আপডেট : ২৩ মে, ২০১৮ ১৭:৪৯

‘খোদা হাফেজ’ বলে রোহিঙ্গা শিবির ছাড়লেন প্রিয়াঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
‘খোদা হাফেজ’ বলে রোহিঙ্গা শিবির ছাড়লেন প্রিয়াঙ্কা

রোদের তীব্রতা উপেক্ষা করে কনভয় থেকে নেমে ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত প্রিয়াঙ্কা চোপড়া শুনতে থাকেন, অনিশ্চিত যাত্রাকে সঙ্গে করে রোহিঙ্গারা কীভাবে সীমান্ত পেরিয়েছে। কয়েক দিনের ওই বিপদসংকুল যাত্রার কথা শুনে একপর্যায়ে রোদচশমা খুলে চোখের জল মোছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী। তিনি বিড়বিড় করে ‘চরম ভয়ঙ্কর’ শব্দ দুটি উচ্চারণ করে হাঁটতে শুরু করেন।

বলিউড-হলিউড তারকা গিয়েছিলেন টেকনাফের হাড়িয়াখালীর ভাঙ্গার এলাকায়। প্রায় ৯ মাস আগে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অন্যতম প্রবেশপথ ছিল এই এলাকা। নাফ নদী আর বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়কের এই অংশ দিয়ে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাত লক্ষ রোহিঙ্গার বেশিরভাগই এসেছিল। এদের বড় অংশ ছিল নারী ও শিশু। সীমান্তের ওপারে চোখ রাখলেই দেখা যায় মায়ানমার।

প্রিয়াঙ্কা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে শুনতে থাকেন, তারা প্রথমে এক বা কখনও একাধিক পাহাড় ডিঙিয়ে, নদী আর সাগর পেরিয়ে সবশেষে দীর্ঘ পথ হেঁটে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আসে। তাঁর সামনে দাঁড়ানো ইমাম হোসেনকে নাফ নদীর দিকে দেখিয়ে প্রিয়াঙ্কা প্রশ্ন করেন, তোমরা কি ওই পথ দিয়ে এসেছো? জামা কোথায়? ইমাম জানায়, প্রচণ্ড গরম, তাই সে জামা গায়ে দেয়নি। এরপর আরও কয়েকজন শিশুকে কাছে ডাকেন প্রিয়াঙ্কা। এদের অনেকের গায়ে জামা ছিল না। পরে তাদের নিয়ে তিনি ছবি তোলেন।

কিছুক্ষণের মধ্যে প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে ঘিরে ভিড় বাড়তে থাকে। সেই সঙ্গে নিরাপত্তাও জোরদার হয়। ফের নিরাপত্তা কমানোর জন্য তিনি পুলিশকে অনুরোধ করেন। তারপরও কড়া নিরাপত্তা ছিল তাঁকে ঘিরে। তাঁকে জানানো হয়, নাফ নদী দিয়ে মায়ানমার থেকে কীভাবে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে এসেছে। এখান থেকে পূর্বদিকে মায়ানমার ও পশ্চিমে বাংলাদেশের টেকনাফ এবং জলিলের দিয়া। নাফ ট্যুরিজম পার্ক করা হচ্ছে জলিলের দিয়ায়। এখানে ১৫ মিনিট থেকে ছবি তোলেন প্রিয়াঙ্কা। প্রিয়াঙ্কা লেদা বিজিবি চৌকির কাছে ইউনিসেফ পরিচালিত রোহিঙ্গা শিশুদের খেলাধুলোর জন্য তৈরি স্থান পরিদর্শন করেন।

ইউনিসেফ পরিচালিত শিশুবান্ধব কেন্দ্রে এসে ঘণ্টাখানেক কাটান। তিনি শিশুদের সঙ্গে লুডু খেলেন। তাদের আঁকা ছবি নিয়ে গল্প করেন। তিনি খেলনা চায়ের কাপ নিয়েও শিশুদের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন। পরে প্রায় মিনিট ১৫ হেঁটে লোকজনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে শিবির ছেড়ে যান। শিবির ছাড়ার আগে তিনি শিশুদের হিন্দিতে স্কুলে যাবে কিনা জানতে চান। এরপর তিনি তাদের স্কুলে যেতে বলেন, নিজের দিকে খেয়াল রাখার কথাও বলেন। সবার শেষে ‘খোদা হাফেজ’, ‘আবার দেখা হবে’ বলে বিদায় নেন।

প্রায় এক দশক ধরে ইউনিসেফের সঙ্গে যুক্ত প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ২০১৬ সালে শিশু অধিকারবিষয়ক শুভেচ্ছাদূত মনোনীত হন। সিরিয়ার শরণার্থী শিশুদের দেখতে গত বছর জর্ডনে যান প্রিয়াঙ্কা। রোহিঙ্গাদের মায়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশ যাত্রা প্রসঙ্গে প্রিয়াঙ্কা লিখেছেন, তাদের সেই যাত্রা অনেক প্রতিকূলতা আর চরম বিপজ্জনক। অনেকে কয়েকদিন হেঁটে পাহাড় পেরিয়েছে। এরপর নাফ নদী কিংবা বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়েছে ভেলায় চড়ে। তাদের অনেকেই আহত, অন্তঃসত্ত্বা আর বয়োজ্যেষ্ঠও ছিল। এখানেই তাদের যন্ত্রণার শেষ নয়।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে