আপডেট : ৫ মার্চ, ২০১৬ ০১:৫৭

ব্যাংক ঋণের সুদ হার কমছে

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
ব্যাংক ঋণের সুদ হার কমছে
ঋণের সুদ আর প্রকাশ্যে-গোপনে আরোপিত ব্যাংকের বিভিন্ন সেবা ফি বা চার্জ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মূলত ব্যবসার খরচ কমিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকঋণের সুদের হার এক অঙ্কে (১০ শতাংশের নিচে) এবং সেবা ফি অর্ধেকেরও নিচে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ উদ্যোগ কার্যকর করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
 
এছাড়া ব্যাংকগুলো থেকে যেসব গ্রাহক ঋণ নিয়ে নিয়মিত পরিশোধ করছেন, তাঁদের ‘ভালো গ্রাহক’ আখ্যা দিয়ে তালিকা করে প্রণোদনা দেওয়ার আগের সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক।
 
ব্যবসায় খরচ কমাতে ও বেসরকারি খাতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে ‘প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট পলিসি কো-অর্ডিনেশন কমিটি’ রয়েছে সরকারের। গত ২২ ফেব্রুয়ারি মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে কমিটির এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ঋণপত্রের (এলসি) চার্জ কমানো, ব্যাংকে হিসাব খোলা, হিসাব বিবরণী নেওয়া, টাকা উত্তোলনের মতো সেবাগুলো চার্জ বা ফিমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে তা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ব্যাংকগুলোর উচিত সব চার্জ কমিয়ে যুক্তিযুক্ত করা। একই সঙ্গে সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে নিয়ে আসা।’ কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, একটি বৈঠকে সুদের হার ও চার্জ কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রতিনিধিরাও ছিলেন। তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে এসব চার্জ বা ফি কমিয়ে যুক্তিযুক্ত করার।
 
জানা গেছে, ঋণপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিশ্বে ১৮৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৩তম; আর ব্যবসার খরচ বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান চলতি বছর ১৮৯টি দেশের মধ্যে ১৭৪তম। বাড়তি খরচের কারণে দেশি উৎপাদকরা মার খাচ্ছেন বিদেশ থেকে আমদানি হওয়া পণ্যমূল্যের কাছে। রপ্তানিকারকরা প্রতিযোগিতায় কোণঠাসা হচ্ছেন অন্য দেশের পণ্যের কাছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে খরচ অনেক বেশি হওয়ায় বিদেশি ব্যবসায়ীদেরও এ দেশে বিনিয়োগে আগ্রহ কমছে। এ অবস্থায় ব্যবসায় খরচ কমাতে তৎপর হয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, ব্যাংকঋণের সুদের হার কমানো এবং বিভিন্ন সার্ভিসের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর নেওয়া চার্জ বা ফি কমানোর মাধ্যমে ব্যবসার খরচ কমানোর সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, পাশাপাশি ব্যাংক ও বীমা অফিসগুলোর উচিত তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
 
তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের কার্যবিবরণীতে ব্যাংকের সার্ভিস চার্জ কমানো প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘প্রতিবেশী দেশের ব্যাংকগুলো তাদের সেবাগুলোকে বান্ডিল আকারে প্রদান করে, যাতে কাস্টমারদের কম চার্জ দিতে হয়। আমাদের দেশে কমার্শিয়াল ব্যাংকগুলো বেসিক সুবিধাগুলোর চার্জগুলোকে বান্ডিল আকারে বিনা মূল্যে প্রদান করতে পারে। যেমন ব্যাংক স্টেটমেন্ট, এসএমএস সার্ভিস, টাকা তোলা ইত্যাদি। এলসি করার জন্য বিভিন্ন হারে চার্জ ধার্য করা হচ্ছে, যা অনেক বেশি। এই চার্জগুলোর কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এক কোটি টাকার একটি এলসি করতে ৩ শতাংশ চার্জ দিতে হয়, যা অনেক বেশি। তাই এই চার্জগুলোর ধরন ও পরিমাণ কমানো দরকার। এলসি চার্জের পাশাপাশি ব্যাংকগুলো সুইফট চার্জও নিয়ে থাকে, যা অতিরিক্ত। এলসি চার্জের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে ঊর্ধ্বসীমা তৈরি করে দিতে হবে, যা ০.২৫ শতাংশ থেকে ১ শতাংশের মধ্যে হতে পারে।’
 
এ ছাড়া ব্যাংকগুলোর প্রধান ও উল্লেখযোগ্য সেবাগুলো চিহ্নিত করে সেসব সেবা সম্পর্কে গ্রাহকদের সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে। গ্রাহকরা হিসাব বিবরণী (ব্যাংক স্টেটমেন্ট), অ্যাকাউন্ট খোলা, চেক বই নেওয়া, টাকা তোলাসহ যেসব সার্ভিস সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেন, সেসব সার্ভিসের চার্জ বিষয়ে একটি বান্ডিল তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সেই বান্ডিলের তালিকা সব গ্রাহককে জানাবে।
 
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক পরপর তিন বছর নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করলে তিনি ভালো গ্রাহক হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং তৃতীয় বছর থেকে প্রতিবছর তাঁর দেওয়া সুদের ১০ শতাংশ হারে অব্যাহতি পাবেন। আগের তিন বছর গ্রাহকদের নিয়মিত কিস্তি দেওয়ার তথ্য পর্যালোচনা করে ২০১৫ সালের ভালো গ্রাহক চিহ্নিত করে গত বছরের ১৯ মার্চ থেকে তাঁদের ১০ শতাংশ হারে অব্যাহতি দিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এ-সংক্রান্ত উদ্যোগের কথা অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আবু ফরাহ মো. নাছের।
উপরে