আপডেট : ২০ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৭:২০

আমারও প্রসব যন্ত্রণা হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক
আমারও প্রসব যন্ত্রণা হয়েছে

মুক্তি পাচ্ছে ‘পদ্মাবত’। চরিত্রটা রুপায়ন করেছেন দীপিকা পাড়ুকোন। ভারতের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ফিল্মফেয়ারের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। তার থেকে চুম্বক অংশ পাঠকের জন্য তুলে দেয়া হল।

বলিউডে প্রায় দশ বছর হয়ে গেল। কেমন চলছে এই সফর?

তাই নাকি! আমার দশ বছর হয়ে গেছে ভাবতেই অবাক লাগে। কেউ বললে মনে পড়ে দশ বছর হয়ে গেছে। আমার মনে হয় গতকালই আসলাম। সেমতই চলছি, বলছি, করছি। আমার মনে হয় দশ বছর আমি জিরো। আরো অনেক সিনেমা করতে চাই। ভিন্ন ভিন্ন গল্পে কাজ করতে চাই। অনেক পুরস্কার পেতে চাই। অনেক অনেক কিছু বাকী এ জীবনে।

চরিত্র নিয়েই যদি বলি, শান্তি থেকে পদ্মাবত। এক চরিত্র থেকে অন্য চরিত্রে কীভাবে জাম্প করেন?

এটার একটা কৌশল আছে। এরকম না কিন্তু একসঙ্গে অনেকগুলো সিনেমার শুটিং হচ্ছে। আপনি যখন কোন চরিত্রের জন্য ফাইনাল হয়ে গেলেন। তখন রোজ একবার হলেও স্ক্রিপ্টটা পড়বেন। আর যত তাড়তাড়ি পারেন তার ভিতর ঢোকার চেষ্টা করবেন। এভাবেই আমি কখনো শান্তি হয়েছি, কখনো পিকু হয়েছি কিংবা পদ্মাবত।

‘পদ্মাবত’র মতো একটি চরিত্র থেকে বের হতে কেমন সময় লাগতে পারে বলে মনে করেন?

আমি আসলে টায়ার্ড। কোন মা যখন গর্ভবতী হয়। তখন বাড়তি একটা মানুষ তার শরীরের মধ্যে নিয়ে জীবন চালাতে হয়। আমি ঠিক এমনই ছিল গত দেড় বছর ধরে। যখন শেষ হয়েছে। আমারও প্রসব যন্ত্রনা হয়েছে। একজন মা সন্তান প্রসব করলে যেমন একটা প্রশান্তি ও শরীরটা হাল্কা লাগে। আমারও তেমন লাগছে। শেষ দুই- তিন সপ্তাহ আমি ফ্রি। আমার স্বাভাবিক জীবনে আছি। আমার আশেপাশের মানুষের সঙ্গে মন খুলে কথা বলতে পারছি।

কেন আপনি ‘পদ্মাবত’ টিমটাকে মিস করবেন?

একজন অভিনেত্রী হিসেবে এ সিনেমার জন্য ইতোমধ্যে অনেক কিছু স্যাক্রিফাইস করেছি। এমন একটি সিনেমা করার আগে আসলে এটাই পূর্বশর্ত হয়। বন্দি থাকাটা সবচেয়ে বেশি মিস করবো। যেমন আমার ইচ্ছে হলো আমার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবো। পারতাম না দেখা করতে। ইচ্ছে হতো এখানে গুরতে যাবো। একটু মন খুলে হাসবো। হাসতে পারতাম না। সবসময়ই আমার এই চরিত্রটার মধ্যে বাস করতে হতো। যদি বের হতাম। দেখতাম আমার পারফেক্টলি কিছু করতে অনেক সময় লাগছে।

‘পদ্মাবত’ করার সময় সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিষয় কী ছিল?

সে এমন একজন নারী, যাকে মানুষ এখনো পূজা করে। ইতিহাসের একটা অংশ সে। আসলে অন্য কারো মতো হওয়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। লেখকের সৃষ্ট একটি চরিত্র করা আর যে চরিত্রটা সম্পর্কে মানুষ জানে। সেই চরিত্রটা করার মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। বাজিরাও মাস্তানির সময় চরিত্রটা ফিজ্যিকালি যুদ্ধের ময়দানে যায়নি। এ সিনেমায় আমার যুদ্ধ করতে হয়েছে। এখানে এমন একটি চরিত্র করতে হয়েছে। যেখান থেকে জয়- পরাজয়, ভয় সবকিছু মাথায় নিতে হয়েছে।

এই চরিত্রটার প্রস্তুতি কী ছিল?

সঞ্জয় লীলা বানসালীর সঙ্গে ঘন্টার পর ঘন্টা চরিত্র নিয়ে বসেছি। তার রিসার্জ করা ম্যাটেরিয়েল গুলো দেখতাম আর বুঝতে চেষ্টা করতাম। সে ক্যাপ্টেন অব দ্যা শিপ। আমরা তাকে অনুসরণ করেছি। শতভাগ অনুসরন করার চেষ্টা করেছি।

এটা আপনার তৃতীয় ইতিহাস নির্ভর সিনেমা। ইতিহাস টানে কেমন ?
আমি ঠিক বুঝতে পারিনা ইতিহাস আমাকে টানে নাকি আমি ইতিহাসকে টানি। আমি ইতিহাসকে টানি বলতে, পরিচালকরা হয়তো মনে করেন আমি চরিত্রগুলোর জন্য পারফেক্ট।

সামনে কোন চরিত্রটা হতে চান?

অবশ্যই কোন প্রেরনাদায়ক চরিত্র করতে চাই। ঐতিহাসিক কোন চরিত্র হতে হবে এমন কথা নেই। আমি ভারতের সাধারণ কোন নারীর অসাধারণ কোন গল্পেও কাজ করতে চাই। যে চরিত্রটা দেখে আরো দশজন নারী অসাধারণ হতে চাইবে। আমাদের সমাজে নারীরা অনেক কিছু ত্যাগ করে। কিন্তু সে মতে তারা কিছুই পায় না। এমনকি সম্মানটা পর্যন্ত পায় না।

‘পদ্মাবত’ ইস্যুতে ইন্ডাস্ট্রিকে কতটা কাছে পেয়েছেন?

আমরা একে অন্যের সঙ্গেই আছি। এটা সময়ের ব্যাপার। সবাই সবকিছুকে যে পজিটিভ নিবে এমন কোন কথা নেই। তবে ‘পদ্মাবত’ মুক্তি পেলেই অনেক কিছুর সমাধান হবে।

রনবীর সিং ও আপনাকে পর্দায় জুটি দেখতে দর্শক অভ্যস্থ। এবার প্রতিপক্ষ হিসেবে কীভাবে নিবে?

এর আগে একে অন্যের সঙ্গে রোমান্স করেছি। একে অন্যের জন্য কেদে বুক ভাসিয়েছি। সেখান থেকে যখন একে অন্যের প্রতি ঘৃনা ছড়াবো। তখন দর্শক নতুন কিছু পাবে। নতুন কোন আকর্ষণ পাবে।

রনবীর ও আপনার প্রেমের সম্পর্ক কী সিড়ির পরের ধাপে উঠেবে?
(হাসি) সিড়ির পরের ধাপ কী?

অবশ্যই বিয়ে….

আমি মনে করি প্রত্যেকটা সম্পর্কেরই একটা স্বাভাবিক গতি ও পরিনতি আছে। সেখানে বিয়ে আসলে বিয়ে করে ফেলবো।

তাহলে ২০১৮ তে বিয়ের সিদ্ধান্তের কোন প্ল্যানিং নেই?
আমি কোন কিছুই সময়ের মধ্যে বেধে রাখতে পছন্দ করি না। আমি মনে করি জল তার আপন মনে গড়াবে। কারণ আমি এমন অনেক কিছুই মন থেকে চেয়েছি যা পাইনি। আবার যা কল্পনাও করিনি তা পেয়েছি।

রনবীরের সঙ্গ কেমন লাগে?

আমরা একসঙ্গে থাকলে কখনো বিজ্ঞানী হয়ে যাই, কখনো নিশ্চুপ, কখনো শিশু হয়ে যাই। কখনো ছোটাছুটি। কখনো অভিমান। এভাবে অনেক কিছুই তার সঙ্গে হয়।

বয়সের হিসেবে, পরিণত ও অপরিণত ভালবাসার মধ্যে পার্থক্য কী?

অপরিণত ভালবাসার মধ্যে কোন লেয়ার থাকে না। কোন চাহিদা থাকে না। শুধুই ভালবাসা থাকে। পরিণত ভালবাসায় অনেক কিছু যোগান থাকে চাহিদা থাকে।

বর্তমান সময়ের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রী, শুনতে কেমন লাগে ?

তাই নাকি! তাহলে তো আমার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। শুনে স্বস্তি পেলাম। নিজেকে তাহলে আর অভাবী ভাববো না।

নিজেকে কখনো ব্যর্থ মনে হয়?

না। কারণ ব্যর্থতা ইতোমধ্যে আমি জয় করেছি। 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে