আপডেট : ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১২:১৫

ঠোঙ্গার ব্যবসায়ী থেকে কোটিপতি!

বিডিটাইমস ডেস্ক
ঠোঙ্গার ব্যবসায়ী থেকে কোটিপতি!

'ব্যবসাবিমুখ ' বাঙালি হয়েও আর পাঁচজনের থেকে তিনি ব্যতিক্রম৷ পশ্চিমবঙ্গের এসএসএস এন্টারপ্রাইজেস -এর কর্ণধার তাপসী ভট্টাচার্য৷ ব্যবসায়িক জীবন শুরু করেছিলেন শূন্য হাতে৷ ব্যবসায় হাতেখড়ি হয় ঠোঙা বানিয়ে৷ নিজের চেষ্টায় তাপসী এখন কোটিপতি ব্যবসায়ী৷

ভারতের বিভিন্ন সরকারি জল প্রকল্পে লিকুইড ক্লোরিন, পলি-অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড এবং স্টেবল ব্লিচিং পাউডার সরবরাহের ব্যবসায় তাঁর একচেটিয়া দখলদারি৷ জল প্রকল্প নির্মাণ এবং পরিচালনার দায়িত্বও দক্ষ হাতে সামলান৷ ডিটারজেন্ট তৈরির কারখানাও গড়ে তুলেছেন৷ একটি অ্যালার্ম প্রস্তুত কারখানা গড়ার কাজেও হাত দিয়েছেন৷ নিতান্ত দরিদ্র পরিবারে জন্ম তাপসীর৷ বাবা ছিলেন স্বাধীনতাসংগ্রামী৷ অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির সমর্থক৷

তাপসী বলেন, 'ছোটবেলা কেটেছে রেশনের চাল খেয়ে৷ সব দিন খাবার জুটত না৷ মা আগে দাদাকে ভাত খেতে দিতেন৷ যেটা পড়ে থাকত, বোনেরা পেত৷ সংসার চালানোর জন্য মা বাড়িতে বসে রুমাল সেলাই করতেন৷ আমিও মাকে সাহায্য করতাম৷ একদিন মাকে বললাম, ঠোঙা বানিয়ে বিক্রি করলে কেমন হয় ? তখন বয়স ৭-৮ বছর হবে৷ লোকের বাড়ি থেকে খবরের কাগজ কিনে আনতাম৷ ঠোঙা বানিয়ে দোকানে দোকানে বিক্রি করতাম৷ ফেরার পথে কেলেদার গমকল থেকে তলার আটা কুড়িয়ে আনতাম৷ তা দিয়ে মা আটার গোলা বানিয়ে দিতেন৷ সেটাই আমরা তৃন্তি করে খেতাম৷' সেখানেই থেমে থাকেননি তাপসী৷ মাত্র ন'বছর বয়সে রুমাল সাপ্লাইয়ের ব্যবসা শুরু করেন৷ স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে রুমালের অর্ডার ধরতেন৷ তারপর এলাকার লোককে দিয়ে রুমাল সেলাই করিয়ে সাপ্লাই দিতেন৷ এরই মধ্যে চলত পড়াশোনা৷ তাপসী বলছেন, 'নবম শ্রেণিতে যখন পড়ি, তখন একদিন বাবা আমায় বললেন, আর পড়াশোনা করতে হবে না৷ ভেঙে পড়লেও হাল ছাড়িনি৷ টিফিন নিয়ে স্কুলে যেতে পারতাম না৷ ছেঁড়া স্কার্ট পরে স্কুলে যেতাম৷ ফি দিতে না পারায় পরীক্ষার ফল বেরনোর পর মার্কশিট আনতে যেতে পারতাম না৷ তা সত্ত্বেও আমি বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে বিএ অনার্স পাশ করেছি৷ এমএ পাশ করেছি৷'

এরপর মাসে ৪০০ টাকার একটি চাকরিতে ঢোকেন৷ মাস দু'য়েকের মধ্যেই চাকরি ছেড়ে ফের ব্যবসা আরম্ভ করেন৷ প্রথমে শ্রীরামপুর মিউনিসিপ্যালিটিতে স্কেল, রাবার, পেন, কালি সরবরাহের ব্যবসা শুরু করেন৷ পুঁজি জুগিয়েছিলেন পুর চেয়ারম্যান৷ সেই ঋণ এখনও ভোলেননি তাপসী৷ বলেন, 'তিনি আমার দুরবস্থা দেখে ৩০০ টাকা দিয়েছিলেন৷ তা দিয়েই আমি ব্যবসা শুরু করি৷ তার পর ইউনাইটেড ব্যাঙ্কের হাতিবাগান শাখা থেকে প্রথম এক লক্ষ টাকা ঋণ পাই৷' বেশ কিছু দিন পিএইচই দপ্তরে সাবমার্সিবল পাম্প সরবরাহের কাজ করেছেন৷ তবে তা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি৷ ১৯৯২ সালে প্রথম কেএমডব্লিুউএসএ-র কাছ থেকে ক্লোরিন সরবরাহের বরাত পান৷ তারপর থেকে আর তাঁকে ফিরে তাকাতে হয়নি৷ ১৯৯৮ সালে মানিকতলা শিল্পতালুকে নিজের হাতে একটি ডিটারজেন্ট তৈরির কারখানা গড়ে তোলেন৷ সব মিলিয়ে এখন বছরে প্রায় ২৫ কোটি টাকার ব্যবসা৷ ৫০ জনের বেশি কর্মচারী তাঁর সংস্থায় কাজ করেন৷ তবু আজও নতুন করে স্বপ্ন দেখেন তিনি৷ তাঁর কথায়, 'আমি চাই, বাঙালি তরুণীরা নিজের পায়ে দাঁড়াক৷ না-হলে মহিলাদের দুর্দশা কোনও দিন ঘুচবে না৷'

উপরে