আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৬:৩০

প্রেমের মাঝেও পরকীয়া! এড়িয়ে চলুন ১৪ টি বিষয়

বিডিটাইমস ডেস্ক
প্রেমের মাঝেও পরকীয়া! এড়িয়ে চলুন ১৪ টি বিষয়

স্বামী কিংবা স্ত্রী অন্যের সঙ্গে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়ছে। ভাঙছে অনেক সুখের সংসার। কিন্তু সাবধান? পরকীয়ায় জড়াতে পারে আপনার ভালোবাসার মানুষটিও। আপনার প্রেমেও হানা দিতে পারে পরকীয়া।

তাই ঝামেলামুক্ত প্রেম চাইলে মানে চলুন কয়েকটি বিষয়-

১. ঝগড়াটে মনোভব দিয়ে কথা শুরু: আপনার ভালবাসার মানুষটির কোন ভুল খুঁজে পেয়েছেন আর সঙ্গে সঙ্গেই আপনার মেজাজ খারাপ হয়ে গিয়েছে। এমন সময় আপনার মানুষটি আপনার সামনে আসলো আর আপনি নগদে চটে গিয়ে তার সাথে ঝগড়া শুরু করে দিলেন।

সমাধান: আপনার নিজের মানুষটি কিন্তু জানতোনা যে আপনি রেগে আছেন আর আপনিও জানতেন না তার তখনকার মনের অবস্থা। তাই এভাবে মেজাজ গরম না করে ঠাণ্ডা মাথায় কথা বলা শুরু করুন এতে আপনাদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ কম সৃষ্টি হবে।

২. একে অপরকে দোষারপ: প্রেমিক প্রেমিকার মাঝে এমন অনেক সময় আসে যখন আপনারা অনবরত একে অপরকে দোষারোপ করতে থাকে। তখন বুঝতে হবে আপনাদের সম্পর্কটা গভীর সংকটের দিকে যাচ্ছে। এই সময়গুলোতে কেউ কাউকে ছাড় দেয় না। যাচাই করে দেখেছিলেন কে সঠিক?

সমাধান: দোষারপ করার আগে নিজের ভুল গুলি দেখুন, দেখুন কে সঠিক আর তারপর নাহয় দোষারোপ করার দিকে এগিয়ে যান, তবে তা হতে হবে ঠাণ্ডা মাথায়। মাথা গরম করে নয়।

৩. একে অপরের কথা মন দিয়ে না শোনা: যখন সে বলতে শুরু করে তখন আপনি তা না শুনেই ওই কথাগুলোর বিপরীতে যুক্তি দাঁড় করাতে থাকেন মনে মনে। এতে মূলত আপনি আপনার কাছের মানুষটির সব কথা শুনছেন না।  এতে আপনি মিস করতে পারেন অনেক জরুরি কথা।

সমাধান: সে যখন কথা বলবে, চেষ্টা করুন মাথার ভিতর থেকে সব ঝেড়ে ফেলে শুধু তার কথা শোনার। এতে আপনি আরো ভাল করে বুঝতে পারবেন তাকে।

৪. নিজেকে সঠিক প্রমানের চেষ্টা: কিছু ক্ষেত্রে আপনি সবসময় নিজেকে সঠিক প্রমাণ করতে চান। আর এই প্রমাণ করতে গিয়ে জড়ান কলহে। এতে আপনার ভালবাসার সম্পর্কে চলে আসে তিক্ততা।

সমাধান: নিজেকে  যাচাই করুন আপনি সঠিক না ভুল। যদি ভুল হোন তাহলে এখুনি থেমে যান আর যদি সঠিক হন তাহলে ঠাণ্ডা মাথায় সুন্দর করে যুক্তি উপস্থাপন করুন।

৫. একগুঁয়েমিতা: যখন আপনি একগুঁয়েমি শুরু করবেন তখন আপনি শুধু আপনাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন আর কোন কিছু কে না।

সমাধান: একগুঁয়েমিতা ছাড়ুন আর সব কিছু কে বোঝার চেষ্টা করুন। নিজেকে সবসময় প্রধান্য দিতে থাকলে অনেক কিছুই হারাবার সম্ভাবনা থাকে।

৬. অকারনে ঝগড়া: মনে করে দেখুনতো এমন অনেক সময় কি এসেছিল যখন আপনি আর তিনি বসে আনন্দের সময় কাটাচ্ছেন এবং হঠাৎ করে অন্যকোন বিষয় নিয়ে ঝগড়া শুরু করে দিলেন যা হয়ত আজ বলার কোন কারন নেই।

সমাধান: যখন একসাথে থাকবেন তখন চেষ্টা করবেন নিজেকে নিয়ে থাকার। বাইরের কোন বিষয় নিয়ে আলাপ না করাই ভাল।

৭. অতিরিক্ত সাহায্য করার প্রবণতা: আপনি সবসময় চাইবেন যে আপনার সঙ্গীর সমস্যা গুলো জলদি সুরাহা হোক। অনেক সময় হয়ত আপনি তার জন্য অনেক বেশি করে ফেলেন। এ জিনিসটা হয়ত তার পছন্দ না ও হতে পারে।

সমাধান: তাকে তার মত করে করতে দিন। না পারলে তখন সাহায্য করুন। মনে রাখবেন যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি নিজের মুখে আপনার কাছে সাহায্য চাইবেন না ততোক্ষণ পর্যন্ত নিজে তাকে সাহায্য করবেন না। তবে অবশ্যই মানুষিক ভাবে তার সাথেই থাকুন।

৮. সঙ্গীর বেদানার্ত দিনগুলোতে আরও দুঃখ দেয়া: মনে করুন আপনার সঙ্গিটি কোন কারণে দুঃখে আছে এসময় হয়ত আপনি ভুল করে তাকে আরও দুঃখ দিয়ে ফেললেন। হয়তো খোচা দিয়ে এমন কোন কথা বললেন সে তা নিতে পারলো না। বিষয়টি কিন্তু সম্পর্ককে ভয়ানকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

সমাধান: চেষ্টা করুন তার দুঃখের সময় তাকে কিছু আনন্দ দেবার। তবে তা হবে পরিমিত। তার কষ্ট বাড়িয়ে দেয় এমন কিছু থেকে তাকে দুরে রাখতে ঘুরতে যেতে পারেন। সিনেমা দেখতে পারেন একত্রে।

৯. অতিরিক্ত প্রত্যাশা:  কে না আশা করবে তার পাশের মানুষটি তার মনের কথা বুঝুক। আর যখন এর বিপরীত কিছু হয় তখনি সম্পর্কে আসে বিপর্যয়। কিন্তু বুঝতে হবে প্রত্যেকটা মানুষই আলাদা। প্রত্যেকেরেই কিছু না কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। আবার প্রত্যেকের ধারণ ক্ষমতাও আলাদা।

সমাধান:  ধারণক্ষমতানুযায়ি প্রত্যাশা করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।আমরা কেউ এ অন্তর্যামী নই তাই বেশী আশা করা উচিত নয়। তাই চেষ্টা করুন যতটা সম্ভব তাকে বোঝানোর যে আপনি কি চান।

১০. কথা বলার এপ্রোচে মার্জিত ভাব না থাকা: কথা বলার ভঙ্গীর মধ্যে মার্জিতভাব না থাকলে আপনি সঙ্গীর কাছে ‘ডেঞ্জারেস এংরি ম্যন’ হিসেবে পরিচিত হবেন। উত্তেজিত হয়ে কথা বলার সময় হাত পা নাচানো হয়ে উঠতে পারে ঝগড়ার কারন।

সমাধান: উত্তেজিত না অয়ে শান্ত থাকার চেষ্টা করবেন।

১১. অতিরিক্ত আবেগ: অনেক সময় অতিরিক্ত আবেগে কথা বলার সময় আমরা নিয়ন্ত্রন হারিয়ে অনেক এমন কথা বলে ফেলি যা তাকে কষ্ট দিতে পারে।

সমাধান: নিজের আবেগ কে নিয়ন্ত্রন করুন।

১২. ব্যাক্তিগত ব্যাপারে নাক গলানোঃ প্রত্যেকেরই একটা সতন্ত্র জগত থাকবেই। আপনার সঙ্গীর ব্যাক্তিগত ব্যাপারে নাক গলানো ঠিক নয়। আপনি তাকে ভালবাসেন মানে এই নয় যে আপনি তাকে কিনে নিয়েছেন। ভেবে দেখুন তো তিনি এমন করলে আপনার কেমন লাগত?

সমাধান: নিজের মানসিকতা বড় করুন এবং তাকে কিছুটা ছাড় দিন।

১৩. সঙ্গীর ফেসবুক ও মোবাইল নিয়ে মাথা ঘামানো: আপনার সঙ্গী ফেসবুক বা অন্য যোগাযোগ মাধ্যমে কার সাথে কথা বলে তা নিয়ে আপনার বেশী মাথা ব্যাথা? তবে জেনে রাখুন আপনার সম্পর্কে আসতে যাচ্ছে বিপর্যয়।

সমাধান: মন বড় করুন আর চেষ্টা করুন তাকে কম সন্দেহ করতে।

১৪. সন্দেহঃ আপনার সঙ্গীর ফোন ওয়েটিং, আপনার ফোন ধরছে না, আপনাকে কম সময় দিচ্ছে আর এসব দেখে আপনার মনে আসতে পারে যে সে আপনার পিঠপিছে কিছু করছে। আর এ সন্দেহের কারনেই শেষ হতে পারে আপনার সম্পর্ক।

সমাধান: সন্দেহ করার আগে যাচাই করে নিন যে সন্দেহ করবেন কি না। সম্ভাব্য প্রমাণ যোগার করুন এবং তারপর তাকে সরাসরি বলুন। আবার সঙ্গী যাতে কষ্ট পায়, যেমন তাকে সামনে রেখে অনবরত ফেসবুকে চাট করা, তার ফোন রিসিভ না করে অন্যত্র ঘন্টার পর ঘণ্টা  ফোনে কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসপি

উপরে