আপডেট : ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৬:৫৫

রানী ক্লিওপেট্রার রূপের রহস্য!

বিডিটাইমস ডেস্ক
রানী ক্লিওপেট্রার রূপের রহস্য!

মিশরের রানী ক্লিওপেট্রার সময়ে তার নাম শুনলে বুকের বাম পাশ চিনচিন করতো না এমন পুরুষ খোঁজে পাওয়াই ভার ছিলো। এতো গেল সাধারণ মানুষের কথা, তৎকালীন অনেক রাজা-বাদশারও শ্যেন নজর ছিলো মিশরের প্রতি। তাদের এমন নজরের অন্যতম কারণ ছিল রাণী ক্লিওপেট্রাকেও দখল করা। মিশর রাণীর ভূবনমোহিনী রূপের কথা দু’হাজার বছর পাড়ি দিয়ে আজো মানুষের মুখে মুখে।

তিনি ছিলেন মিশরের শেষ রানী। ৫১ থেকে ৩০ খ্রিষ্টপূর্ব পর্যন্ত রাজত্ব করেছিলেন এই অপরূপ সুন্দরী। খ্রিষ্টপূর্ব ৬৯ সালে তিনি জন্মগ্রহন করেন। রোমান সাম্রাজ্যের কাছে মিশরের পরাজয় হলে মাত্র ৩৯ বছর বয়সে কোবরা সাপের দংশণে তিনি আত্মহত্যা করেন!

জগতদ্বিখ্যাত রূপসী ক্লিওপেট্রা জ্ঞানী ও বুদ্ধিমতীও ছিলেন। তার অসংখ্য বিদ্যার মাঝে একটি ছিল ভেষজ বিদ্যা। এই ভেষজ জ্ঞান তিনি ব্যবহার করতেন তার রূপচর্চাতেও। তার আবিষ্কৃত সৌন্দর্য চর্চার নানান পদ্ধতি আজো ব্যবহৃত হয়, যেমন- ফেস মাস্ক, চুলে অয়েল ম্যাসাজ, ত্বকে স্ক্রাবিং ইত্যাদি আরও কত কি। মুখের মাখার ক্রিমও তিনিই প্রথম তৈরি করেন। আজকের আয়োজনে রইলো রানী ক্লিওপেট্রার সমস্ত ‘বিউটি সিক্রেট’!

এখনকার ফেস মাস্কের ধারণার প্রবর্তকও স্বয়ং ক্লিওপেট্রা। তার আবিষ্কৃত প্রথম ফেস মাস্কের উপাদান ছিলো মধু, ডিমের সাদা অংশ এবং ‘গাধার খুর’ নামে এক প্রকার গাছের পাতার রস। যুগে যুগে ক্লিওপেট্রার রূপ রহস্য নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। হয়েছে এই ফেস মাস্ক নিয়েও। আসুন আমরা তার রূপের কিছু রহস্যকে জানি-

দুধ ও মধু দিয়ে গোসল

ক্লিওপেট্রার একটি বিশেষ রূপ রহস্য ছিলো গাধার দুধ ও খাঁটি মধুর সঙ্গে বাদাম তেল মিশিয়ে গোসল। তিনি যখনই দূরে কোথাও যেতেন, সঙ্গে ২টি গাধা নিয়ে যেতেন!

গোসল করার প্রয়োজন হলে সমস্যায় পরবেন এটা ভেবেই তার এমন অদ্ভুত খেয়াল।

এখন তো আর গাধার দুধ দিয়ে গোসল করা সম্ভব না। ক্লিওপেট্রার এই রূপ রহস্যটি অনুসরণ করতে চাইলে আপনি গরুর খাঁটি দুধ, মধু ও বাদাম তেল/অলিভ অয়েল দিয়ে মিশ্রণ বানিয়ে আপনার গোসলের পানির সাথে মিশিয়ে দিতে পারেন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক কোমল ও সুন্দর হয়।

ক্লিওপেট্রার বডি স্ক্রাব

দুধ ও মধু দিয়ে গোসলের সময়ে ক্লিওপেট্রার দাসীরা তার শরীরের একটি বিশেষ ধরণের স্ক্রাব ব্যবহার করতো। স্ক্রাব বানাতে প্রয়োজন ২ টেবিল চামচ সামুদ্রিক লবন ও ৩ টেবিল চামচ ক্রিম(প্রাকৃতিক)।
লবন ও ক্রিম এক সাথে পুরো শরীরের ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ম্যাসাজ করতে হবে। পুরো শরীরের ম্যাসাজ করার পর ৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই স্ক্রাবিং ব্যবহার করলে শরীরের মরা চামড়া উঠে যায় ও ত্বক নরম হয়।

ক্লিওপেট্রার ফেস ক্রিম

ক্লিওপেট্রা বিশেষ কিছু উপাদান দিয়ে মুখের জন্য ক্রিম বানাতেন। তার ফেস ক্রিম বানাতে লাগতো ২টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জুস, ৪ ফোঁটা গোলাপের তেল, ১ টেবিল চামচ বাদামের তেল, মৌচাকের মোম। মোম ও বাদাম তেল হাল্কা গরম করে গলিয়ে নেয়া হতো। এরপর একে একে বাকি উপকরনগুলো দেয়া হতো। মোম বেশি দিলে ক্রিম ঘন হয় আর কম দিলে পাতলা হয়। এই ক্রিমটি ত্বকের যত্নে একটি অসাধারণ উপকরণ। একবার বানিয়ে ফ্রিজে রেখে দিলে এক সপ্তাহ ব্যবহার করা যায়।

ক্লিওপেট্রার শ্যাম্পু

কথিত আছে যে, রানী ক্লিওপেট্রার চুল ছিলো অসাধারণ! তার চুলের শ্যাম্পু গুলোর মধ্যে একটি ছিলো ডিম। ডিমের সাদা অংশ চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগাতেন। এরপর ধুয়ে নিতেন পানি দিয়ে।

ক্লিওপেট্রার হেয়ার ট্রিটমেন্ট

এখনকার সময়ে চুলে গরম তেলের যেই ট্রিটমেন্ট করা হয় সেটার প্রচলক ছিলেন ক্লিওপেট্রা। তিনি ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল ও ২ টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল এক সাথে মিশিয়ে হাল্কা গরম করে নিতেন। এরপর সেটা মাথার তালুতে ও চুলে ভালো করে ম্যাসাজ করে লাগাতেন। এরপর একটি কাপড় দিয়ে পুরো মাথা পেচিয়ে রাখতেন ৩০ মিনিটের বেশি সময় ধরে। এই হেয়ার ট্রিটমেন্টে চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ে এবং চুল কোমল হয়।

ক্লিওপেট্রা ছিলেন একজন রহস্যময়ী নারী। তার জীবনের প্রতিটি ঘটনার মতো তার রূপেরও সব রহস্য উৎঘাটন করা যায়নি। তিনি নিজেকে এবং নিজের রূপকে খুবই ভালো বাসতেন। এই জন্যই তিনি নিজের ত্বক ও চুলের যত্নে অনেক পদ্ধতি আবিষ্কার করে গেছেন। সেই পদ্ধতি গুলোই রূপের যত্নে আজ অবধি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে