আপডেট : ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৮:১৫

নেপালে বিনিয়োগে আগ্রহী পোষাক শিল্প উদ্যোক্তারা, নিতে চায় শুল্কমুক্ত সুবিধা

অনলাইন ডেস্ক
নেপালে বিনিয়োগে আগ্রহী পোষাক শিল্প উদ্যোক্তারা, নিতে চায় শুল্কমুক্ত সুবিধা

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে নেপাল। আর এই সুযোগটাই নিতে আগ্রহী বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা। নেপালে কারখানা স্থাপন করে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কমুক্ত রফতানির সুযোগ নিতে চায় তারা। বাংলাদেশী পোষাক শিল্প উদ্যোক্তাদের অনেকেরই বিষয়টিতে বেশ আগ্রহ রয়েছে।

কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপানে পোশাক রফতানিতে আগে থেকেই শুল্কমুক্ত সুবিধা পায় নেপাল। ফলে নেপালে বিনিয়োগ থেকে লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন পোষাক শিল্প সংশ্লিষ্টরা।


ভূমিকম্পে বড় মাপের ক্ষয়ক্ষতির পর নেপাল তৈরি পোশাক রফতানি বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি সে দেশের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চেম্বার ও পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের বৈঠক হয়েছে।

পোশাক খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে উদ্যোক্তাদের জন্য পোশাক প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (জিপিজেড), কর অবকাশ ও ঋণসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশি বিনিয়োগের  বিষয়ে নেপাল সরকারের মনোভাব বেশ ইতিবাচক।
এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, “নেপাল যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রফতানিতে ১০ বছরের শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে। এতে বাংলাদেশ কিছুটা প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের নেপালে বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া উচিত। শুল্কমুক্ত সুবিধায় রফতানি করতে পারলে প্রতিযোগিতায় ভালো করা সম্ভব হবে।”

নেপাল বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব সুবিধা দিতে চাইছে, তাতে অনেক দেশের উদ্যোক্তারা আগ্রহী হবেন। এ সুযোগ বাংলাদেশকে নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন সালাম মুর্শেদী। 
বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, দেশেই এখন বিনিয়োগের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। নেপাল কী কী সুযোগ দেবে এবং সেগুলো কতটা কাজে লাগানো যাবে দেখে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে নেপালের শুল্কমুক্ত সুবিধা আপাতত বাংলাদেশকে চাপে ফেলবে বলে তিনি মনে করেন না।
বিজিএমইএ সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, নেপাল থেকে শুল্কমুক্ত পোশাক রফতানি সুবিধা নিতে চাইবে অনেক দেশ। বিশেষ করে প্রতিযোগী দেশ ভারত সেখানে বিনিয়োগে যেতে পারে। এ বিবেচনায় বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের নেপালে বিনিয়োগ করার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। সরকার পর্যালোচনা করে বিশেষ অনুমতির ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগের সুযোগ দিতে পারে। 
সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ায় বাংলাদেশের চেয়ে ১৭ শতাংশ কম খরচে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রফতানি করতে পারবে নেপাল। দেশটি এ সুবিধা পাওয়ায় বাংলাদেশের করণীয় বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা  বলেন, নেপালের মতো এ দেশের পোশাক খাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে শুল্কমুক্ত সুবিধা আবারও চাইবে বাংলাদেশ।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশটিতে বিনিয়োগ করে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিতে পারেন এ দেশের ব্যবসায়ীরা। তবে বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তা ছাড়া নেপালের অবকাঠামো সক্ষমতা আগে যাচাই করে দেখতে হবে।
বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে