আপডেট : ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৩:২৬
ওবামার স্বাক্ষরিত বিলে হতবাক বাংলাদেশ

নির্যাতিত নারীদের দিয়ে তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারবে না

অনলাইন ডেস্ক
নির্যাতিত নারীদের দিয়ে তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারবে না
ছবি: DW

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বুধবার ট্যারিফ আইন সংশোধনের বিলে সই করেছেন৷ এর ফলে বাংলাদেশে নির্যাতিত নারীদের দিয়ে তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ঢুকতে পারবে না৷

বার্তা সংস্থা এপি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সংশোধন করা ঐ আইনে মানুষকে জোরপূর্বক শ্রমে নিযুক্ত করে উৎপাদন করা পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷ ১৯৩০ সালের ট্যারিফ আইনটি ৮৫ বছর পর সংশোধন করা হয়৷ এর ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দাসদের দিয়ে ধরা মাছ ও আফ্রিকায় সোনার খনি থেকে শিশুশ্রম ব্যবহার করে উত্তোলিত সোনা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ঢুকতে পারবে না৷

বাণিজ্যসচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ আইন সংশোধনের বিষয়টি তাঁর জানা নেই৷ তিনি বলেন, বাংলাদেশের পোশাক খাতে জোর করে কাজ করানোর কোনো নজির নেই৷

‘সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ' সিপিডি-র নির্বাহী পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, বাংলাদেশ প্রসঙ্গটি আরোপিতভাবে আনা হয়েছে৷ তিনি বলেন, ‘‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকায় জোর করে কাজ করানোর বিষয়টি ঠিক আছে৷ কিন্তু বাংলাদেশের পোশাক খাতের নারী শ্রমিকদের নিয়ে এটা বলা হলে তা হবে সম্পূর্ণ বাস্তবতা বিবর্জিত৷ এর আগে যখন জিএসপি স্থগিত করা হয়েছিল, তখন কিন্তু ১৬টি শর্তের কথা তারা বলেছিল৷

তিনি বলেন, ওই সব জায়গায় আমাদের ঘাটতি আছে৷ সেগুলো আমরা ঠিক করার চেষ্টা করছি৷ অনেক কিছু করেছিও৷ তখন কিন্তু নির্যাতিত নারী শ্রমিকদের বিষয়টি বলা হয়নি৷ তাহলে এখন হঠাৎ কেন এই প্রসঙ্গ? বাংলাদেশের উচিত দ্রুত এর প্রতিবাদ করা৷

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে অন্তত ২ কোটি ৯০ লাখ মানুষকে এরকম জোর করে কাজ করানো হয়৷ এই অবৈধ শিল্প থেকে মুনাফা আসে বছরে ১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার৷ যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ট্যারিফ আইন সংশোধনের বিলটি তুলেছিলেন দেশটির ওহাইও অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেসম্যান শ্যারড ব্রাউন৷ এপিকে বুধবার তিনি বলেন, ‘‘এটা ৮৫ বছর ধরেই আমাদের জন্য খুবই বিব্রতকর ছিল যে জোর করে কাজ করানো হয় এবং দাসের মতো আচরণ করা হয়- এমন মানুষদের তৈরি পণ্য আমরা আমদানি করছি৷'' যুক্তরাষ্ট্রের এই আইন বৈশ্বিক দাসত্ব দূরীকরণে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন৷

উপরে