আপডেট : ২৬ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৬:১৬

কোটিপতির সংখ্যা লাখের উপরে, আয়কর দেন মাত্র ৬ হাজার!

বিডিটাইমস ডেস্ক
কোটিপতির সংখ্যা লাখের উপরে, আয়কর দেন মাত্র ৬ হাজার!

বাংলাদেশে এখন কোটিপতির সংখ্যা একলাখেরও বেশি। গত পাঁচ বছরে দেশে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩৬ হাজার। সোমবার (২৫ জানুয়ারি) অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদে দেওয়া প্রশ্নোত্তর পর্বে কোটিপতির এই তথ্য জানিয়েছেন।

অন্যদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দেওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন মাত্র ৬ হাজার ১৭৫ জন কোটিপতি।

অথচ, অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দেশে বর্তমানে কোটিপতির সংখ্যা ১ লাখ ১৪ হাজার ২৬৫জন। এই হিসাব ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ব্যাংকে জমা থাকা টাকার হিসাবে। অর্থাৎ, সরকারি তথ্য অনুযায়ী ১ লাখের উপরে কোটিপতি আয়কর ফাঁকি দিয়েছেন।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে কোটিপতির সংখ্যা ৫৬ হাজার। অর্থাৎ আনুষ্ঠানিক হিসাবেই প্রায় ৫০ হাজার কোটিপতি আয়কর রিটার্ন জমা দেন না কিংবা আয়কর ফাঁকি দেন।

এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ব্যক্তি পর্যায়ের করদাতাদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর শেষ হয়। এ সময়ে সারা দেশে এনবিআরের কর অফিসগুলোতে জমা পড়া আয়কর রিটার্নে ১ কোটি টাকার ওপর সম্পদ দেখিয়েছেন মাত্র ৬ হাজার ১৭৫ জন করদাতা।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক হিসাবধারী হিসেবে দেশে কোটিপতি রয়েছেন ৫৬ হাজার ২৪৫ জন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে এসব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি টাকার ওপর স্থিতি ছিল। সে হিসাবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেননি ৫০ হাজারের বেশি কোটিপতি।

তবে বেসরকারি হিসাবে দেশে কোটিপতির প্রকৃত সংখ্যা আরো কয়েক গুণ বেশি। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যানুসারে বর্তমানে কম করে হলেও প্রায় আড়াই লাখ কোটিপতি রয়েছেন বাংলাদেশে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কর প্রদানে কোটিপতিদের অনীহা নতুন কিছু নয়। এর আগের করবর্ষের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে সে রকম চিত্রই প্রকাশ পায়।

এনবিআর থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে দেখা যায়, ২০১১ করবর্ষে সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী চূড়ান্ত হিসাবে ২ কোটি টাকার ওপরে সম্পদ আছে এমন করদাতার সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৩০৩ জন। যেখানে ২০১২ সালে ৪ হাজার ৮৬৫ জন, ২০১৩ সালে ছিল ৫ হাজার ১৪৫ জন এবং ২০১৪ সালে ওই সংখ্যা ছিল ৫ হাজারের কিছু বেশি।

এ বিষয়ে এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী কথা বলতে গেলেও মাত্র ৬ হাজার ব্যক্তি আয়কর রিটার্নে কোটি টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন- এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

যত দিন যাচ্ছে কোটিপতিদের কাছ থেকে কর আদায় তত কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নিয়ে কোটিপতিদের শনাক্ত করার উদ্যোগ এনবিআরের গ্রহণ করা উচিত। এরপর তাদের যথাযথ আইনের আওতায় আনা উচিত। তা না হলে দেশের রাজস্ব আদায় বাড়বে না।

বিষয়টি অনেকটা অপ্রত্যাশিত উল্লেখ করে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, এটা অপ্রত্যাশিত যে, এত কমসংখ্যক ব্যক্তি কোটি টাকার ওপর সম্পদ দেখিয়েছেন। সঠিক হারে আয়কর দিয়ে রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে কোটিপতির সংখ্যা ৫৬ হাজার। সেখানে আমাদের আয়কর ফাইলে রিটার্ন দেন মাত্র ৬ হাজার কোটিপতি। বিষয়টি এনবিআর খতিয়ে দেখছে। যে সব কোটিপতি আয়কর ফাঁকি দিচ্ছেন তাদের জন্য অগ্রিম বার্তা হলো, ‘কর দাও, নিশ্চিন্ত থাক। তা না হলে এনবিআর কঠোর পদক্ষেপ নেবে’।

গত নভেম্বরে শেষ হওয়া সময়ে ৮ লাখ ১৫ হাজার ৮৯৪ জন করদাতা আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। এর বিপরীতে আয়কর জমা পড়েছে ১ হাজার ৫৩৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। তবে ২ লাখ ৭৬ হাজার ১৩৮ জন করদাতা আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছিলেন।

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে