আপডেট : ১৮ মার্চ, ২০১৬ ১৪:৫৬

নেতিবাচক চরিত্রেও সফল যারা

বিনোদন ডেস্ক
নেতিবাচক চরিত্রেও সফল যারা

গুণী অভিনয়শিল্পীর কোনো নির্ধারিত চরিত্র নেই। তাই ভালো অভিনয়শিল্পী হওয়ার জন্য যে কোনো চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করা জরুরি। তা ছাড়া একাধিক চরিত্রে অভিনয় অভিজ্ঞতা নিজের মানসিক শক্তি বহু গুণে বাড়িয়ে দেয়।

বলিউডের অনেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী রয়েছেন যারা নায়িকা চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি নেতিবাচক চরিত্রেও অভিনয় করেছেন। নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে নিজের জাত চিনিয়ে দিয়েছেন তারা। নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেও সাফল্য পেয়েছেন এমন অভিনেত্রীদের নিয়ে সাজানো হয়েছে এই প্রতিবেদন।

কাজল : নায়িকা হিসেবে বলিউড সিনেমায় নিজেকে অন্যমাত্রায় নিয়ে গেছেন অভিনেত্রী কাজল। ১৯৯২ সালে ‘বেখুদি’ সিনেমায় ‘রাধিকা’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় এই তারকার। কাজল অধিকাংশ সিনেমায় নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করলেও ১৯৯৭ সালে রাজীব রায় পরিচালিত গুপ্ত সিনেমায় নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। এ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ওই বছর সেরা নেতিবাচক অভিনয়শিল্পী হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার লাভ করেন। গুপ্ত সিনেমায় কাজলের সহশিল্পী ছিলেন মনীষা কৈরালা এবং ববি দেওল।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া : ২০০৩ সালে ‘দ্য হিরো : লাভ স্টোরি অব স্পাই’ সিনেমায় পার্শ্বচরিত্রের মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক ঘটে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার। কারণ ওই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে ছিলেন প্রীতি জিনতা এবং সানি দেওল। তবে অভিনয়ে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য পরের বছর ‘আন্দাজ’ সিনেমায় ডাক পান তিনি। এতে তার সহশিল্পী ছিলেন লারা দত্ত এবং অক্ষয় কুমার। এরপর বিভিন্ন সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যায় এই অভিনেত্রীকে। তবে তিনি যে শুধু নায়িকা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তা নয়। বেশ কিছু সিনেমায় নেতিবাচক চরিত্রেও অভিনয় করে নিজের অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। ২০০৪ সালে ‘আইত্রাজ’ সিনেমায় নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে জিতে নেন ফিল্মফেয়ার পুরস্কার।

ঊর্মিলা : এক সাথে মারাঠি, হিন্দি, তেলেগু, তামিল, মালায়ালাম সিনেমায় অভিনয় করে নিজেকে অনেক আগেই অভিনেত্রী হিসেবে প্রমাণ করেন ঊর্মিলা মাথনকর। তবে নেতিবাচক চরিত্রে এই অভিনেত্রী নিজের পারদর্শিতার প্রমাণ দিয়েছিলেন ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত রোমান্টিক থ্রিলার সিনেমা ‘পেয়ার তুনে কিয়া কিয়া’ সিনেমায়। ঊর্মিলার অভিনয় প্রশংসায় সে বছর সুপার ডুপার হিট হওয়া এই সিনেমায় নেতিবাচক চরিত্রে সাফল্যের ফলস্বরূপ ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। সিনেমাটিতে তার সহশিল্পী ছিলেন ফারদিন খান এবং সোনালি খুলকারনি।

বিদ্যাবালান : কলকাতার অন্যতম পরিচালক গৌতম হালদারের সিনেমা ‘ভাল থেকো’র মাধ্যমে ২০০৩ সালে পরিপূর্ণ অভিনেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন বিদ্যা। এরপর শুধু কলকাতা নয় বোম্বে কিংবা মাদ্রাজেও বিদ্যার পদচারণা চোখে পড়ে। বলিউডে অভিষেকের কয়েক বছরের মধ্যেই ২০০৭ সালে ‘বুলবুলাইয়া’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জেতেন তিনি। তবে শুধু নায়িকার চরিত্রে নয় ২০১০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ইশকিয়া’ সিনেমায় নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনয়শিল্পীর পুরস্কার ঘরে তুলেন এই অভিনেত্রী। সিনেমাটি পরিচালনা করেছিলেন অভিষেক চৌবে।

কঙ্কনা সেন : হিন্দি, বাংলা কখনো ইংরেজি কিংবা তেলেগু ভাষার সিনেমাতে সমান পদচারণা কঙ্কনার। তবে অধিকাংশ সিনেমাতেই তাকে দেখা যায় মজার মজার সব চরিত্রে। কিন্তু সবখানেই নিজের জাত চিনিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তাই সবকিছু উতরে কঙ্কনা হয়ে উঠেছেন অনবদ্য অভিনেত্রী, দর্শকের প্রিয় মুখ। ২০০১ সালে বাংলা চলচ্চিত্র ‘এক যে আছে কন্যা’ সিনেমার মাধ্যমে কঙ্কনার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার।

পরের বছর বাংলা ‘তিতলি’ এবং ইংরেজি ‘মি অ্যান্ড মিসেস লয়ার’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের বিশেষ নজরে আসেন তিনি। তবে তাকে নেগেটিভ চরিত্রে প্রথম দেখা যায় ২০১৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সুপারন্যাচারাল থ্রিলার সিনেমা ‘এক থি দেওয়ান’ সিনেমায়। কিছু সিকোয়েন্সে দেখা গেলেও অল্পতেই বাজিমাত করেন তিনি। সে বছর মনোনীত হয়েছিলেন নেতিবাচক শাখায় সেরা অভিনয়শিল্পী হিসেবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম

উপরে