আপডেট : ২৬ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৪:৪৭

বিশ্ববাজারে আবারও কমলো তেলের দাম, স্বস্তিতে সরকার

বিডিটাইমস ডেস্ক
বিশ্ববাজারে আবারও কমলো তেলের দাম, স্বস্তিতে সরকার

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও পড়ে গেছে। শুক্রবার (২২জানুয়ারি) একদফা দাম বাড়লেও সপ্তাহের শুরুতেই সোমবার (২৫ জানুয়ারি) আবার নেমে এসেছে।

বর্তমানে বিশ্ববাজারে ব্যারেল প্রতি তেলের দর ৩০ দশমিক ১৫ ডলার। আমেরিকায় এই দর ২৯দশমিক ৯০ ডলার। যদিও জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২৮ ডলারে নেমে এসেছিল।

কিন্তু বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ার কোন প্রভাব বাংলাদেশের বাজারে দেখা যায়নি। গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অব্যাহতভাবে কমতে থাকলেও বাংলাদেশে এখনো তেলের দাম কমেনি।

বাংলাদেশে সবশেষ তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১৩ সালে। তখন বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার, আর এখন তা নেমে এসেছে ৩০ ডলারেরও নিচে।

কিন্তু বাংলাদেশে তেলের দামে তার কোন প্রভাব পড়েনি বরং তেল বিক্রি থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) মুনাফা বাড়ছে।

২০১৪-১৫ অর্থ বছরে তেল বিক্রি থেকে বিপিসি মুনাফা করেছে ৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা। আর বিগত দশ বছরে জ্বালানি তেল বাবদ সরকার ভর্তুকী দিয়েছে ২৬ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা।

তেলের দাম কেন কমছে না – এ প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান এ এম বদরুদ্দোজা বলছেন, তেলের দাম সরকারের নির্বাহী আদেশে বাড়ানো-কমানো হয়, এ ব্যাপারে আমাদের কোন হাত নেই।

তবে অর্থনীতিবিদিরা বলছেন, তেলের দাম কমালে সার্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তো।

বিশ্বজাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় উৎপাদনকারী দেশগুলো সমস্যায় পড়লেও বাংলাদেশের মতো আমদানিকারক দেশগুলো বেশ স্বস্তিতেই আছে।

তেলের মূল্য ঠিক রাখতে, তেল উৎপাদনকারী সব দেশেকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে ওপেক। কিন্তু সেই আহ্বানে কোন কাজ হয়নি বলেই দেখা যাচ্ছে। বিশ্বের জ্বালানি তেলের ৪২ শতাংশ ওপেকভুক্ত দেশগুলো থেকে আসে।

তেলের দর হ্রাসের কারণে অনেকদিন ধরেই উৎপাদন কমানোর পরামর্শ দিচ্ছে ওপেক। কিন্তু ওপেকের অন্যতম সদস্য সৌদি আরবই তেলের উৎপাদন কমাতে রাজি নয়।

ওপেকের বাইরে থাকা দেশ, রাশিয়া এবং আমেরিকাও তেলের উৎপাদন কমানোর বিষয়ে কোন আলোচনায় রাজি হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ডান্ডি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল স্টিভেন্স মনে করেন, তেলের দাম ২০ ডলারেও নেমে আসতে পারে। কারণ আমেরিকায় পাথরের খাঁজ থেকে যে পরিমান তেল উৎপাদন করা হচ্ছে, তাতে তারা এই দামেও তেল বিক্রি করতে পারবে।

তবে উড ম্যাকেঞ্জির তেল বিষয়ক বিশ্লেষক অ্যালান গেলডারের মতে, ৩০ ডলারের নিচে তেলের দাম অনেক দেশই বহন করতে পারবে না। তেলের দাম কমার ফলে ভেনিজুয়েলা, আলজেরিয়া, নাইজেরিয়া ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। তেলের দাম আরো কমলে তা তাদের জন্য বিপদজনক হয়ে দাঁড়াবে।

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

 

উপরে