, তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ভুয়া ছিল। তারা চাকরিজীবী হিসাবে পরিচয় দিলেও তাদের নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান বলছে তারা সেখানে চাকরি করেন না। চাইনিজ নববর্ষের আগের দিন তারা ওই ব্যাংকের শাখা থেকে টাকা তুলে নেয়। অথচ ওইদিন ব্যাংকের সব সিসি ক্যামেরা অকার্যকর ছিল। যা অস্বাভাবিক। এদিকে আজ মঙ্গলবার সিনেট ব্লু রিবন কমিটির বৈঠকে এ অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হবে। সেখানে অভিযুক্ত চার জনকে তলব করা হয়েছে বলে ফিলিপাইনের ওই পত্রিকা সূত্রে জানা গেছে।

সিনেট ব্লু রিবন কমিটি চেয়ারম্যান বলেন, প্রথমত অর্থ হাতিয়ে নেয়ার সত্যতা নিশ্চিত করা হবে। এ অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক থেকে ফিলিপাইন ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে সেটাও প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে ২০১৫ সালে রিজার্ভ ব্যাংকে খোলা ৪ অ্যাকাউন্টে কিভাবে এ অর্থ বন্টন হয়েছে তাও খতিয়ে দেখা হবে। সূত্র-খবর ইত্তেফাক

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম
 

উপরে