আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৭:২৭

চলতি বছরেই বাজারে আসছে দেশে সংযোজিত গাড়ি

অনলাইন ডেস্ক
চলতি বছরেই বাজারে আসছে দেশে সংযোজিত গাড়ি

দেশের শীর্ষ পর্যায়ের শিল্পপ্রতিষ্ঠান পিএইচপি গ্রুপ এবার দেশেই গাড়ি সংযোজনের কাজ শুরু করেছে । চলতি বছরের মাঝামাঝিতে মালয়েশিয়া ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান প্রোটনের প্রিভি গাড়ি বাজারে আনবে তারা।

একই সময়ে চীনের একটি মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় মোটরসাইকেল সংযোজন করে পিএইচপি ব্র্যান্ড নামে তা বাজারজাত করবে তারা। চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানার সাগরিকা শিল্প এলাকায় গাড়ি সংযোজনের কাজটি চলছে।
পিএইচপি গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন বলেন, চলতি বছরের জুন-জুলাইয়ের মধ্যে পিএইচপির সংযোজিত গাড়ি ও মোটরসাইকেল বাজারে আসবে। সে লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছি আমরা।

একসময় বাংলাদেশে প্রোটন ব্র্যান্ডের গাড়ি আমদানি করা হতো। ১৯৮৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সেই কাজটি করেছে ব্যবসায়ী নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টুর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মাল্টিমোড গ্রুপ।
জানতে চাইলে মাল্টিমোড গ্রুপের উপপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ডিসিইও) তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘১৯৮৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রোটন ব্র্যান্ডের গাড়ি আমদানি ও বাজারজাতের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। ২০১৪ সালের পর আমরা সেটা বন্ধ করে দিই।’
জানা গেছে, ২০১৪ সালে প্রোটনের আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে মিলে বাংলাদেশে গাড়ি সংযোজন শিল্প গড়ে তোলার আলোচনা শুরু করে পিএইচপি গ্রুপ। ২০১৫ সালের শুরুতে পিএইচপি গ্রুপ গাড়ি সংযোজন শিল্পে বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়।

চট্টগ্রামভিত্তিক এ শিল্প গ্রুপটি বর্তমানে স্টিল, গ্লাস, বিদ্যুৎ, পেট্রোলিয়াম, আবাসন, বস্ত্র, অ্যালুমিনিয়াম, জাহাজভাঙা শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প, সিকিউরিটিজ, মিডিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে।
পিএইচপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, পিএইচপি গ্রুপ অটোমোবাইল খাতের বিপুল বিনিয়োগ নিয়ে আসছে। এ খাতে সম্ভাব্য বিনিয়োগ ধরা হয়েছে ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা। পর্যায়ক্রমে এ বিনিয়োগ করা হবে। চট্টগ্রামের সাগরিকা শিল্প এলাকায় প্রাথমিকভাবে গাড়ি ও মোটরসাইকেল সংযোজনের কাজটি শুরু করা হলেও পরবর্তী সময়ে তা আনোয়ারায় স্থানান্তর করা হবে। সেখানে ২০ একর জায়গার ওপর একটি পরিপূর্ণ অটোমোবাইল শিল্প গড়ে তোলার কাজ চলছে।
এদিকে, গাড়ি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যবসায়ী জানান, দেশে গাড়ির বাজারটি এখনো পুরোনো বা রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দখলে। তবে এখন নতুন গাড়ির চাহিদাও একটু একটু করে বাড়ছে।
জানতে চাইলে পুরোনো গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী বলেন, একসময় বাংলাদেশে গাড়ির বাজারের ৯৫ শতাংশই ছিল রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দখলে। ক্রমান্বয়ে নতুন গাড়ির চাহিদা বাড়ায় সেটি কমে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর ও মংলা বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে নতুন-পুরোনো মিলিয়ে প্রায় ২৭ হাজার গাড়ি আমদানি হয়। এর মধ্যে নতুন গাড়ির সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ হাজার।
গাড়ি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেশে নতুন গাড়ির সিংহভাগই ব্যবহারকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান। যার একটি অংশের জোগান দিচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ। বাকি চাহিদা কয়েকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান পূরণ করছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এই প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল খায়ের সর্দার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জাপানের মিৎসুবিশি ব্র্যান্ডের পাজেরো স্পোর্টস গাড়ি সংযোজন ও বাজারজাত করে আসছে প্রগতি। গড়ে বছরে ৫০০-এর মতো গাড়ি সংযোজন করা হয়।
গাড়ি ব্যবসায়ীরা বলছেন, যেহেতু নতুন গাড়ির বাজারটি ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে, সেহেতু এ খাতে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে এগিয়ে আসা উচিত। একজন এগিয়ে এলে অন্যরাও তাতে উৎসাহিত হবেন।
দেশে গাড়ি সংযোজন শিল্পে এখন পর্যন্ত বড় বিনিয়োগ নিয়ে অন্য কোনো উদ্যোক্তা এগিয়ে না এলেও ওয়ালটন, রানারসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের মোটরসাইকেল সংযোজন শিল্পে বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে। সেই হিসাবে বেসরকারি খাতে গাড়ি সংযোজন শিল্পে পিএইচপির বিনিয়োগটি হবে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে